কুড়িগ্রামে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বানভাসি মানুষদের কাছ থেকে জোর জুলুম পূর্বক কিস্তির টাকা আদায় করছে ব্র্যাক, আশা, ঠেঙ্গামারা ও অন্যান্য এনজিওগুলো। এ যেন মরার উপর খরার ঘাঁ। টানা বৃষ্টি এবং বন্যায় বিপর্যন্ত মানুষ যখন নিরুপায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ব্যস্ত ঠিক সেই সময় এনজিওদের কিস্তির চাপের মুখে দিশেহারা দরিদ্রপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামের অসহায় মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই এনজিও কর্মীর ভয়ে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার, নয়ারহাট, যাত্রাপুর, পাঁচগাছী, চর ভগবতিপুর, চর রলাকাটা, সিতাইঝাড় আশ্রয় কেন্দ্রে নৌকা যোগে এনজিও কর্মীরা ছুটে চলেছে কিস্তির টাকা আদায় করতে।
উলিপুর উপজেলার হাতিয়া অনন্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল ব্র্যাক মন্ডলের হাট শাখার মাঠকর্মী জয়শ্রী রানী বানভাসি মানুষের কাছ থেকে জোর করে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করছে। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তাড়াহুড়া করে ওই মাঠকর্মী সটকে পড়ার জন্য তড়িঘড়ি করে নৌকায় চড়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিঠি দিয়ে বন্যা চলাকালীন বানভাসিদের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
কিন্তু তার পরও কেন আপনি কিস্তি আদায় করছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন আমরা কোন চিঠি পাইনি। এ কথা শুনে বানভাসিরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমাদের জীবন বাঁচে না। তার উপর ওরা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। ওদের ভয়ে অনেক পুরুষ আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে দিনে পালিয়ে থাকে বলে জানান। বানভাসিরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ওই মাঠকর্মী পালিয়ে যায়। এ সময় ঋণগ্রহীতা কার্ত্তিক চন্দ্র (৫০), মরিয়ম বেগম (৪০) ও রেহানা (২৮) জানায় ওই মাঠকর্মী তাদের কাছ থেকে জোর করে কিস্তি আদায় করেছে।
এ ব্যাপারে ব্র্যাক মন্ডরের হাট শাখা ব্যবস্থাপক প্রদিপ কুমার রায় বলেন, এখন ও চিঠি পাইনি তবে নিবার্হী অফিসারের এ সংক্রান্ত একটি ম্যাসেজ পেয়েছি আর কর্মীরা মাঠে যাবে না বলে জানান।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলুফা ইয়াসমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এনজিওগুলোকে সতর্ক করে কিস্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিদের্শ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ-/ ইএম




















