কমেই চলেছে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধির হার। মূদ্রানীতি ঘোষীত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হয়ে উল্টো বাড়ছে অর্জন ও লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পার্থক্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জুন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ কম।
তারল্য সংকট, উচ্চ সুদহারসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের অবস্থা নাজুক। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে কমতে থাকলেও মে মাস শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছিল ১২ দশমিক ১৬ শতাংশে। কিন্তু মে মাসের পর আবারও নিম্নগতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি রয়েছে। এর মূল কারণ ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য নেই। ঋণ আমানত অনুপাতের (এডিআর) নতুন সীমায় নামিয়ে আনারও চাপ রয়েছে। আবার আমানতের প্রবৃদ্ধি কম থাকায় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঋণ দিতে পারছে না ব্যাংক। এছাড়া ব্যবসায়ীরা উচ্চ সুদহারে ঋণ নিচ্ছেন না। এসব কারণে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে। জানা গেছে, গত ৫৭ মাসে সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি এটা। ২০১৪ সাল থেকেই এই সূচক নিম্নগামী।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের ছয় মাসের তুলনায় কমানো হলেও কোনো মাসেই অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থাহীনাতার কারণে এখন সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন অনেকে। ডলারের সংকট মেটাতে বাজারে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া উচ্চ খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এসব কারণে তারল্য সংকট ও বেসরকারি ঋণে নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। গত মার্চ প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু ডিসেম্বর (২০১৮) শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজর ৯১১ কোটি টাকা। এ হিসেবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। এর আগে এক প্রান্তিকে এতো বেশি খেলাপি ঋণ বাড়তে দেখা যায়নি।
আবার খেলাপি ঋণ ১ লাখ কোটি টাকাও ছাড়ায়নি এর আগে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। যা আগের প্রন্তিকে ছিল বিতরণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। কিন্তু মার্চ শেষে খেলাপি বেড়েছে মোট বিতরণের ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। উল্লেখ, ২০১৯ সালের মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৩২ শতাংশ।
সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত খাতের দুই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। যা ব্যাংকদুটির বিতরণকৃত ঋনের ১৯ দশমিক ৪৬ শাতংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বা বিতরণকৃত ঋণের ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলো বিতরণকৃত ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ বা ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে।




















