ভর্তি পরীক্ষা ব্যাতিত ছাত্রলীগ নেতাদের ঢাবিতে ভর্তি এবং পরবর্তীতে ডাকসুর নেতা নির্বাচিত হওয়ায় মানববন্ধন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
রোববার প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী সংবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের আট নেতার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযুক্তরা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ায় নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তারা ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একটি সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিভিন্ন সম্পাদক ও সদস্য পদে মোট আটজন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন সাতজন। এছাড়াও অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন এফ রহমান হল সংসদের ভিপি।
সান্ধকালিন কোর্সে ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেও তাদের কেউই পরিক্ষায় অংশ নেননি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোসণার পর ছাত্রলীগের ৩৪ জন বর্তমান ও সাবেক নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমে ভর্তির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যাবে।
আবেদনকারীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এসব পরীক্ষার ফল, আগের একাডেমিক ফলাফল ও কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে সমন্বিত ফলাফল তৈরি করা হবে। ডাকসু নির্বাচনের আগে এই প্রোগ্রামের সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। ৩০ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় জানুয়ারিতে। আর এই ৩৪ শিক্ষার্থী ভর্তি হন ১১ ফেব্রয়ারি ডাকসুর তফসিল ঘোষণার পর।
‘পরীক্ষা ছাড়া ডাকসু নেতা আমাদের নেতা নয়’, ‘ডাকসু খায়া দিছে’, ‘ডাকসুর জালিয়াত, ঢাবি ছাড় ঢাবি ছাড়’, ‘এক দুই তিন চার, দালাল ভিসি গদি ছাড়’, ‘যে ডাকসু অছাত্রদের, সেই ডাকুস চাই না’ ইত্যাদি লেখা ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন তারা।
বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ


























