বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রি করার জন্য বিশেষ সুবিধা চায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবিএল)। এ লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারার প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার এ বিষয়ে সুপারিশ করে চিঠি দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, নরওয়ের সরকারি তহবিল নরওয়েজিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (নরফান্ড) এর নামে ১০ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করে ১৭৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা নিচ্ছে এমটিবিএল।এ অর্থ বিনিয়োগের বিনিয়োগের বিপরীতে নরফান্ড ব্যাংকটির ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানার পাশাপাশি ১০ শতাংশ ভোটাধিকারও চায়, যা আইনসম্মত নয়। এমন অবস্থায় ব্যাংক কোম্পানি আইনের, ১৯৯১ এর ১৪ (১) (চ) ধারার বিধান হতে অব্যাহতি চেয়েছে এমটিবিএল। সরকারের সম্মতি চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সূত্র মতে, চলতি বছরের ২৩ মে প্রতিটি শেয়ার ২৭.১৯ টাকা দরে ৩ কোটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ২টি শেয়ার ৮২.০৬ কোটি টাকা বা ৯.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে নরফান্ডের অনুকুলে ইস্যু করেছে এমটিবিএল। ওইদিন পুঁজিবাজারে এমটিবির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৩৩ টাকা ৩০ পয়সা।
এর আগে গত বছর ব্যাংকের ১০ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য নরফান্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ১০ টাকা ফেসভেল্যু বা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৭ টাকা ১৯ পয়সা প্রিমিয়াম ধরে ৬ কোটি ৩৭ হাজার ৭শ’ ৪টি বা ১০ শতাংশ শেয়ার দেওয়া হবে নরফান্ডকে। অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২৭ টাকা ১৯ পয়সা হিসেবে এমটিবিএলকে ১৭৩ কোটি ২৪ লাখ বা ২ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার দেবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি। বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের পর্ষদে নরফান্ডের একজন পরিচালক বসবেন এবং ১০ শতাংশ ভোটাধিকারও পাবেন। এদিকে, গত জুন মাসে আইনি জটিলতা দেখিয়ে বিনিয়োগের বাকি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায় নরফান্ড। ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানার পাশাপাশি ১০ শতাংশ ভোটাধিকার নিশ্চিত হলেই কেবল পুরো অর্থ বিনিয়োগ করার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। না হলে বাকি বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকার মৌখিক ঘোষণা দেয়।
এমতাবস্থায় বাকি বিনিয়োগ পেতে ব্যাংক কোম্পানি ওই ধারার বিধান হতে অব্যাহতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে এমটিবিএল। অব্যাহতি পেলে অবশিষ্ট ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ২ টি শেয়ার প্রতিটি ২৭ টাকা ১৯ পয়সা দরে ৯১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বা ১ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে নরফান্ডের অনুকুলে ইস্যু করবে এমটিবিএল। ব্যাংক কোম্পানি আইনের, ১৯৯১ এর ১৪ (১) (চ) ধারার বিধান মতে, সরকার ব্যতিত অন্য কোনো একক শেয়ারহোল্ডারের ভোটাধিকার শতকরা পাঁচ ভাগের বেশি হবে না। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র মতে, নরফান্ডকে ব্যাংকটির ১০ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে একক শেয়ারধারী হিসেবে ১০ শতাংশ ভোটাধিকার প্রদানের জন্য ব্যাংক কোম্পানী আইনের ১২১ ধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে নরফান্ডকে ১০ শতাংশ ভোটাধিকার দিতে অর্থমন্ত্রীর সম্মতির জন্য তার দফতরে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালন (এমডি) আনিস এ খান বলেন, নরফান্ড যেহেতু ১০ শতাংশ শেয়ার নিচ্ছে, তারা তো ১০ শতাংশের অথরাইজড চাইবে। নরফান্ড হচ্ছে, নরওয়ের সরকারি ফান্ড। পৃথিবীর প্রেষ্টিজিয়াস ফান্ড। সেজন্য আমরা অব্যাহতি চেয়েছি, আশা করছি পাব।অনুমোদন পেয়ে বাকি ৫ শতাংশ নেব। আনিস এ খান আরও বলেন, বিনিয়োগ করতে হলে নরফান্ডকে বাংলাদেশের আইন মানতে হবে, কিন্তু ওরা বুঝতে পারছে না। তারা বলছে- শেয়ার কিনবো ১০ শতাংশ, তাহলে ভোটাধিকার ৫ শতাংশ কেন পাব।সব মিলিয়ে ১০০ শতাংশের জায়গায় ৯৫ শতাংশ ভোট থাকবে, আর ৫ শতাংশ থাকবে না, কি করে সম্ভব, ওরা বুঝতে পারছে না। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে এমটিবিতে নরফান্ডের বিনিয়োগের সুবিধার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে অব্যাহতি চাইলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেছেন, কার্যত এই ধরনের অব্যাহতির কোনো সুযোগ নেই।
২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (এমটিবিএল)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে ব্যাংকটিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে রয়েছে ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার। বাকি ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা বা স্পন্সরদের কাছে। ১৯৯৭ সালে নরফান্ড হচ্ছে নরওয়ে সরকারের একটি তহবিল। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ করতে এ ফান্ড গঠন করা হয়। বর্তমানের বিভিন্ন দেশে নরফান্ডের বিনিয়োগ রয়েছে।




















