১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আমরা যা করি পরিকল্পনা করেই করি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করেছি আমরা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী করব ২০২১ সালে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা যা করি পরিকল্পনা করেই করি।

রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিসিসিআই আয়োজিত বাণিজ্য বিষয়ক সম্মেলন ‘ডেসটিনেশন বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা ইপিজেড তৈরি করি। উত্তরা ইপিজেডসহ এগুলো সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। কেবল কৃষি নয়, শিল্পায়ন যাতে হয় সেদিকেও আমরা মনোযোগ দিয়েছি। শুধু শহর নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির দিকেও আমরা নজর দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ডেল্টা প্লান করেছি। ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে সেই রূপরেখাও আমরা করেছি। এছাড়া ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর একটি। ২০৪১ সালে আমরা ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবো।

শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যাতে হয় সেইদিকেও আমরা মনোযোগী। ব্যবসা-বাণিজ্য গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। গ্রামের তৃণমূল মানুষটা যেন আর্থিকভাবে সক্ষম হয়। শুধু নিজের দেশ না আঞ্চলিক-উপ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও মাথায় রেখেছি আমরা।

তিনি বলেন, যখন সরকার গঠন করি তখন ছিল বিশ্বব্যাপী মন্দা। আমরা সেই মন্দা কাটিয়ে ৭.৬ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আগামীতে ৮.২৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী আমরা বিশেষ ১০০ টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এটা বেসরকারিখাতের জন্য।

যে জায়গা চাইবেন সে জায়গা দেওয়া হবে। এতে আমার লাভ কী? আমার লাভ হলো দেশের মানুষের কর্মসংস্থান হবে, চাকরির সুযোগ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সবদিক থেকে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও হাওয়া ভবনকে খুশি না করলে তখন ব্যবসা পাওয়া যেত না। আট বছর পরে সরকার গঠন করে দেখলাম সবদিক থেকে দেশ পিছিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিদুৎ উৎপাদন কমে গেছে, সাক্ষরতার হার কমে গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা, চাঁদাবাজিতে দেশ ভরে গেছে। সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে পরিকল্পিতভাবে দেশটা যাতে এগোতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেছি।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কৃষির ওপর নির্ভর না করে দেশে শিল্পায়ন যাতে হয়, সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিয়েছি। খাদ্যের যোগানে কৃষির প্রয়োজন রয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ বেসরকারি খাতই পারে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে, উন্নত করতে।

শিল্পকে বহুমুখী করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে দেখতে হবে কোন অঞ্চলে কোন জিনিসের উৎপাদন বেশি হয় এবং দেশে বিদেশে তার কেমন চাহিদা রয়েছে। সেটাকে বিবেচনায় নিয়েই আমাদের শিল্পায়ন করতে হবে, উৎপাদন করতে হবে এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে হবে। তাহলেই আমাদের শিল্পের বিকাশ হবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যকে সম্প্রসারিত হবে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহযোগিতা দরকার। আমি ব্যবসা বুঝি না। আমার কাজ ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া, সম্ভাবনাগুলোকে জাগিয়ে দেয়া।

তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যাতে হয় সেইদিকেও আমরা মনোযোগী। ব্যবসা-বাণিজ্য গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। গ্রামের তৃণমূল মানুষটা যেন আর্থিকভাবে সক্ষম হয়। শুধু নিজের দেশ না আঞ্চলিক-উপ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও মাথায় রেখেছি আমরা।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আমরা যা করি পরিকল্পনা করেই করি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০২:৩৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করেছি আমরা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী করব ২০২১ সালে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আমরা যা করি পরিকল্পনা করেই করি।

রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিসিসিআই আয়োজিত বাণিজ্য বিষয়ক সম্মেলন ‘ডেসটিনেশন বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা ইপিজেড তৈরি করি। উত্তরা ইপিজেডসহ এগুলো সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ। কেবল কৃষি নয়, শিল্পায়ন যাতে হয় সেদিকেও আমরা মনোযোগ দিয়েছি। শুধু শহর নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির দিকেও আমরা নজর দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ডেল্টা প্লান করেছি। ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে সেই রূপরেখাও আমরা করেছি। এছাড়া ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর একটি। ২০৪১ সালে আমরা ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবো।

শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যাতে হয় সেইদিকেও আমরা মনোযোগী। ব্যবসা-বাণিজ্য গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। গ্রামের তৃণমূল মানুষটা যেন আর্থিকভাবে সক্ষম হয়। শুধু নিজের দেশ না আঞ্চলিক-উপ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও মাথায় রেখেছি আমরা।

তিনি বলেন, যখন সরকার গঠন করি তখন ছিল বিশ্বব্যাপী মন্দা। আমরা সেই মন্দা কাটিয়ে ৭.৬ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আগামীতে ৮.২৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী আমরা বিশেষ ১০০ টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এটা বেসরকারিখাতের জন্য।

যে জায়গা চাইবেন সে জায়গা দেওয়া হবে। এতে আমার লাভ কী? আমার লাভ হলো দেশের মানুষের কর্মসংস্থান হবে, চাকরির সুযোগ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সবদিক থেকে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও হাওয়া ভবনকে খুশি না করলে তখন ব্যবসা পাওয়া যেত না। আট বছর পরে সরকার গঠন করে দেখলাম সবদিক থেকে দেশ পিছিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিদুৎ উৎপাদন কমে গেছে, সাক্ষরতার হার কমে গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা, চাঁদাবাজিতে দেশ ভরে গেছে। সেই অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে পরিকল্পিতভাবে দেশটা যাতে এগোতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেছি।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কৃষির ওপর নির্ভর না করে দেশে শিল্পায়ন যাতে হয়, সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিয়েছি। খাদ্যের যোগানে কৃষির প্রয়োজন রয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ বেসরকারি খাতই পারে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে, উন্নত করতে।

শিল্পকে বহুমুখী করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে দেখতে হবে কোন অঞ্চলে কোন জিনিসের উৎপাদন বেশি হয় এবং দেশে বিদেশে তার কেমন চাহিদা রয়েছে। সেটাকে বিবেচনায় নিয়েই আমাদের শিল্পায়ন করতে হবে, উৎপাদন করতে হবে এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে হবে। তাহলেই আমাদের শিল্পের বিকাশ হবে।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যকে সম্প্রসারিত হবে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহযোগিতা দরকার। আমি ব্যবসা বুঝি না। আমার কাজ ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া, সম্ভাবনাগুলোকে জাগিয়ে দেয়া।

তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যাতে হয় সেইদিকেও আমরা মনোযোগী। ব্যবসা-বাণিজ্য গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। গ্রামের তৃণমূল মানুষটা যেন আর্থিকভাবে সক্ষম হয়। শুধু নিজের দেশ না আঞ্চলিক-উপ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও মাথায় রেখেছি আমরা।

বিবি/জেজে