০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

২ লাখ কোটি টাকা যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে

আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহে ২৫ শতাংশ এবং কর্মীদের পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ সংরক্ষণ করার বিধান রেখে আইনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত ৬৮ সংস্থার উদ্বৃত্ত ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাচ্ছে।

সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ‘অলস’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা আছে।

এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিতে ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত এ আইনটি অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া বৈঠকে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন আইন ২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, আইনটি চূড়ান্ত হলে ওইসব স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় টাকা রেখে বাকি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা নেয়া হবে।

এই টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে আছে।

এই টাকাগুলো কোনো ভালো কাজে ইনভেস্ট হচ্ছে না। এজন্য সরকারের পলিসি হল, নতুন আইনের মাধ্যমে কিছু প্রভিশন রেখে বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে আসা।

আমাদের অনেক প্রজেক্ট আছে, জনকল্যাণমূলক কাজ, যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে ফাইন্যান্স করা যায় না, সেখানে এসব টাকা ব্যয় করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসব সংস্থা চালাতে যে খরচ হয় এবং নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে যে অর্থ লাগে, তা তাদের নিজস্ব তহবিলে জমা রাখা হবে।

তাছাড়া আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালন ব্যয়ের আরও ২৫ শতাংশ অর্থ এসব সংস্থা সংরক্ষণ করতে পারবে।

ওই সংস্থার কর্মীদের পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও তারা সংরক্ষণ করবে। এরপর যে অর্থ বাকি থাকবে, সেটা সরকারের কোষাগারে জমা দেবে। অর্থাৎ ওনাদের বিপদে ফেলা হবে না, ওনাদের প্রয়োজনীয় অর্থ রেখে বাকিটা দেবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসনে ‘কোনো সমস্যা হবে না’ মন্তব্য করে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘আর্থিক ডিসিপ্লিনেও কোনো সমস্যা হবে না।

এটা হচ্ছে ওনাদের যে আইডল মানি আছে, তা সরকারের ইনভেস্টমেন্টে কাজে লাগানো। আইনি অধিকারও ক্ষুণ্ণ করা হয়নি, ওনাদের যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা তো সরকার দিচ্ছে।

পরিচালন ব্যয় হিসেবে কোন সংস্থা কত টাকা রাখবে, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে।’

২৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ২১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা (মে ২০১৯-এর তথ্য), পেট্রোবাংলার ১৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, পিডিবির ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা, রাজউকের ৪ হাজার ৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আছে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বাদ দিলে এ রকম ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা ইতোমধ্যে করা হয়েছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

এর মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ তালিকায় শিক্ষা বোর্ডগুলো রয়েছে।

তাদের অনেক অলস টাকা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্বৃত্ত ৪২৫ কোটি টাকা রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আকারে ছোট হলেও ধরনের দিক দিয়ে এ আইন হবে ‘সুপারসিডিং’।

অর্থাৎ, অন্যান্য কর্পোরেশনের আইনে যা-ই বলা থাকুক না কেন, তার ওপরও এ আইনের বিধান কার্যকর হবে।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু

২ লাখ কোটি টাকা যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে

প্রকাশিত : ০১:২৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহে ২৫ শতাংশ এবং কর্মীদের পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ সংরক্ষণ করার বিধান রেখে আইনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত ৬৮ সংস্থার উদ্বৃত্ত ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাচ্ছে।

সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ‘অলস’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা আছে।

এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিতে ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত এ আইনটি অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া বৈঠকে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন আইন ২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেন, আইনটি চূড়ান্ত হলে ওইসব স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় টাকা রেখে বাকি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা নেয়া হবে।

এই টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে আছে।

এই টাকাগুলো কোনো ভালো কাজে ইনভেস্ট হচ্ছে না। এজন্য সরকারের পলিসি হল, নতুন আইনের মাধ্যমে কিছু প্রভিশন রেখে বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে আসা।

আমাদের অনেক প্রজেক্ট আছে, জনকল্যাণমূলক কাজ, যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে ফাইন্যান্স করা যায় না, সেখানে এসব টাকা ব্যয় করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসব সংস্থা চালাতে যে খরচ হয় এবং নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে যে অর্থ লাগে, তা তাদের নিজস্ব তহবিলে জমা রাখা হবে।

তাছাড়া আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালন ব্যয়ের আরও ২৫ শতাংশ অর্থ এসব সংস্থা সংরক্ষণ করতে পারবে।

ওই সংস্থার কর্মীদের পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও তারা সংরক্ষণ করবে। এরপর যে অর্থ বাকি থাকবে, সেটা সরকারের কোষাগারে জমা দেবে। অর্থাৎ ওনাদের বিপদে ফেলা হবে না, ওনাদের প্রয়োজনীয় অর্থ রেখে বাকিটা দেবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসনে ‘কোনো সমস্যা হবে না’ মন্তব্য করে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘আর্থিক ডিসিপ্লিনেও কোনো সমস্যা হবে না।

এটা হচ্ছে ওনাদের যে আইডল মানি আছে, তা সরকারের ইনভেস্টমেন্টে কাজে লাগানো। আইনি অধিকারও ক্ষুণ্ণ করা হয়নি, ওনাদের যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা তো সরকার দিচ্ছে।

পরিচালন ব্যয় হিসেবে কোন সংস্থা কত টাকা রাখবে, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে।’

২৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ২১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা (মে ২০১৯-এর তথ্য), পেট্রোবাংলার ১৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, পিডিবির ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা, রাজউকের ৪ হাজার ৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আছে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বাদ দিলে এ রকম ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা ইতোমধ্যে করা হয়েছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

এর মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ তালিকায় শিক্ষা বোর্ডগুলো রয়েছে।

তাদের অনেক অলস টাকা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্বৃত্ত ৪২৫ কোটি টাকা রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আকারে ছোট হলেও ধরনের দিক দিয়ে এ আইন হবে ‘সুপারসিডিং’।

অর্থাৎ, অন্যান্য কর্পোরেশনের আইনে যা-ই বলা থাকুক না কেন, তার ওপরও এ আইনের বিধান কার্যকর হবে।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ এম মিজান