বুধবার দুপুর ১২.৩০টা। সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকদের পদচারনায় মুখরিত। তিল ধারনের যেন ঠাই নেই। পিনপতন নিরবতা। সবাই অধীর আগ্রহে অপক্ষোয় আছেন কখন জানা যাবে এইচএসসি পরীক্ষার ফল। অপেক্ষার যেন তর সইছে না কারোরই। অবশেষে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ফলাফল ঘোষণা করলেন। এতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নেচে-গেয়ে, হৈ-হুল্লাল করে, রং ছিটিয়ে আনন্দ কেবল ওরা একাই করেননি ওদের আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, বন্ধুবান্ধব এমনকি প্রতিষ্ঠান প্রধানও। কাউকে কাউকে আবার নতজানু হয়ে সালাম করতেও দেখা গেছে শিক্ষকদের পায়ে। কেউ আবার প্রিয়জনকে মোবাইল ফোনে জানান দিচ্ছিলেন নিজের কৃতিত্বের কথা। একে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করেছেন ভালো ফলাফলের রহস্যও ।
বুধবার এরকম আনন্দের জোয়ার ছিলো সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজে। এমন আনন্দতো তাদেরই মানায়। হাসি-গানে আনন্দ উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজের আঙ্গিনা। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখায় বেজায় খুশি রাজধানীর ডেমরার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, অভিভাবক ও গভর্নিংবডি।
এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৭৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৯৪ জন পাশ করেছে। পাসের হার ৯৯.৭৫। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪২ জন সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪৭২ জনে ২৩৭, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৯২ জনে ৮৪ এবং মানবিক বিভাগ থেকে ১৩২ জনে ২১ জন A+ প্রাপ্তির সৌভাগ্য অর্জন করে।
সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠান প্রধান মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি, শিক্ষকদের বন্ধু সুলভ আচরন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং গভর্নিংবডি সহযোগিতাই ভালো ফলাফল করতে পেরেছি। তিনি আরো জানান, ভালো ফলাফল করতে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা কাটাতে বেশি বেশি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। কলেজের সিলেবাস তৈরি করে সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়।
জানা যায়, ১৯৮৯ সালে মাত্র ২৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু সামসুল হক খান কিন্ডারগার্টেন। তারপর সামসুল হক খান হাই স্কুল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ঢাকা বোর্ডে এইচএসসিতে শীর্ষদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে আসছে। ২০১৬ সালে ৪০৮ সহ ৭৮.০২% A+ অর্জন করে দেশের সকল কলেজ থেকে এগিয়ে ছিল। ২০১৫ সালে এ প্রতিষ্ঠান এসএসসিতে প্রথম স্থান অধিকার করে দেশ সেরা হয়েছে। ২০১২ সালে দ্বিতীয় সেরা। পিইসি ও জেএসসিতেও সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ ফল অর্জনে গৌরবোজ্জ্বল ধারা বজায় রেখে আসছে।
২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫শত ৮৬ জন। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন।
বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
গত ১ এপ্রিল থেকে এএইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় মে’র মাঝামাঝি সময়ে। এবছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৩০৯ জন। এরমধ্যে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৭৮ হাজার ৪৫১ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৫ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৮০টি।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম


























