দেশের পাঁচটি জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও তাদের পরিবারকে হুমকি দিয়ে উড়ো চিঠি পাঠিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিগুলো পেয়েছেন ফরিদপুর, মাদারীপুর,সিরাজগঞ্জ, বরগুনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকেরা। তারা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তারা চিঠিগুলো পেয়েছেন। চিঠিতে নাম-ঠিকানা নেই। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে প্রশাসকসহ তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্ণিং কর্মকর্তা উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে একটি চিঠি পেয়েছি, লাল কালি দিয়ে লেখা চিঠিতে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হুমকী দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, রাতে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোন মূল্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এর ব্যাত্তয় ঘটানো যাবেনা।
তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় আমি বা আমার টিমের কেউ ই বিচলিত নই। বরং যারা চিঠি পাঠিয়েছে তারাই ভীত, নইলে তো সামনে এসেই কথা বলতো।
এ প্রসঙ্গে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম শামীম হোসেন জানান, চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি উর্দ্ধতনদের জানানো হয়েছে। লাল কালির চিঠিতে পরিবারকেও হুমকী দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বরগুনা: উড়ো চিঠি পেয়েছেন বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কবির মাহমুদও। তার কাছে এই চিঠি এসে পৌঁছায় বৃহস্পতিবার।
কবির মাহমুদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ডাকযোগে একটি চিঠি আসে আমার নামে। পরে চিঠিটি খুলে দেখতে পাই, বরগুনার দুটি সংসদীয় আসনের নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে, আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি সাধনের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।’ তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি বলে সংবাদকর্মীদের জানান।
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘উড়ো চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই। পুলিশ তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বরগুনার আইনশৃঙ্খলার অবস্থা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক ভালো। নির্বাচনকে কেন্দ্র নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্যই এ ধরনের চিঠি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।’
সিরাজগঞ্জ: উড়ো চিঠি পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকাও। চিঠিতে তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসের ঠিকানায় ওই চিঠিটি আসে বলে তিনি জানান।
এ তথ্য নিশ্চিত করে কামরুন নাহার জানান, খাকি রঙের খামে এক পাতার এই চিঠিতে প্রেরকের নাম ঠিকানা নেই। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
কামরুন নাহার বলেন, ‘চিঠিতে বলা হয়েছে, আমার কর্মকাণ্ড তারা খেয়াল করছে। তিনদিনের মধ্যে আমি যদি ঠিক না হই, তাহলে তারা আমাকে দেখে নেবে। শুধু আমাকে না, আমার আত্মীয়-স্বজন, ছেলেমেয়ে ও সম্পত্তির ওপর তারা নজর রাখছে। ঠিক না হয়ে গেলে তারা আক্রমণ চালাবে। চিঠির শেষের অংশে লেখা আছে চলমান।’
মাদারীপুর: মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। বিষয়টি তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন।
ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, নাম ঠিকানাবিহীন এক পাতার চিঠিতে তাকে ও তার পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি গত বুধবার সন্ধ্যায় তার অফিসের ঠিকানায় পেয়েছেন। তার সঙ্গে একটি চিঠির খাম আসে। এতে লাল কালিতে লেখা ছিল ‘অতীব গোপনীয়’ বিষয়। আরো লেখা ছিল, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে তাকে ও পরিবারকে দেখে নেওয়া হবে। চিঠি হাতে লেখা ছিল, তবে কারও নাম লেখা ছিল না।’
বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশের ডিআইজি এবং গোয়েন্দা বিভাগকে বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছেন বলেও জানান ওয়াহিদুল ইসলাম।
বাগেরহাট: বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাসকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য বেনামে চিঠি দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও চিঠি পেলেও সাংবাদিকদের শুক্রবার দুপুরে অবহিত করা হয়। চিঠির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন জেলা প্রশাসক।
ডাকযোগে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সময়ে আপনার সব কার্যকলাপ তৎপরতা আপত্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট। আপনি কি প্রজাতন্ত্রের? আওয়ামী লীগ কর্মী? আপনারা হয়তো সব খবর রাখেন না। নির্বাচনের আগে ও পরে কিছু তো হবে। কেউ বসে নেই, তাই আপনার প্রতি অনুরোধ আপনি আগামী তিনদিনের মধ্যে শতভাগ নিরপেক্ষ হয়ে যান। হতে হবে। অন্যথায় অ্যাকশন।
বিবি/ ইএম



















