০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘বুলবুল ভাইয়ের সৃষ্টির দিকে তাকান, গর্বে বুক ভরে যাবে’

‘বুলবুল ভাইকে নিয়ে এখন কিছু বলার নেই। তাকে নিয়ে যা বলবো তার সবই তো আমাদের সামনে দৃশ্যমান। তার সম্পর্কে কে না জানে? তার সৃষ্টিই তার সম্পর্কে বলে দিচ্ছে। তার গান ছাড়া আমাদের মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে একবার ভাবুন। তাকে ছাড়া অনেকটাই খালি খালি মনে হবে। তার চলে যাওয়ায় আমাদের মাঝে এক প্রকার শূণ্যতা তৈরি হলো, ক্ষত সৃষ্ঠি হলো যেটা পূরণীয় নয়। বুলবুল ভাইয়ের সৃষ্টির সামারি টানুন। দেখুন, তিনি কী দিয়েছেন আমাদের। গর্বে বুক ভরে যাবে।’ সদ্য প্রয়াত বরেণ্য সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সম্পর্কে এমনটিই বললেন সঙ্গীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ।

মঙ্গলবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন তিনি। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই উপহার দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় গান।

সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ দেশের প্রায় সব জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাষ্ট্রীয় সম্মানা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হযেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তার মৃত্যুতে শোকাহত সঙ্গীত জগত। মৃত্যুর খবর পেয়ে আফতাব নগরে তার বাসায় সঙ্গীত জগতের অনেকেই ছুটে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের কুমার বিশ্বজিৎবলেন, ‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলে গেলেন। যাওয়ার আগে অনেক কিছুই দিয়ে গেলেন। তাকে নিয়ে আপনারা লিখতে বসলে বুঝবেন তিনি কী ছিলেন। তাকে নিয়ে লিখে কুল পাবেন না। তিনি আমাদের সুর সঙ্গীতের বৃক্ষ। অনেক ফল দিয়ে গেছেন।’

মৃত্যুর আগে কয়েকটা বছর নিরবে নিভৃতে কাটিয়েছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। জীবনের শেষ দিনগুলো ছিলেন ‘ঘরেবন্দি’র মতো। যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষী ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। অনেকেই যেখানে টাকা আর জীবনের হুমকিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সাক্ষী দিতে চাননি, সেখানে বুলবুল চুপ থাকতে পারেননি। বীরত্ব দেখিয়েছেন তিনি। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন সত্য কথা বলতে, ন্যায়ের পক্ষে রাষ্ট্রের হয়ে। মৃত্যু তাকে ভয় দেখাতে পারেনি।

বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসে ঘুম থেকে উঠতেই সুর ভেসে আসে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানের। আবার এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’ এখনও হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এমন অনেক কালজয়ী গানের শ্রষ্টা তিনি।

বুধবার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শেষশ্রদ্ধা জানানোর জন্য সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর জোহর বাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। এরপর নিয়ে আসা হবে এফডিসিতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে শহিদ বুদ্ধিবীজী কবরস্থানে।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

‘বুলবুল ভাইয়ের সৃষ্টির দিকে তাকান, গর্বে বুক ভরে যাবে’

প্রকাশিত : ০৩:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯

‘বুলবুল ভাইকে নিয়ে এখন কিছু বলার নেই। তাকে নিয়ে যা বলবো তার সবই তো আমাদের সামনে দৃশ্যমান। তার সম্পর্কে কে না জানে? তার সৃষ্টিই তার সম্পর্কে বলে দিচ্ছে। তার গান ছাড়া আমাদের মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে একবার ভাবুন। তাকে ছাড়া অনেকটাই খালি খালি মনে হবে। তার চলে যাওয়ায় আমাদের মাঝে এক প্রকার শূণ্যতা তৈরি হলো, ক্ষত সৃষ্ঠি হলো যেটা পূরণীয় নয়। বুলবুল ভাইয়ের সৃষ্টির সামারি টানুন। দেখুন, তিনি কী দিয়েছেন আমাদের। গর্বে বুক ভরে যাবে।’ সদ্য প্রয়াত বরেণ্য সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সম্পর্কে এমনটিই বললেন সঙ্গীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ।

মঙ্গলবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন তিনি। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই উপহার দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় গান।

সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ দেশের প্রায় সব জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রাষ্ট্রীয় সম্মানা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হযেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তার মৃত্যুতে শোকাহত সঙ্গীত জগত। মৃত্যুর খবর পেয়ে আফতাব নগরে তার বাসায় সঙ্গীত জগতের অনেকেই ছুটে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের কুমার বিশ্বজিৎবলেন, ‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলে গেলেন। যাওয়ার আগে অনেক কিছুই দিয়ে গেলেন। তাকে নিয়ে আপনারা লিখতে বসলে বুঝবেন তিনি কী ছিলেন। তাকে নিয়ে লিখে কুল পাবেন না। তিনি আমাদের সুর সঙ্গীতের বৃক্ষ। অনেক ফল দিয়ে গেছেন।’

মৃত্যুর আগে কয়েকটা বছর নিরবে নিভৃতে কাটিয়েছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। জীবনের শেষ দিনগুলো ছিলেন ‘ঘরেবন্দি’র মতো। যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষী ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। অনেকেই যেখানে টাকা আর জীবনের হুমকিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সাক্ষী দিতে চাননি, সেখানে বুলবুল চুপ থাকতে পারেননি। বীরত্ব দেখিয়েছেন তিনি। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন সত্য কথা বলতে, ন্যায়ের পক্ষে রাষ্ট্রের হয়ে। মৃত্যু তাকে ভয় দেখাতে পারেনি।

বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসে ঘুম থেকে উঠতেই সুর ভেসে আসে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানের। আবার এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’ এখনও হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এমন অনেক কালজয়ী গানের শ্রষ্টা তিনি।

বুধবার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শেষশ্রদ্ধা জানানোর জন্য সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর জোহর বাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। এরপর নিয়ে আসা হবে এফডিসিতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে শহিদ বুদ্ধিবীজী কবরস্থানে।

বিবি/রেআ