বাংলাদেশ ও জাপান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। এশিয়া দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে, সেই পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, এশিয়ার মধ্যে উন্নত দেশ আছে। উন্নয়নশীল আছে। আবার নিম্ন মধ্যম উন্নত দেশও আছে। সব দেশ যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে এক হয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে এশিয়া অঞ্চল বিশ্বব্যাপী আয়ত্ত করে চলতে পারবে। আর আমরা যে এটা করতে পারবো, সে সম্ভাবনাও আছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার টোকিও’র হোটেল ইমপেরিয়ালে দেশটির সরকারের উন্নয়ন সংস্থা- জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিচি কিতাওকা সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম দু’জনের বৈঠক আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান আমাদের স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তাদের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর জাপানই একমাত্র দেশ, যারা বাংলাদেশকে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল। “মানবতা আর শুভ শক্তির জয় হবেই। বিশ্ব আজ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে, এই উদীয়মান এশিয়ার দিকে। উদ্ভাবনে, অনুপ্রেরণায় বিশ্বকে শান্তি আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এশিয়াকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তীব্র উত্তেজনা ও সংকটের মুখেও এই দ্বন্দ্বের বিষয়ে সমঝোতা ও ঐক্যমত্য চেয়েছি। আমরা শুধুমাত্র মানবিক আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি না, বরং আঞ্চলিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সংকট যেন আর না বাড়ে সে বিষয়েও সচেতন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচণ্ড সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি।’
‘বিশ্ব সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি স্থিতিশীল ও টেকসই বিশ্ব নিশ্চিত করতে সকল বন্ধু ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে’ বলে শেখ হাসিনা।’
তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট এই অঞ্চলের অন্যান্য সংকটময় পরিস্থিতিতে কিভাবে ব্যবস্থা নেয়া যায় সেদিকে একটি শিক্ষণীয় দিক। শান্তি, মানবতা ও উন্নয়নের মাধ্যমে কিভাবে বিশ্বে বিশৃঙ্খলা দূর করা যায় তার একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বিশ্বের অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও, মানুষের জ্ঞান অন্বেষণ করা, নতুন আবিষ্কার করা এবং সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে তাকে আশা জোগায়।
এশিয়াকে আরও ভালোভাবে গড়ে তোলার জন্য অনুষ্ঠানে একজন মূল বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কিছু অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময় করেন।
এশিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এশিয়ার ভবিষ্যত টেকসই ও সুষম উন্নয়নের উপর নির্ভর করে। এশিয়ার দেশসমূহকে উদার মনমানসিকতা, অংশগ্রহণ, সাম্য, সুবিধা বিনিময় ও যৌথ অবদানের মাধ্যমে একে অপরকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
যৌথভাবে উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নয়নশীল দেশসমূহের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য আমরা একত্রিত হতে পারি।’
বিবি/ ইএম























