টাঙ্গাইলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। জেলার ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের টেপিবাড়ি এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণের মূল বাঁধ ভেঙে নতুন করে গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬টি উপজেলায় ৩৪ ইউনিয়নের ১০৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর এতে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এসব গ্রামের রাস্তা এবং ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে ৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর নদী ভাঙনে ফলে ১ হাজার ৩০ জন পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেকে গরু-ছাগল ও পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় উচু স্থানে এবং আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলে প্রায় সব কয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আর এতে করে শুক্রবার সকালে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি ১৩০ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ৭৯ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলে জেলার ৬টি উপজেলার ৩৪ ইউনিয়নের প্রায় ১০৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন রয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৯৭১ টি পরিবার। আর লোক সংখ্যা হলো ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭ জন। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০টি পরিবারের লোকজন গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আর নদীতে ২১ হাজার ৯৭৪টি পরিবারের আশংকি ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলায় ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে পায় ২৪শ’ লোক আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলয়ে অন্তত ৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল্যের মানুষগুলো বেশি বিপাকে পড়েছেন। ইতিমধ্যে বনাতদের মধ্যে ১৬৫ মে.টন চাল দেয়া হয়েছে এবং উপজেলাগুলোতে ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৩৫ মে.টন চাল আমাদের সংরক্ষণে রয়েছে। যেসব উপজেলায় পানি প্রবেশ করেছে বা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো হলোÑ গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর এবং টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর।
৫ হাজার ৮শ’৭২ হেক্টর ফসলি জমি এবং সবজি নিমজ্জিত
বন্যার কারণে জেলায় বোনা আমন ৩৬৫৭ হেক্টর জমি, রোপা আমন (বীজতলা) ১৮৯ হেক্টর, রোপা আমন (আবাদ) ১০৫ হেক্টর, আউশ ১২৩৮ হেক্টর, বিভিন্ন ধরনের সবজি ৪১৮ হেক্টর, পাট ২৬৫ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জীত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে আরো ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে ফলেনের ক্ষতি হতে পারে।
৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ
বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় এবং সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী আসতে না পাড়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রসা মিলয়ে অনন্ত ৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।তবে পানি আরো বৃদ্ধি পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, টঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরীর পানিতে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৯ সে.মি., ধলেশ্বরী নদীর দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ব্রিজের এখানে বিপদ সীমার ১৩০ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর কালিহাতী উপজেলার যোকারচর এলাকায় বিপদ সীমার ৭৯ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বাকি দুটি নদী পুংলী ও বংশাই নদী বিপদ সীমার নিচে রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাঁধ মেরামতে জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস যোথভাবে কাজ করছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম




















