বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, “আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। জীবনের দীর্ঘ ৪২টি বছর আপনাদের সুখে-দুঃখে কাটিয়েছি। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে আপনাদের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অসহায় ও নিরন্ন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার আমাকে বিভিন্ন সময় প্রায় ৯ বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি করে রেখেছিল। কারাগারে ফাঁসির আসামিদের সেলে রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। সাতকানিয়া-লোহাগাড়াবাসী থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল।
শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৩৬ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। আজ দেশ ও জাতির জন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি জানান, ন্যায়, ইনসাফ, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১টি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সারাদেশের মানুষ আজ একটি কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধ।
সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, “আমি অতীতের মতোই আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। অবহেলিত সাতকানিয়া-লোহাগাড়াকে একটি আদর্শিক মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় একটি ভোট ভিক্ষা চাই।
তিনি সোমবার বিকেলে সাতকানিয়া হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী মিছিলোত্তর জন সমাবেশে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসহাক, কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক মোঃ নুরুল আমিন, লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী,নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী, সেক্রেটারি মাওলানা অধ্যক্ষ আ ন ম নোমান
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম,সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডক্টর হেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ নোমান,সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান,
পলিটিক্যাল সেক্রেটারী মাওলানা আবুল ফয়েজ, শ্রমিক নেতা মাওলানা নুর হোসাইন,শ্রমিক নেতা মোঃ মহসিন, সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন,সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী,সাতকানিয়া জামায়াতের আমীর মাওলানা কামাল উদ্দিন,সাবেক আমীর ডাক্তার নুরুল হক,লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস লোহাগাড়া পূজা পরিষদের উপদেষ্টা মাস্টার প্রদীপ কুমার দাস,হিন্দু ও বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি পলাশ দাশ,লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আফসার,দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সূরা সদস্য এম ওয়াজাদেদ আলী,সাতকানিয়া জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুস সোবাহান,সেক্রেটারী তারেক হোসাইন, সাতকানিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দিন আজাদ,নায়েবে আমীর শাহ আলম, সেক্রেটারী মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম,মাদার্শা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা নুরুল আলম,বড়হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা এমডি জুনায়েদ,
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি আসিফ উল্লাহ আরমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এদিকে লোহাগাড়ায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে মিছিল ও সমাবেশ। দুই উপজেলার মিছিলে লাখো জনতা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েব আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন,সাতকানিয়া লোহাগাড়া হচ্ছে আলেম ওলামাদের ময়দান। এখানে আমরা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে বসবাস করি। আমরা সাতকানিয়া লোহাগাডাকে নিরাপদ করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছি।শাহজাহান চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হলে শান্তি-শৃংখলা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মডেল এলাকায় পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি সকলকে দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।
ডিএস./























