ব্যাপক উৎসাহ ও ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাত বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধধর্মীয় পবিত্র তীর্থ প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি রাজবন বিহার ৭ম বারের মত ওয়াংসা গোঝার জ্ঞাতী মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সার্বজনীন ধর্মানুষ্ঠান। বংসা/ ওয়াংসা গোঝার জ্ঞাতী মিলন উদযাপন কমিটির আয়োজনে বুদ্ধ মূর্তি দান,সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান,হাজার বাতি দানসহ নানা বিধ দান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রথমে পুষ্পমাল্য অর্পনের মাধ্যেমে ভিক্ষু সংঘকে বরণ করা হয়। পরে উদ্বোধনী সংগীতের মধ্যে দিয়ে পঞ্চশীল প্রার্থনা পাঠ করেন নমিতা চাকমা। সাধারন সম্পাদক অনিল বিকাশ চাকমার উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য ও বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন উদযাপন কমিটির সভাপতি চাঁদ রায় ও উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা দয়াল কুমার চাকমা। অনুষ্ঠানের উৎসর্গ পর্ব পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ¯েœহ বিকাশ চাকমা।
ধর্মদেশনা প্রদান করেন রাঙামাটি রাজবন বিহরের আবাসিক প্রধান ও বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির, রাজবন বিহারের অন্যতম শ্রীমৎ জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির। এছাড়া ভিক্ষু সংঘের মধ্যে সমুন মহাস্থবির ও জিনপ্রিয় মহাস্থবির ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন। রাঙামাটি জেলার দূর-দূরান্ত থেকে বংসা/ ওয়াংসা গোঝার জ্ঞাতীর তিনশতাধিক পুণ্যার্থী অংশ গ্রহন করে। বছর শেষে নিজ আত্মীয়দের সাথে পুণ্যকাজে অংশ গ্রহণ করতে পেরে পুণ্যার্থীদের মাঝে দেখা যায় চাঞ্চল্য।
শ্রীমৎ জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির বলেন, এভাবে পুণ্যানুষ্ঠান করতে পারলে ভগবান বুদ্ধও খুশি হন। ভগবান বুদ্ধ ও পূজ্য বনভান্তে বলেছেন ‘সম্যক দৃষ্টিতে কথা বলতে পারলে সুখ লাভ হয়। শীল,সমাধি,প্রজ্ঞা শিক্ষা লাভ করতে হবে ইহকাল ও পরকাল জীবনে মঙ্গল লাভের হেতু উৎপন্ন হয়।জ্ঞান বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। ধর্মজ্ঞানের মাধ্যমে পালন করা হয় এবং ভাষা জ্ঞানের মাধ্যমে সব কিছু বুঝতে পারা বা উপলব্দি করা হয়। সেজন্য এভাবে ৭ বার পুণ্যাকাজ করার কারনে অতীতের এবং বর্তমানে জ্ঞাতীগণ অনেক পুণ্য লাভ করবে।
শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির বলেন বনভান্তের আদর্শে আমরা পুণ্যকাজ করে যাচ্ছি। চিত্ত এমন একটি যা চিত্তই কর্ম সম্পাদন করে। চিত্তই পাপ এবং পুণ্য কাজ সম্পাদন করে। আর এ চিত্তকে পরিপূর্ণ করতে পুণ্য কাজ করতে হবে। সেহেতু চিত্তকে সংযত ও উপযুক্ত করতে পুণ্যকাজ করা উত্তম মঙ্গল।
জানা যায়, অতীতে মাতৃ-পিতৃকুলের পরলোকগত জ্ঞাতীগণের উদ্দেশ্য পুণ্যদানের উদ্দেশ্য ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর হতে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে এ মিলনমেলার পুণ্যানুষ্ঠানটি আয়োজন করে আসছেন রাজবন বিহারের অন্যতম ভিক্ষু ও কাইন্দ্যা মুখ তপোবন অরণ্য কুটিরের বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জিন প্রিয় মহাস্থবির।
বিবি/ ইএম




















