০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্মদিন আজ

  • ইমরান মাসুদ :
  • প্রকাশিত : ০৩:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮
  • 147

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের চিরসবুজ চিত্রনায়ক তিনি। সুশ্রী, সুদর্শন আর আকর্ষণীয় এক ব্যক্তিত্ব। ঢাকাই চলচ্চিত্রকে দেড়যুগ শাসন করেছিলেন প্রাণবন্ত অভিনয়ের বর্ণচ্ছটায়। হ্যাঁ একসময়ের রূপালী পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কথাই বলছি। পর্দায় রোমান্টিক, অ্যাকশন, কমেডিয়ান এমনকি সামাজিক সাদামাঠা চরিত্রে তার অভিনয়ের জুড়ি নেই। বিশেষ করে পারিবারিক টানপোড়েনে বিদ্ধ সংগ্রামী পুরুষ চরিত্রের ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিনয় অভিভূত হওয়ার মতো। ২৪ ডিসেম্বর চিরসবুজ এই চিত্রনায়কের শুভ জন্মদিন। ১৯৫৬ সালের এই দিনে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জের আশুতিয়াপাড়া গ্রামে ইলিয়াস কাঞ্চন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হাজী আব্দুল আলী, মাতার নাম সরুফা খাতুন। কৈশোর থেকেই অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা ছিল ইলিয়াকাঞ্চনের। তাই যুক্ত হয়েছিলেন বেশ কিছু নাট্য সংগঠনের সঙ্গে।

ইলিয়াস কাঞ্চন ১৯৭৫ সালে কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। অভিনয়ের নেশায় নানা পথ পেরিয়ে অবশেষে ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি নির্মাতা সুভাষ দত্তের ‘বসুন্ধরা’ ছবি দিয়ে এ দেশীয় চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। প্রথম ছবিতেই ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন চিত্রনায়িকা ববিতা। এরপর একে একে তার কেরিয়ারে ঘটতে থাকে সাফল্যের ইতিহাস।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির পথে নিয়ে গেছেন গত শতাব্দীর সোনালি যুগের এই দাপুটে অভিনেতা। এ পর্যন্ত অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে। যারমধ্যে বেশিরভাগই ছিল ব্যবসা সফল। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র ব্যবসায়িক সাফল্য এখনো ঢাকাই ছবিতে রূপকথা হয়ে আছে। তোজাম্মেল হক বকুলের পরিচালনায় এই ছবিতে কাঞ্চন জুটি বেঁধেছিলেন অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে। সীমাহীন কষ্টের এক অসাধারণ প্রেমের গল্প বেদের মেয়ে জোছনা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত।

দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে ইলিয়াস কাঞ্চন উপহার দিয়েছেন বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় জুটি। অঞ্জু ঘোষের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দিতি, চম্পাকেও তার সঙ্গে জুটি করে সফলতা পেয়েছেন নির্মাতারা। এছাড়াও ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনয় করেছেন রোজিনা, কবিতা, সুচরিতা, সুনেত্রা, শিল্পী, মৌসুমী, পপিসহ অনেক নায়িকার বিপরীতে।

একটা সময় চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার কারণে তিনি অভিনয় থেকে সরে যেতে থাকেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে ২০০৫ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত শাস্তি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০০৬ সালে আবু সাইয়ীদ পরিচালিত নিরন্তর ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি বেশ কয়েকটি অন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত হয়।

চলচ্চিত্র অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘জয় চলচ্চিত্র’। তার প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র হল মাটির কসম। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবারের মত বাবা আমার বাবা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালকের খাতায় নাম লিখান। ২০১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হঠাৎ দেখা কবিতা অবলম্বনে শাহাদাৎ হোসেন বিদ্যুৎ ও কলকাতার রেশমী মিত্রের পরিচালনায় একই নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে রয়েছে কলকাতার দেবশ্রী রায়।

বসুন্ধরা, দয়া মায়া, ডুমুরের ফুল, অভিযান, চরম আঘাত, পরিণীতা, ভেজা চোখ, বেদের মেয়ে জোসনা, আত্ম বিশ্বাস, শঙ্খ মালা, রাধা কৃষ্ণ, আঁখি মিলন, বাঁচার লড়াই,সোহরাব রোস্তম, শাস্তি, কে আমি, জটিল প্রেম।

১৯৭৯ সালে জাহানারা কাঞ্চনের সাথে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাবিন হয়। ১৯৮৩ সালে তাকে ঘরে তুলেন। তার স্ত্রী ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর কাঞ্চনের শুটিং দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মীরাজুল মঈন নামে তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইলিয়াস কাঞ্চন নানা রকম সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বিশেষ করে তার স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক নিরাপদ জীবন’স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তার বদৌলতেই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনটি বর্তমান বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং এর সঙ্গে বিভিন্ন মহল একাত্মতা ঘোষণা করে। তিনি বর্তমানে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রধান কাণ্ডারি।

ইলিয়াস কাঞ্চন এবারের জন্মদিনটি ঢাকাস্থ তার নিজ বাসায় কাটাবেন বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে কাছের দূরের, ভক্ত-অনুসারিদের ভালোবাসায় সিক্ত হবেন তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে তার সকল ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীসহ দেশবাসির কাছে আন্তরিক ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করেছেন সবার প্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তার জন্মদিনে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন ভালবাসা।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে কারখানায় সেনাবাহিনীর অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ

ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্মদিন আজ

প্রকাশিত : ০৩:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের চিরসবুজ চিত্রনায়ক তিনি। সুশ্রী, সুদর্শন আর আকর্ষণীয় এক ব্যক্তিত্ব। ঢাকাই চলচ্চিত্রকে দেড়যুগ শাসন করেছিলেন প্রাণবন্ত অভিনয়ের বর্ণচ্ছটায়। হ্যাঁ একসময়ের রূপালী পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কথাই বলছি। পর্দায় রোমান্টিক, অ্যাকশন, কমেডিয়ান এমনকি সামাজিক সাদামাঠা চরিত্রে তার অভিনয়ের জুড়ি নেই। বিশেষ করে পারিবারিক টানপোড়েনে বিদ্ধ সংগ্রামী পুরুষ চরিত্রের ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিনয় অভিভূত হওয়ার মতো। ২৪ ডিসেম্বর চিরসবুজ এই চিত্রনায়কের শুভ জন্মদিন। ১৯৫৬ সালের এই দিনে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জের আশুতিয়াপাড়া গ্রামে ইলিয়াস কাঞ্চন জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হাজী আব্দুল আলী, মাতার নাম সরুফা খাতুন। কৈশোর থেকেই অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা ছিল ইলিয়াকাঞ্চনের। তাই যুক্ত হয়েছিলেন বেশ কিছু নাট্য সংগঠনের সঙ্গে।

ইলিয়াস কাঞ্চন ১৯৭৫ সালে কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। অভিনয়ের নেশায় নানা পথ পেরিয়ে অবশেষে ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি নির্মাতা সুভাষ দত্তের ‘বসুন্ধরা’ ছবি দিয়ে এ দেশীয় চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। প্রথম ছবিতেই ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন চিত্রনায়িকা ববিতা। এরপর একে একে তার কেরিয়ারে ঘটতে থাকে সাফল্যের ইতিহাস।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির পথে নিয়ে গেছেন গত শতাব্দীর সোনালি যুগের এই দাপুটে অভিনেতা। এ পর্যন্ত অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে। যারমধ্যে বেশিরভাগই ছিল ব্যবসা সফল। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র ব্যবসায়িক সাফল্য এখনো ঢাকাই ছবিতে রূপকথা হয়ে আছে। তোজাম্মেল হক বকুলের পরিচালনায় এই ছবিতে কাঞ্চন জুটি বেঁধেছিলেন অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে। সীমাহীন কষ্টের এক অসাধারণ প্রেমের গল্প বেদের মেয়ে জোছনা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত।

দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে ইলিয়াস কাঞ্চন উপহার দিয়েছেন বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় জুটি। অঞ্জু ঘোষের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দিতি, চম্পাকেও তার সঙ্গে জুটি করে সফলতা পেয়েছেন নির্মাতারা। এছাড়াও ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনয় করেছেন রোজিনা, কবিতা, সুচরিতা, সুনেত্রা, শিল্পী, মৌসুমী, পপিসহ অনেক নায়িকার বিপরীতে।

একটা সময় চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার কারণে তিনি অভিনয় থেকে সরে যেতে থাকেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে ২০০৫ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত শাস্তি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ২০০৬ সালে আবু সাইয়ীদ পরিচালিত নিরন্তর ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি বেশ কয়েকটি অন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত হয়।

চলচ্চিত্র অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘জয় চলচ্চিত্র’। তার প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র হল মাটির কসম। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবারের মত বাবা আমার বাবা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালকের খাতায় নাম লিখান। ২০১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হঠাৎ দেখা কবিতা অবলম্বনে শাহাদাৎ হোসেন বিদ্যুৎ ও কলকাতার রেশমী মিত্রের পরিচালনায় একই নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে রয়েছে কলকাতার দেবশ্রী রায়।

বসুন্ধরা, দয়া মায়া, ডুমুরের ফুল, অভিযান, চরম আঘাত, পরিণীতা, ভেজা চোখ, বেদের মেয়ে জোসনা, আত্ম বিশ্বাস, শঙ্খ মালা, রাধা কৃষ্ণ, আঁখি মিলন, বাঁচার লড়াই,সোহরাব রোস্তম, শাস্তি, কে আমি, জটিল প্রেম।

১৯৭৯ সালে জাহানারা কাঞ্চনের সাথে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাবিন হয়। ১৯৮৩ সালে তাকে ঘরে তুলেন। তার স্ত্রী ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর কাঞ্চনের শুটিং দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মীরাজুল মঈন নামে তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইলিয়াস কাঞ্চন নানা রকম সামাজিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বিশেষ করে তার স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর থেকে ‘নিরাপদ সড়ক নিরাপদ জীবন’স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তার বদৌলতেই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনটি বর্তমান বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং এর সঙ্গে বিভিন্ন মহল একাত্মতা ঘোষণা করে। তিনি বর্তমানে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রধান কাণ্ডারি।

ইলিয়াস কাঞ্চন এবারের জন্মদিনটি ঢাকাস্থ তার নিজ বাসায় কাটাবেন বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে কাছের দূরের, ভক্ত-অনুসারিদের ভালোবাসায় সিক্ত হবেন তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে তার সকল ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীসহ দেশবাসির কাছে আন্তরিক ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করেছেন সবার প্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তার জন্মদিনে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন ভালবাসা।

বিবি/ ইএম