০৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিনে-দুপুরে বাড়িতে ঢুকে সাংবাদিক খুন, সাহারানপুরে তোলপাড়

নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের নামী দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আশিস জানওয়ানি ও তাঁর ভাইকে দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করল একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল এলাকার মাফিয়ারা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আশিস এলাকার যত্রতত্র ময়লা ফেলা নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন এই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে। অভিযোগ পুলিশে খবর দিলেও কোনও লাভ হয়নি। এ দিন সাহারানপুরের মাধবনগর এলাকায় আশিসের বাড়িতে সরাসরি হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে এদিন মুখ বাধা অবস্থায় আশিসের বাড়িতে ঢোকে। সঙ্গে থাকা বন্দুক থেক এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে তারা। ঘটনাস্থলেই মারা যান আশিসের ভাই। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গেলে আশিসের পরিজনেরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

আশিস এবং তাঁর ভাইই তাদের পরিবারের রোজগেরে সদস্য ছিলেন। আশিস দৈনিক জাগরণ নামক হিন্দি সংবাদপত্রে সাংবাদিকতা করতেন। বাড়িতে রয়েছেন আশিসের বৃদ্ধা মা ও সন্তানসম্ভবা স্ত্রী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছন উত্তরপ্রদেশের ডিআইজি উপেন্দ্র আগরওয়াল। অপরাধীদের খোঁজে গোটা এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশে সাংবাদিক খুন কোনও নতুন ঘটনা নয়। দাঙ্গাবিধ্বস্ত মুজফফরনগরে কাজ করতে করতেই গুলিবিদ্ধ হন রাজেশ ভর্মা। ২০১৫ সালে আশিসের মতোই বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয় অভিজ্ঞ রিপোর্টার যোগেন্দ্র সিংহকে। তদন্তমূলক সাংবাদিকতায় তিনি সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ২০১৬ সালে বাড়ি ফেরার পথে খুন হন সাংবাদিক করুণ মিশ্রও। তাঁর ‘অন্যায়’ তিনি খনি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। সেই তালিকা ক্রমেই দীর্ঘতর হয়েছে। তাতেই শেষ সংযোজন আশিস জানওয়ানির নাম।
উত্তর প্রদেশ সরকারকে বেশ কিছু দিন ধরেই দুবৃত্তায়নের কারণে দুষছে বিরোধীরা। এ দিনের ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল যোগীরাজ্যের প্রকৃত পরিস্থিতিটা।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

দিনে-দুপুরে বাড়িতে ঢুকে সাংবাদিক খুন, সাহারানপুরে তোলপাড়

প্রকাশিত : ০৫:১১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯

নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের নামী দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আশিস জানওয়ানি ও তাঁর ভাইকে দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করল একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল এলাকার মাফিয়ারা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আশিস এলাকার যত্রতত্র ময়লা ফেলা নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন এই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে। অভিযোগ পুলিশে খবর দিলেও কোনও লাভ হয়নি। এ দিন সাহারানপুরের মাধবনগর এলাকায় আশিসের বাড়িতে সরাসরি হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে এদিন মুখ বাধা অবস্থায় আশিসের বাড়িতে ঢোকে। সঙ্গে থাকা বন্দুক থেক এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে তারা। ঘটনাস্থলেই মারা যান আশিসের ভাই। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে গেলে আশিসের পরিজনেরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

আশিস এবং তাঁর ভাইই তাদের পরিবারের রোজগেরে সদস্য ছিলেন। আশিস দৈনিক জাগরণ নামক হিন্দি সংবাদপত্রে সাংবাদিকতা করতেন। বাড়িতে রয়েছেন আশিসের বৃদ্ধা মা ও সন্তানসম্ভবা স্ত্রী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছন উত্তরপ্রদেশের ডিআইজি উপেন্দ্র আগরওয়াল। অপরাধীদের খোঁজে গোটা এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশে সাংবাদিক খুন কোনও নতুন ঘটনা নয়। দাঙ্গাবিধ্বস্ত মুজফফরনগরে কাজ করতে করতেই গুলিবিদ্ধ হন রাজেশ ভর্মা। ২০১৫ সালে আশিসের মতোই বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয় অভিজ্ঞ রিপোর্টার যোগেন্দ্র সিংহকে। তদন্তমূলক সাংবাদিকতায় তিনি সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ২০১৬ সালে বাড়ি ফেরার পথে খুন হন সাংবাদিক করুণ মিশ্রও। তাঁর ‘অন্যায়’ তিনি খনি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। সেই তালিকা ক্রমেই দীর্ঘতর হয়েছে। তাতেই শেষ সংযোজন আশিস জানওয়ানির নাম।
উত্তর প্রদেশ সরকারকে বেশ কিছু দিন ধরেই দুবৃত্তায়নের কারণে দুষছে বিরোধীরা। এ দিনের ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল যোগীরাজ্যের প্রকৃত পরিস্থিতিটা।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ