১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পেনশন মন্ত্রীর পদত্যাগ

ঢাকা: বেক্সিট নিয়ে যখন ব্রিটেনের রাজনীতি টালমাটাল ঠিক সে সময়ে পার্লামেন্ট থেকে ক্ষোভ নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটি পার্টির সিনিয়র সদস্য এবং ওয়ার্ক ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী আম্বার রুড। একই সঙ্গে নিজ দল থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। পার্লামেন্টে আম্বার রুড তার দলের হুইপ হিসেবেও কাজ করতেন।

শনিবার রাত ৯টা ১১ মিনিটে এক টুইট বার্তায় তিনি তার পদত্যাগের কারণসহ পদত্যাগপত্র সংযুক্ত করে টুইট করেন। সেখানে তিনি গত মঙ্গলবার পার্লামেন্ট থেকে ২১ জন এমপিকে বহিষ্কার এবং নো-ডিল ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কঠোর সিদ্ধান্তকে পদত্যাগের কারণ বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত পদত্যাগপত্রে আম্বার রুড উল্লেখ করেন, ‘আমি আপনার মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলাম একটি এমন বিশ্বাস নিয়ে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে আলোচনায় নো-ডিল থাকবে না। আর ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাবার সময় নতুন চুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের সর্বোত্তম সুযোগটি কাজে লাগাতে পারবো। যাই হোক, আমি বিশ্বাস করি না, কোনো চুক্তির মাধ্যমে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য আছে এই সরকার।’

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একজন সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদত্যাগে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শ্যাডো ব্রেক্সিট সেক্রেটারি স্যার কেইর স্টারমার। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, জনসনের সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিরোধী লেবার পার্টির চেয়ার ইয়ান লেভারী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘রুডের পদত্যাগ প্রমাণ করে কেউ জনসনের সরকারকে বিশ্বাস করছে না। খুব অল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন এবং তার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা খুবই লজ্জাজনকে হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।’

২০১০ সাল থেকে আম্বার রুড যুক্তরাজ্যের হেস্টিংস অ্যান্ড রেই এলাকার এমপি হিসেবে কাজ করছেন ৫৬ বছরের এই মহিলা। ২০১৬ সালে যখন ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোট হয়, তখন তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে ছিলেন।

তখন তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালে ‘উইন্ডরাস স্ক্যান্ডল ’-এর কারণে তিনি মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরে এক তদন্তে জানা যায়, তিনি তার অফিসের এক কর্মকর্তার পরামর্শে উইন্ডরাস স্ক্যান্ডলে জড়িয়ে পরেন। পরে ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে তাকে মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে আনা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে ২০১৬ সালে দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটে দেশটির অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেন। তবে তা করতে গিয়ে ব্রিটিশ এমপিদের সমালোচনার মুখে পড়ে সেই সময়ে পদত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন। এর পর থেরেসা মে ক্ষমতাগ্রহণ করার পর তিনিও বেক্সিট ইস্যু নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। এর পর ক্ষমতাগ্রহণ করেন বরিস জনসন। তবে এই ইস্যু নিয়ে তারও অবস্থা টালমাটাল।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

পেনশন মন্ত্রীর পদত্যাগ

প্রকাশিত : ০৫:০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকা: বেক্সিট নিয়ে যখন ব্রিটেনের রাজনীতি টালমাটাল ঠিক সে সময়ে পার্লামেন্ট থেকে ক্ষোভ নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটি পার্টির সিনিয়র সদস্য এবং ওয়ার্ক ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী আম্বার রুড। একই সঙ্গে নিজ দল থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। পার্লামেন্টে আম্বার রুড তার দলের হুইপ হিসেবেও কাজ করতেন।

শনিবার রাত ৯টা ১১ মিনিটে এক টুইট বার্তায় তিনি তার পদত্যাগের কারণসহ পদত্যাগপত্র সংযুক্ত করে টুইট করেন। সেখানে তিনি গত মঙ্গলবার পার্লামেন্ট থেকে ২১ জন এমপিকে বহিষ্কার এবং নো-ডিল ব্রেক্সিট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কঠোর সিদ্ধান্তকে পদত্যাগের কারণ বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত পদত্যাগপত্রে আম্বার রুড উল্লেখ করেন, ‘আমি আপনার মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলাম একটি এমন বিশ্বাস নিয়ে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যেতে আলোচনায় নো-ডিল থাকবে না। আর ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাবার সময় নতুন চুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের সর্বোত্তম সুযোগটি কাজে লাগাতে পারবো। যাই হোক, আমি বিশ্বাস করি না, কোনো চুক্তির মাধ্যমে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য আছে এই সরকার।’

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একজন সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদত্যাগে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শ্যাডো ব্রেক্সিট সেক্রেটারি স্যার কেইর স্টারমার। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, জনসনের সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিরোধী লেবার পার্টির চেয়ার ইয়ান লেভারী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘রুডের পদত্যাগ প্রমাণ করে কেউ জনসনের সরকারকে বিশ্বাস করছে না। খুব অল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন এবং তার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা খুবই লজ্জাজনকে হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।’

২০১০ সাল থেকে আম্বার রুড যুক্তরাজ্যের হেস্টিংস অ্যান্ড রেই এলাকার এমপি হিসেবে কাজ করছেন ৫৬ বছরের এই মহিলা। ২০১৬ সালে যখন ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোট হয়, তখন তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে ছিলেন।

তখন তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালে ‘উইন্ডরাস স্ক্যান্ডল ’-এর কারণে তিনি মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরে এক তদন্তে জানা যায়, তিনি তার অফিসের এক কর্মকর্তার পরামর্শে উইন্ডরাস স্ক্যান্ডলে জড়িয়ে পরেন। পরে ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে তাকে মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে আনা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে ২০১৬ সালে দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোটে দেশটির অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেন। তবে তা করতে গিয়ে ব্রিটিশ এমপিদের সমালোচনার মুখে পড়ে সেই সময়ে পদত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন। এর পর থেরেসা মে ক্ষমতাগ্রহণ করার পর তিনিও বেক্সিট ইস্যু নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। এর পর ক্ষমতাগ্রহণ করেন বরিস জনসন। তবে এই ইস্যু নিয়ে তারও অবস্থা টালমাটাল।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ