কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৫ আসন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি। এটি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত জাতীয় সংসদের ২৫৩নং আসন।
কুমিল্লা-৫ আসনে প্রায় তিন লাখ ৬৮ হাজার ৫শ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৮৭ হাজার ২শ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮১ হাজার ৩শ’ জন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদকে ডিগবাজী দিয়ে কুমিল্লা-৫ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইউনুস। অপর দিকে শক্তিশালী দল আওয়ামীলীগ থেকে নৌকার প্রতীক মনোনীত প্রার্থী সাবেক আইন মন্ত্রী এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এমপি।তিনিও নৌকার মানোয়ন প্রত্যাশী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আওয়ামীলীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ ও বুড়িচং উপজেলার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন স্বপন সহ অন্যান্য প্রার্থীকে চমক দেখিয়ে নৌকার প্রতীক নিয়ে এসেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, আওয়ামীলীগ দল বুড়িচং -ব্রাম্মণপাড়া নির্বাচনীয় কেন্দ্র কমিটি এবং বিভিন্ন স্কুল কলেজে মা-সমাবেশ, গুণীজন সম্মাননা, খেলাধুলা সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে বিএনপির দল কোনো কেন্দ্র কমিটি ও নির্বাচনী সভা করতে দেখা যায়নি। এ দলটি মাঠে না থাকাতে তেমন নির্বাচনী আমেজ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিমত দিয়েছেন ভোটারা। তবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরে নির্বাচনী আমেজ দেখা যাবে। ভোটার আরও বলেন, আগের মতো প্রার্থীরা বাড়ীতে ভোট চাইতে আসেনা।
এই আসনের দুই দলের মনোনীত প্রার্থী দুজনেই হেভিওয়েট।
আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে পূর্বে অন্ত:কোন্দল থাকিলেও এখন আব্দুল মতিন খসরু মনোনীত হওয়ার পর সকল নেতাকে নির্বাচনী প্রচারনা কাজে এক সাথে দেখা যাচ্ছে।
আর এ দিকে বিএনপি দলের নেতাদের মধ্যে অন্ত:কোন্দল রয়েছে এবং অধ্যক্ষ ইউনুস মনোনীত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর এমনটা থাকবেনা বলে জানিয়েছে উপজেলার কিছু নেতা।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো: ইউনুছ এই আসন থেকে ২০০১ সালসহ চারবার নির্বাচিত হয়েছেন।অপরদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু । ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের আব্দুল মতিন খসরু। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচনে জয় পান বিএনপির মুজিবুর রহমান। একই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে আসন পুনরুদ্ধার করেন আবদুল মতিন খসরু। এরপর ২০০১ সালে জয়ে ফেরে বিএনপি। সবশেষ দুটি নির্বাচনে আসন দখলে রাখেন আওয়ামী লীগের আব্দুল মতিন খসরু।এ অবস্থায় একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় মাঠে তৎপরতা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপির তৎপরতা কিছু কম থাকলেও কৌশলী প্রচারণায় মাঠে আওয়ামী লীগ। তবে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, উন্নয়নের স্বার্থেই আবারো জয় পাবে নৌকার প্রার্থী।
কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন খসরু তিনি এই আসন থেকে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের স্বার্থেই আসনটি আমাদের দখলে থাকবে। আমি এই এলাকার ৮০-৯০ ভাগ রাস্তা পাকা করেছি। শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছি। এমন কোনো ঘর নেই যেখানে বিদ্যুৎ যায় নি। আমাদের দলের মধ্যে ঐক্য আছে, সৌহার্দ্য আছে।আগামীতে গ্যাস সংযোগ সহ এলাকাকে শহরের রূপে পরিনিত করবেন।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৫ আসনের বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইউনুস বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী এবং আমার স্ত্রীর দোয়া রয়েছে। তবে স্থানীয় নেতা কর্মী ও ভোটারের মতে আসন্ন জাতীয় একাদেশ সংসদ নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভোটের কঠোর লড়াই হবে
আব্দুল মতিন খসরু ও অধ্যক্ষ মো. ইউনুস এর মধ্যে।
নিচে নির্বাচিত তালিকা দেয়া হলঃ
১৯৭০:অ্যাডভোকেট আমির হোসেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১৯৭৩:অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১৯৭৯: প্রফেসর মফিজুল ইসলাম, স্বতন্ত্র
১৯৮৬: অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস,স্বতন্ত্র
১৯৮৮: অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস,জাতীয় পার্টি (এরশাদ )
১৯৯১: আবদুল মতিন খসরু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬: মজিবুর রহমান মজু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
জুন ১৯৯৬: আবদুল মতিন খসরু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২০০১: অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
২০০৮: আবদুল মতিন খসরু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
২০১৪: আবদুল মতিন খসরু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বিবি/ ইএম
















