সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দস্যুদের আত্মসমর্পণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ছয়টি বাহিনীও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অস্ত্রসমর্পণ করার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ছয় বাহিনীর ৫৪ দস্যুর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সকালে ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় সুন্দরবনকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় যেতে হয়েছে। কিন্তু র্যাবের প্রচেষ্টায় সুন্দরবনের অনেক দস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। তাই আজ আমরা এই বনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করতে পারি। আমি এ মুহূর্তে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করলাম।
সুন্দরবনে শান্তি ফেরানোয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ সময় ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাঘেরহাটে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আনোয়ারুল বাহিনীর আট সদস্য, তৈয়াবুর বাহিনীর পাঁচ, শরিফ বাহিনীর ১৭, ছাত্তার বাহিনীর ১২, সিদ্দিক বাহিনীর সাত ও আল আমিন বাহিনীর পাঁচ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। তারা ৫৮টি অস্ত্র ও তিন হাজার ৩৫১টি গোলাবারুদ জমা দেয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে দস্যুরা।
প্রায় ১০ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার নিয়ে গঠিত বিশ্বের একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনটি এক সময় দাপিয়ে বেড়ানো ৩২ বাহিনীর ৩৩০ দস্যু আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।
সুন্দরবন বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী গঙ্গা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত। এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দুই জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে বিস্তৃত।
বিবি/জেজে























