০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

বান্দরবানে মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়ার পথে

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী পাহাড়িরা যেন নানাভাবেই শিল্পী। তারা নিজেদের পোশাক নিজেরাই তৈরি করেন। খাবার তৈরিতেও তাদের রয়েছে জুম চাষ সহ নিজস্বের আম,পেঁপে,কমলার বাগান। তবে সব পাহাড়ির একটি জিনিসে মিল খুব বেশি, তা হলো তাদের তৈরি (ইং) মাচাং ঘর।সরেজমিনের দেখা গেছে, বান্দরবানে সদর উপজেলা রুমা,থানছি,লামা,আলীকদম,নাইক্ষ্যংছড়ি,রোওয়াংছড়ি সাতটি উপজেলায় (ইং) মাচাং ঘরগুলো তৈরি হয় সাধারণত ছন ও টিন দিয়ে। ছনের মাচাংগুলো দেখতে যেমন চৌকস্, তেমনি শীতাতপ, ঘুমাতেও প্রচন্ড আরামদায়ক। বর্তমানে ছনের কিংবা টিনের তৈরি ঘরের সংখ্যা প্রায় কমে গেছে। পাহাড়িরা পার্বত্য পাহাড়ঞ্চলের পাহাড়ের ভাঁজে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করে আসছে, এখনো বসবাস করছে। কিন্তু কালের বিবর্তনের চাহিদার মত বাশ,গাছ,ছনগুলো না থাকায় মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়া পথের প্রায়। পাহাড়ে প্রবীণরা দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, পাহাড়ে কিছু অসাধু বন খেকোদের কারণের পাহাড়ে এখন আর আগের মত ছন, বাশ, গাছ পাওয়া যায় না। কারণ বন খেকোরা বড় বড় গাছ কাটার কারণে পরিবেশ একদিকে দূষিত হচ্ছে আরেক দিকে হুমকিতে মোকাবিলা করতে হচ্ছে সহজসরল বসবাসকারী পাহাড়ী সম্প্রদায় গুলোকে। ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরকে টিকে রাখতে হলে সরকারী-বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক প্রশ্ন করে বলেন, পাহাড়ে জুম পুড়িয়ে দিলে ছন,বাশ,গাছ হারিয়ে যাচ্ছে কি? এমন প্রশ্নের তারা উত্তরে জানান, পাহাড়ের বেঁচে থাকার প্রধান উৎস জুম চাষ। আপনি দেখুন ছনের বাগানগুলো বয়ষ্কর হয়ে ঠিকিই কিন্তু মরে যায়। ছনের বাগান গুলোকে আগুনের পুড়িয়ে দিলে তারা আবার সপ্তাহ দু’য়েক মধ্যে আরো বেশি সতেজ হয়ে গজিয়ে ওঠে। ঠিক তেমনি পাহাড়িরা জুমের জন্যে জঙ্গল কর্তন করলেও বড় বড় গাছ বিংবা প্রয়োজনীয় গাছ কর্তন করি না। সাথে যে বাশগুলো আমরা জুমের জন্য কর্তন করি সেগুলো মাচাং ঘরের প্রয়োজনে সুন্দর করে বেঁধে সন্ধ্যায় বাড়িতে নিয়ে আসি। তবুও পাহাড়ে জুম চাষকে কেন্দ্র করে অনেকে দুষছে।এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বাংলাধারাকে জানান, আদিকাল থেকে পাহাড়িরা মাচাং ঘরে বসবাস করে আসছে। আগে আমরা পাহাড়ে যেতে ভয় পেতাম কারণ যেদিকে দেখি সেদিকে বড় বড় বন। কিছু স্থানীয় ব্যক্তিদের কর্তৃক অসাধু বন খেকোদের কারণে পাহাড়ে বৈচিত্র্যময় বনগুলিই উজার হয়ে গেছে। কিছু সেগুন গাছের বাগান আর কয়েকটা গামারি গাছের বাগানের যোট পারমিট দেখিয়ে বনগুলোকে উজার করে দিচ্ছে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে বাশ,ছন,গাছ।

বিবি/ ইএম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ ডটকম সম্পাদক দুই হাজার পরিবারকে উপহার দিলেন ঈদ সামগ্রী

বান্দরবানে মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়ার পথে

প্রকাশিত : ০৮:০৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারী ২০১৯

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী পাহাড়িরা যেন নানাভাবেই শিল্পী। তারা নিজেদের পোশাক নিজেরাই তৈরি করেন। খাবার তৈরিতেও তাদের রয়েছে জুম চাষ সহ নিজস্বের আম,পেঁপে,কমলার বাগান। তবে সব পাহাড়ির একটি জিনিসে মিল খুব বেশি, তা হলো তাদের তৈরি (ইং) মাচাং ঘর।সরেজমিনের দেখা গেছে, বান্দরবানে সদর উপজেলা রুমা,থানছি,লামা,আলীকদম,নাইক্ষ্যংছড়ি,রোওয়াংছড়ি সাতটি উপজেলায় (ইং) মাচাং ঘরগুলো তৈরি হয় সাধারণত ছন ও টিন দিয়ে। ছনের মাচাংগুলো দেখতে যেমন চৌকস্, তেমনি শীতাতপ, ঘুমাতেও প্রচন্ড আরামদায়ক। বর্তমানে ছনের কিংবা টিনের তৈরি ঘরের সংখ্যা প্রায় কমে গেছে। পাহাড়িরা পার্বত্য পাহাড়ঞ্চলের পাহাড়ের ভাঁজে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করে আসছে, এখনো বসবাস করছে। কিন্তু কালের বিবর্তনের চাহিদার মত বাশ,গাছ,ছনগুলো না থাকায় মাচাং ঘর হারিয়ে যাওয়া পথের প্রায়। পাহাড়ে প্রবীণরা দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, পাহাড়ে কিছু অসাধু বন খেকোদের কারণের পাহাড়ে এখন আর আগের মত ছন, বাশ, গাছ পাওয়া যায় না। কারণ বন খেকোরা বড় বড় গাছ কাটার কারণে পরিবেশ একদিকে দূষিত হচ্ছে আরেক দিকে হুমকিতে মোকাবিলা করতে হচ্ছে সহজসরল বসবাসকারী পাহাড়ী সম্প্রদায় গুলোকে। ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরকে টিকে রাখতে হলে সরকারী-বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক প্রশ্ন করে বলেন, পাহাড়ে জুম পুড়িয়ে দিলে ছন,বাশ,গাছ হারিয়ে যাচ্ছে কি? এমন প্রশ্নের তারা উত্তরে জানান, পাহাড়ের বেঁচে থাকার প্রধান উৎস জুম চাষ। আপনি দেখুন ছনের বাগানগুলো বয়ষ্কর হয়ে ঠিকিই কিন্তু মরে যায়। ছনের বাগান গুলোকে আগুনের পুড়িয়ে দিলে তারা আবার সপ্তাহ দু’য়েক মধ্যে আরো বেশি সতেজ হয়ে গজিয়ে ওঠে। ঠিক তেমনি পাহাড়িরা জুমের জন্যে জঙ্গল কর্তন করলেও বড় বড় গাছ বিংবা প্রয়োজনীয় গাছ কর্তন করি না। সাথে যে বাশগুলো আমরা জুমের জন্য কর্তন করি সেগুলো মাচাং ঘরের প্রয়োজনে সুন্দর করে বেঁধে সন্ধ্যায় বাড়িতে নিয়ে আসি। তবুও পাহাড়ে জুম চাষকে কেন্দ্র করে অনেকে দুষছে।এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বাংলাধারাকে জানান, আদিকাল থেকে পাহাড়িরা মাচাং ঘরে বসবাস করে আসছে। আগে আমরা পাহাড়ে যেতে ভয় পেতাম কারণ যেদিকে দেখি সেদিকে বড় বড় বন। কিছু স্থানীয় ব্যক্তিদের কর্তৃক অসাধু বন খেকোদের কারণে পাহাড়ে বৈচিত্র্যময় বনগুলিই উজার হয়ে গেছে। কিছু সেগুন গাছের বাগান আর কয়েকটা গামারি গাছের বাগানের যোট পারমিট দেখিয়ে বনগুলোকে উজার করে দিচ্ছে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে বাশ,ছন,গাছ।

বিবি/ ইএম