০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভালুকায় শেষ মুহূর্তে উত্তাপ, বিএনপি-স্বতন্ত্রের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী উত্তাপ। কথার লড়াই পেরিয়ে ভোটের লড়াইয়ে এখন সরাসরি মুখোমুখি বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বাস্তব চিত্রে এ আসনের লড়াই গড়াচ্ছে মূলত বিএনপি-স্বতন্ত্রের দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায়।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ (বাচ্চু) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, যার প্রতীক হরিণ। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম শাপলাকলি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মোস্তফা কামাল হাতপাখা এবং গণ অধিকার পরিষদের আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ ট্রাক প্রতীকে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

প্রচার-প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ভোটের সমীকরণ নতুন করে হিসাব করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী-উভয় পক্ষই নিজেদের এগিয়ে থাকার দাবি করলেও সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আগাম উল্লাসে ভাটা পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দু’পক্ষই রয়েছে তীব্র স্নায়ুচাপে। শেষ মুহূর্তে কারো পক্ষেই ‘অতি আত্মবিশ্বাস’ দেখানোর সুযোগ নেই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভালুকায় দলটির নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের একটি অংশ ভোট দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ভোট কার দিকে বেশি যাবে-তা নিয়েই চলছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যিনি বেশি টানতে পারবেন, জয়ের দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন।

নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ভালুকা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৭টি। এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলা আলাদা কেন্দ্র রয়েছে ১৪টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ৯৩টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার শুরু থেকেই সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করলেও ফ্যাসিবাদী শক্তি জোর করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আমার জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে চায়। আমি শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ বিজয় সুনিশ্চিত।

সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে ভালুকা আসনের নির্বাচন রূপ নিয়েছে এক অনিশ্চিত ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে। ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন পুরো এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বাধীনতার স্বপক্ষ এবং তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন তারেক রহমান- আসলাম চৌধুরী

ভালুকায় শেষ মুহূর্তে উত্তাপ, বিএনপি-স্বতন্ত্রের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

প্রকাশিত : ০২:২০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী উত্তাপ। কথার লড়াই পেরিয়ে ভোটের লড়াইয়ে এখন সরাসরি মুখোমুখি বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বাস্তব চিত্রে এ আসনের লড়াই গড়াচ্ছে মূলত বিএনপি-স্বতন্ত্রের দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায়।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ (বাচ্চু) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, যার প্রতীক হরিণ। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম শাপলাকলি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মোস্তফা কামাল হাতপাখা এবং গণ অধিকার পরিষদের আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ ট্রাক প্রতীকে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

প্রচার-প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ভোটের সমীকরণ নতুন করে হিসাব করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী-উভয় পক্ষই নিজেদের এগিয়ে থাকার দাবি করলেও সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আগাম উল্লাসে ভাটা পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দু’পক্ষই রয়েছে তীব্র স্নায়ুচাপে। শেষ মুহূর্তে কারো পক্ষেই ‘অতি আত্মবিশ্বাস’ দেখানোর সুযোগ নেই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভালুকায় দলটির নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের একটি অংশ ভোট দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ভোট কার দিকে বেশি যাবে-তা নিয়েই চলছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যিনি বেশি টানতে পারবেন, জয়ের দৌড়ে তিনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন।

নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ভালুকা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৭টি। এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলা আলাদা কেন্দ্র রয়েছে ১৪টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ৯৩টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন। সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রচারণার শুরু থেকেই সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করলেও ফ্যাসিবাদী শক্তি জোর করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আমার জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এবার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে চায়। আমি শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ বিজয় সুনিশ্চিত।

সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে এসে ভালুকা আসনের নির্বাচন রূপ নিয়েছে এক অনিশ্চিত ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে। ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে এখন পুরো এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গন।

ডিএস./