০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লামায় মা-শিশুর যত্ন ও জনসংখ্যা বিষয়ক উঠান বৈঠক

বান্দরবানের লামায় তথ্য অফিসের আয়োজনে “প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশুর যত্ন এবং জনসংখ্যা বিষয়ক কথামালা” নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উঠান বৈঠকে বিষয়বস্তু তুলে ধরে মূল আলোচনা রাখেন লামা তথ্য অফিসার মো. রুহুল আমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলিঙ্গাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি বড়ুয়া।এসময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, লামা সাংবাদিক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক, জাহিদ হাসান।বিদ্যালয়ের শিক্ষক সবলচন্দ্র মাল্লিক, মোহাম্মদ ইউছুফ,আয়শা আক্তার,সমির হোসেনসহ প্রমূখ।লিখিত বক্তব্যে লামা তথ্য অফিসার গর্ভবতী মায়ের যত্ন, শিশুর যত্ন ও জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। গর্ভবতী মায়ের যত্ন বিষয়ে বলেন, ১৮ বছরের আগে কোন মেয়ের বিয়ে না এবং ২০ বছরের আগে ও ৩৫ বছরের পরে সন্তান নয়, ২০ বছরের পূর্বে ও ৩৫ বছরের পরে গর্ভধারণ মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, ২০ বছর থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে সন্তান নিতে হবে- এ বয়স সন্তান ধারণের উপযুক্ত সময়। কন্যা সন্তানের জন্য মা নয় বাবাই দায়ী, গর্ভাবস্থায় মাকে উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার যথেষ্ট বিশ্রাম ও মানসিক শান্তিতে রাখা দরকার, গর্ভাবস্থায় ৪-৮ মাসের মধ্যে মাকে ২ ডোজ টিটি টিকা দিয়ে মা ও শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে হবে এবং গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে ৩ বার মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে পরীক্ষা (চেকআপ) করাতে হবে, কেবলমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাই অথবা হাসপাতালে ডেলিভারী করাতে হবে, গভাবস্থায় বা প্রসবকালীন সময়ে যদি প্রচন্ড মাথা ব্যথা, খিচুনী, ভীষণ জ্বর, অতিরিক্ত রক্তকরণ, পা ফুলে পানি আসে অথবা ১২ ঘন্টার বেশী সময়ে সন্তান প্রসব না হয় এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, প্রসবকালীন আপদ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও যানবাহন প্রস্তুত রাখতে হবে, নিরাপদ মাতৃত্ব নারীর অধিকার ইহা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলে, যৌন সঙ্গমে সংযমী না হলে এইডস, সিফিলিস ও গণোরিয়ার মত মারাত্বক রোগ হতে পারে, নারীরাও মানুষ তাদের অধিকারের প্রতি সহানুভূতিশীল হউন।

শিশুর যত্ন বিষয়ে বলেন, জন্মের আধঘন্টা পর শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। মায়ের প্রথম শাল দুধ শিশুর জন্য খুবই উপকারী এবং রোগ প্রতিরোধ সহায়ক, জন্মের পর থেকে শুরু করে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে এবং এ সময় কোন পানিরও প্রয়োজন হয়না, মায়ের দুধ শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার, ৬ মাস পর অন্যান্য খাবার দিতে হবে, জন্মের পর ৬ সপ্তাহ থেকে শুরু করে ৫২ সপ্তাহের মধ্যে টিকা দিয়ে হাম, পোলিও যক্ষা, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশির মত মারাত্বক ৬টি রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করে-শিশুর বিকাশ সহায়তা করুন, ছেলে ও মেয়ে উভয়ের অধিকার সমান মেয়ে সন্তানের প্রতি সদয় হউন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ- তাই শিশুর যত্ন নেওয়া আবশ্য, মা ও শিশুর যত্ন নিন আর মৃত্যুর হাত থেকে তাদের বাঁচিয়ে রাখুন।

জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে বলেন, জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য হুমকি স্বরূপ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে এগিয়ে আসুন এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে সহায়তা করুন, একজন মহিলার পক্ষে ৩ এর অধিক সন্তান জন্মদান ঝুঁকিপূর্ণ এবং এক সন্তানের পর পরবর্তী সন্তানের গর্ভধারণের জন্য কমপক্ষে ২ বছর বিরতির প্রয়োজন, বেশী সন্তান নয়, ছেলে হউক মেয়ে হউক- দুটি সন্তানই যথেষ্ট, পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করুণ, পরিবার ছোট রাখুন, ছোট পরিবার সুখ শান্তির পরিবার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

লামায় মা-শিশুর যত্ন ও জনসংখ্যা বিষয়ক উঠান বৈঠক

প্রকাশিত : ০৩:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বান্দরবানের লামায় তথ্য অফিসের আয়োজনে “প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশুর যত্ন এবং জনসংখ্যা বিষয়ক কথামালা” নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উঠান বৈঠকে বিষয়বস্তু তুলে ধরে মূল আলোচনা রাখেন লামা তথ্য অফিসার মো. রুহুল আমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলিঙ্গাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি বড়ুয়া।এসময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, লামা সাংবাদিক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক, জাহিদ হাসান।বিদ্যালয়ের শিক্ষক সবলচন্দ্র মাল্লিক, মোহাম্মদ ইউছুফ,আয়শা আক্তার,সমির হোসেনসহ প্রমূখ।লিখিত বক্তব্যে লামা তথ্য অফিসার গর্ভবতী মায়ের যত্ন, শিশুর যত্ন ও জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। গর্ভবতী মায়ের যত্ন বিষয়ে বলেন, ১৮ বছরের আগে কোন মেয়ের বিয়ে না এবং ২০ বছরের আগে ও ৩৫ বছরের পরে সন্তান নয়, ২০ বছরের পূর্বে ও ৩৫ বছরের পরে গর্ভধারণ মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, ২০ বছর থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে সন্তান নিতে হবে- এ বয়স সন্তান ধারণের উপযুক্ত সময়। কন্যা সন্তানের জন্য মা নয় বাবাই দায়ী, গর্ভাবস্থায় মাকে উপযুক্ত পুষ্টিকর খাবার যথেষ্ট বিশ্রাম ও মানসিক শান্তিতে রাখা দরকার, গর্ভাবস্থায় ৪-৮ মাসের মধ্যে মাকে ২ ডোজ টিটি টিকা দিয়ে মা ও শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে হবে এবং গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে ৩ বার মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে পরীক্ষা (চেকআপ) করাতে হবে, কেবলমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাই অথবা হাসপাতালে ডেলিভারী করাতে হবে, গভাবস্থায় বা প্রসবকালীন সময়ে যদি প্রচন্ড মাথা ব্যথা, খিচুনী, ভীষণ জ্বর, অতিরিক্ত রক্তকরণ, পা ফুলে পানি আসে অথবা ১২ ঘন্টার বেশী সময়ে সন্তান প্রসব না হয় এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, প্রসবকালীন আপদ বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও যানবাহন প্রস্তুত রাখতে হবে, নিরাপদ মাতৃত্ব নারীর অধিকার ইহা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলে, যৌন সঙ্গমে সংযমী না হলে এইডস, সিফিলিস ও গণোরিয়ার মত মারাত্বক রোগ হতে পারে, নারীরাও মানুষ তাদের অধিকারের প্রতি সহানুভূতিশীল হউন।

শিশুর যত্ন বিষয়ে বলেন, জন্মের আধঘন্টা পর শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। মায়ের প্রথম শাল দুধ শিশুর জন্য খুবই উপকারী এবং রোগ প্রতিরোধ সহায়ক, জন্মের পর থেকে শুরু করে ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে এবং এ সময় কোন পানিরও প্রয়োজন হয়না, মায়ের দুধ শিশুর শ্রেষ্ঠ খাবার, ৬ মাস পর অন্যান্য খাবার দিতে হবে, জন্মের পর ৬ সপ্তাহ থেকে শুরু করে ৫২ সপ্তাহের মধ্যে টিকা দিয়ে হাম, পোলিও যক্ষা, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশির মত মারাত্বক ৬টি রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করে-শিশুর বিকাশ সহায়তা করুন, ছেলে ও মেয়ে উভয়ের অধিকার সমান মেয়ে সন্তানের প্রতি সদয় হউন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ- তাই শিশুর যত্ন নেওয়া আবশ্য, মা ও শিশুর যত্ন নিন আর মৃত্যুর হাত থেকে তাদের বাঁচিয়ে রাখুন।

জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে বলেন, জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য হুমকি স্বরূপ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে এগিয়ে আসুন এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে সহায়তা করুন, একজন মহিলার পক্ষে ৩ এর অধিক সন্তান জন্মদান ঝুঁকিপূর্ণ এবং এক সন্তানের পর পরবর্তী সন্তানের গর্ভধারণের জন্য কমপক্ষে ২ বছর বিরতির প্রয়োজন, বেশী সন্তান নয়, ছেলে হউক মেয়ে হউক- দুটি সন্তানই যথেষ্ট, পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করুণ, পরিবার ছোট রাখুন, ছোট পরিবার সুখ শান্তির পরিবার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান