০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

দ্রুত ফুরিয়ে আসছে তিতাসের গ্যাস ভান্ডার

জ¦ালানী সম্পদ গ্যাস। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার মাটির তলদেশে রয়েছে প্রচুর এ গ্যাস ভান্ডার। কয়েক যুগ ধরে বিরামহীম ভাবে গ্যাস উত্তোলনে এখন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এই প্রাকৃতিক গ্যাস। ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের অধীনস্থ গ্যাস ক্ষেত্রের কয়েকটি কূপ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটির উৎপাদন কমছে, করছে উঠা-নামা। সে সাথে মাত্র অতিরিক্ত পনি উঠছে। গ্যাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব আলামত এ সেক্টরের জন্য শুভ নয়। এসব জানান, দিচ্ছে মজুদ ফুরানের কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, বেশীরভাগ কূপের অবস্থাই পাল্টিয়েছে। উৎপাদনের ব্যাপক হেরফের হচ্ছে। অর্ধেকে নেমে এসেছে কূপগুলোর উৎপাদন। তবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে খনি থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্ঠা চলছে। তারপর ও তেমন কাজ হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানাযায়, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের অধীনে গত ৬ বছরে ৮টি কূপ খনন করা হয়। এরমধ্যে ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ নং কূপ প্রায় ৯শ কোটি টাকা খরচ হয়। বর্তমানে ২৩ নং কূপ থেকে ১৫.৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ২৪ নং কূপ থেকে ৬.৭ মিলিয়ন গ্যাস, ২৫ নং কূপ থেকে ১৬. ৮ মিলিয়ন এবং ২৬ নং কূপ থেকে ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। অন্তত ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে এখান থেকে। অন্যেিদক সরকারের ফাস্টট্র্যাক প্রজেক্টের আওয়াতয় তিতাসের ১৯, ২০, ২১, ২২ নং কূপ খনন করা হয়। তিতাসের এসব কূপ থেকে ১৯ নাম্বার থেকে ১৭ মিলিয়ন, ২০ নং কূপ থেকে ১০.৫২ মিলিয়ন ঘনফুট, ২১ নং কূপ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ২২ নং কূপ থেকে ১১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসসহ ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব কূপ খনন ও প্রসেস প্লান্ট বাবত খরচ হয় ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রসেস প্লান্ট স্থাপনে ব্যায় হয়েছে ১শ ১২ কোটি টাকা।

গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ও খনি থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৬০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ৫ টি কূপ বিপুল পরিমান এ অর্থ ব্যায়ে ওয়ার্কওভারের পাশাপাশি তিতাসের ২১ নাম্বার কূপের ও ওয়ার্কওভার করা হয়। ২১ নং কূপ ওয়ার্কওভার করতে ৪৫ কোটি টাকা ব্যায় করা হয়। অন্যদিকে তিতাসের ১৫ নং কূপের ওয়ার্কওভার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে ২০ কোটি টাকা ব্যায় হয়। অনুসন্ধানে জানাগেছে তিতাস ১১, ১০, ৫, ৫ ও ১ নং কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করতে এ অর্থ ব্যয় হয়। ঐ সময় কূপগুলে উৎপাদ ছিল ১১ নং কূপে ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ১০ নং কূপে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ৫ নং কূপে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ২ নং কূপে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ১ নং কূপে ২৩ মিলিলয়ন ঘনফুট গ্যাস। একটি সূত্র জানায়, ঐ সময় ৫ টি কূপে ওয়ার্কওভার করা হলেও তেমন ফল আসেনি। শুধু মাত্র ১০ নং কূপের উৎপাদন বেড়েছে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাকিগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। সুত্র জানায়, খননকৃত প্রতিটি কূপ থেকে গড়ে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হলেও শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে উৎপাদনে। আর ৫ বছরের ব্যবধানে তা কমে এসেেছ অর্ধেকের নীচে। এসব কারণে গ্যাস সেক্টরে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। সুত্র জানায়, খনি থেকে গ্যাস আহড়ন করতে প্রাথমিক ভাবে যাচাই বাছাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রতিদিনকার সম্ভাব্য উৎপাদন ও মেয়াদ নির্ধারন করেই প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করা হয়। সে ক্ষেত্রে ব্যপ্তয় ঘটেছে এসব কুপ গুলোর বেলায়। এতে সরকারের মোটা অংকের অর্থ অপচয় হয়েছে বলে মনে করছে গ্যাস সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে, বাড়ছে পানির পরিমান। তিতাসের ১৩, ২২, ৭ নং কুপে না ত্রুটি নানা দেখা দিয়েছে। ১৩ ও ২২ নং কুপে বাড়ছে পানির পরিমান। কর্মকর্তারা বলছেন, ৪ টি কূপ ওয়ার্কওভারের জন্য প্রক্রিয়া করা হবে। বর্তমানে তিতাসের গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গড়ে ৫শ ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আর (বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড) বিজিএিফসিএল থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, তিতাসের কুপের প্রেসার কমে গেছে। বাড়ছে পানির পরিমান। রিজার্ভের মূল খনি থেকে গ্যাস আনতে ও উৎপাদন দীর্ঘায়িত করতে ওয়ার্কওভারর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছে সবগুলি কূপের প্রেসার কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের জি,এম পিডি জানান, ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদনের গতি ধরে রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়ার্কওভারের কাজ শুরু হবে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এএসআই পিয়ারুল হত্যা: আসামি পলাশের ফাঁসির আদেশ

দ্রুত ফুরিয়ে আসছে তিতাসের গ্যাস ভান্ডার

প্রকাশিত : ০৮:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯

জ¦ালানী সম্পদ গ্যাস। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার মাটির তলদেশে রয়েছে প্রচুর এ গ্যাস ভান্ডার। কয়েক যুগ ধরে বিরামহীম ভাবে গ্যাস উত্তোলনে এখন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এই প্রাকৃতিক গ্যাস। ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের অধীনস্থ গ্যাস ক্ষেত্রের কয়েকটি কূপ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটির উৎপাদন কমছে, করছে উঠা-নামা। সে সাথে মাত্র অতিরিক্ত পনি উঠছে। গ্যাস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব আলামত এ সেক্টরের জন্য শুভ নয়। এসব জানান, দিচ্ছে মজুদ ফুরানের কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, বেশীরভাগ কূপের অবস্থাই পাল্টিয়েছে। উৎপাদনের ব্যাপক হেরফের হচ্ছে। অর্ধেকে নেমে এসেছে কূপগুলোর উৎপাদন। তবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে খনি থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্ঠা চলছে। তারপর ও তেমন কাজ হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানাযায়, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের অধীনে গত ৬ বছরে ৮টি কূপ খনন করা হয়। এরমধ্যে ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ নং কূপ প্রায় ৯শ কোটি টাকা খরচ হয়। বর্তমানে ২৩ নং কূপ থেকে ১৫.৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ২৪ নং কূপ থেকে ৬.৭ মিলিয়ন গ্যাস, ২৫ নং কূপ থেকে ১৬. ৮ মিলিয়ন এবং ২৬ নং কূপ থেকে ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। অন্তত ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে এখান থেকে। অন্যেিদক সরকারের ফাস্টট্র্যাক প্রজেক্টের আওয়াতয় তিতাসের ১৯, ২০, ২১, ২২ নং কূপ খনন করা হয়। তিতাসের এসব কূপ থেকে ১৯ নাম্বার থেকে ১৭ মিলিয়ন, ২০ নং কূপ থেকে ১০.৫২ মিলিয়ন ঘনফুট, ২১ নং কূপ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ২২ নং কূপ থেকে ১১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসসহ ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব কূপ খনন ও প্রসেস প্লান্ট বাবত খরচ হয় ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রসেস প্লান্ট স্থাপনে ব্যায় হয়েছে ১শ ১২ কোটি টাকা।

গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ও খনি থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৬০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ৫ টি কূপ বিপুল পরিমান এ অর্থ ব্যায়ে ওয়ার্কওভারের পাশাপাশি তিতাসের ২১ নাম্বার কূপের ও ওয়ার্কওভার করা হয়। ২১ নং কূপ ওয়ার্কওভার করতে ৪৫ কোটি টাকা ব্যায় করা হয়। অন্যদিকে তিতাসের ১৫ নং কূপের ওয়ার্কওভার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে ২০ কোটি টাকা ব্যায় হয়। অনুসন্ধানে জানাগেছে তিতাস ১১, ১০, ৫, ৫ ও ১ নং কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করতে এ অর্থ ব্যয় হয়। ঐ সময় কূপগুলে উৎপাদ ছিল ১১ নং কূপে ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ১০ নং কূপে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ৫ নং কূপে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ২ নং কূপে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ১ নং কূপে ২৩ মিলিলয়ন ঘনফুট গ্যাস। একটি সূত্র জানায়, ঐ সময় ৫ টি কূপে ওয়ার্কওভার করা হলেও তেমন ফল আসেনি। শুধু মাত্র ১০ নং কূপের উৎপাদন বেড়েছে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাকিগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। সুত্র জানায়, খননকৃত প্রতিটি কূপ থেকে গড়ে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হলেও শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে উৎপাদনে। আর ৫ বছরের ব্যবধানে তা কমে এসেেছ অর্ধেকের নীচে। এসব কারণে গ্যাস সেক্টরে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। সুত্র জানায়, খনি থেকে গ্যাস আহড়ন করতে প্রাথমিক ভাবে যাচাই বাছাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রতিদিনকার সম্ভাব্য উৎপাদন ও মেয়াদ নির্ধারন করেই প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করা হয়। সে ক্ষেত্রে ব্যপ্তয় ঘটেছে এসব কুপ গুলোর বেলায়। এতে সরকারের মোটা অংকের অর্থ অপচয় হয়েছে বলে মনে করছে গ্যাস সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে, বাড়ছে পানির পরিমান। তিতাসের ১৩, ২২, ৭ নং কুপে না ত্রুটি নানা দেখা দিয়েছে। ১৩ ও ২২ নং কুপে বাড়ছে পানির পরিমান। কর্মকর্তারা বলছেন, ৪ টি কূপ ওয়ার্কওভারের জন্য প্রক্রিয়া করা হবে। বর্তমানে তিতাসের গ্যাস ক্ষেত্র থেকে গড়ে ৫শ ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আর (বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড) বিজিএিফসিএল থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, তিতাসের কুপের প্রেসার কমে গেছে। বাড়ছে পানির পরিমান। রিজার্ভের মূল খনি থেকে গ্যাস আনতে ও উৎপাদন দীর্ঘায়িত করতে ওয়ার্কওভারর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছে সবগুলি কূপের প্রেসার কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের জি,এম পিডি জানান, ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদনের গতি ধরে রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়ার্কওভারের কাজ শুরু হবে।