০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

পুলিশ কর্মকর্তা ‘অপরাধী’, বিচার নিয়ে সংশয় সেই গৃহবধূর

যশোরের শার্শায় পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সোর্স কর্তৃক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আসামি শনাক্তে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও সন্দিহান আইনজীবীরা। তবে মামলার তদন্ত সংস্থার দাবি, অপরাধী যেই হোক আইনের আওতায় আনা হবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ বাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হন দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ। তার অভিযোগ, স্থানীয় গোরপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম ও তার সোর্স কামরুল তাকে ধর্ষণ করে। এছাড়া লতিফ ও কাদের নামে আরো দু’জন সেসময় ঘরের বাইরে অবস্থান করছিল।

এ ঘটনায় মামলা হলে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এজাহারে প্রধান অভিযুক্ত এসআই খায়রুল আলমের নাম বাদ দেয়া হয়। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

স্থানীয়রা বলছেন, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতেই এজাহারে তার নাম রাখা হয়নি। তাদের দাবি, এর আগেও গোড়পাড়া ক্যাম্পের আরেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক হত্যার অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

নির্যাতিত গৃহবধূ বলেন, ‘এসআই আমার দিকে যেভাবে তাকিয়ে ছিল তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল আমাকে নাম বলতে না করছিল।’

এলাকাবাসীরা জানান, অপরাধী পুলিশ হলেও যেন পার না পায়।

অভিযোগ গ্রহণের আগেই পুলিশের পদক্ষেপ ন্যায় বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন যশোর বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট কো-অর্ডিনেটর এড. মোস্তফা হুমায়ুন কবীর।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান মিয়ার দাবি, অপরাধী যেই হোক সেটি বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ নেই, তদন্তে প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতোমধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। অপরাধী শনাক্তে গ্রেফতার তিনজনের ডিএনএ টেস্টের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। একইসঙ্গে আদালত থেকে তিনদিনের রিমান্ডে রয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

পুলিশ কর্মকর্তা ‘অপরাধী’, বিচার নিয়ে সংশয় সেই গৃহবধূর

প্রকাশিত : ০২:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যশোরের শার্শায় পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সোর্স কর্তৃক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আসামি শনাক্তে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়েও সন্দিহান আইনজীবীরা। তবে মামলার তদন্ত সংস্থার দাবি, অপরাধী যেই হোক আইনের আওতায় আনা হবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ বাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হন দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ। তার অভিযোগ, স্থানীয় গোরপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম ও তার সোর্স কামরুল তাকে ধর্ষণ করে। এছাড়া লতিফ ও কাদের নামে আরো দু’জন সেসময় ঘরের বাইরে অবস্থান করছিল।

এ ঘটনায় মামলা হলে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এজাহারে প্রধান অভিযুক্ত এসআই খায়রুল আলমের নাম বাদ দেয়া হয়। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে আছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

স্থানীয়রা বলছেন, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বাঁচাতেই এজাহারে তার নাম রাখা হয়নি। তাদের দাবি, এর আগেও গোড়পাড়া ক্যাম্পের আরেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক হত্যার অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

নির্যাতিত গৃহবধূ বলেন, ‘এসআই আমার দিকে যেভাবে তাকিয়ে ছিল তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল আমাকে নাম বলতে না করছিল।’

এলাকাবাসীরা জানান, অপরাধী পুলিশ হলেও যেন পার না পায়।

অভিযোগ গ্রহণের আগেই পুলিশের পদক্ষেপ ন্যায় বিচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন যশোর বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট কো-অর্ডিনেটর এড. মোস্তফা হুমায়ুন কবীর।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার আতিকুর রহমান মিয়ার দাবি, অপরাধী যেই হোক সেটি বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ নেই, তদন্তে প্রমাণিত হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতোমধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষায় গৃহবধূকে গণধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। অপরাধী শনাক্তে গ্রেফতার তিনজনের ডিএনএ টেস্টের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। একইসঙ্গে আদালত থেকে তিনদিনের রিমান্ডে রয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ