০৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোমরা বন্দরে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুদ থাকলেও অসহায় বন্দর কর্তৃপক্ষ

সারা দেশে যখন পিয়াজের ঝাঝে অস্থির ঠিক সেই মুহুর্তে সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানীকারকদের নিকট পর্যাপ্ত পিয়াজের মজুদ থাকলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নিকট অসহায় হয়ে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পিয়াজ আমদানিতে শুল্কমুক্ত থাকায় অসাধুচক্র ভর করেছে পিয়াজের ঝাঝে।

সরেজিমন মঙ্গলবার ভোমরা স্থলবন্দরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পন্য খালাসের অপেক্ষায় বন্দরের ওয়্যারহাউজের মধ্যে ১৪টি ভারতীয় ট্রাক গত ৮ দিন যাবৎ অবস্থান করলেও আমদানীকারক চালানের কাগজপত্র নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। যার প্রতিটি ট্রাকে সাড়ে ২৫ টন করে পিয়াজ রয়েছে বলে ভারতীয় গাড়িচালক সুশান্ত সিং ও ললিন নায়ক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তারা আরো জানিয়েছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পিয়াজ বোঝাই ট্রাক নিয়ে রাস্তায় ৫ দিন ও বন্দরের ওপারে ঘোজাডাঙ্গায় ৪ দিন এবং ওয়্যারহাউজে ৮ দিন অবস্থান করছেন। এদিকে অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, ভারতীয় পিয়াজ আমদানীকারক ব্যবসায়ীরা সরাসরি এলসি’র মাধ্যমে আমদানী পিয়াজ আনতে না পারায় অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে। কেননা পিয়াজের শুল্কমুক্ত থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নিজেরাই প্রতিনিধি ঠিক করে বন্দরে ঘর নিয়ে কমিশনে ব্যবসা করে। ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করছে ঠিক সেই ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পিয়াজের বাজার। অনুসন্ধানে দেখা যায় বন্দরের সবচেয়ে বেশি পিয়াজের চালান প্রেরণ করে ভারতের ভুট্টো নামের এক ব্যবসায়ী। একই ভাবে পঙ্কজ, খোরশেদ, আজাদ সহ একাধিক ব্যবসায়ী। ভারতে থেকে বাংলাদেশে পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পিয়াজ মজুদ করছে।

এদিকে এ বিষয়ে ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, শুল্কমুক্ত পন্য পিয়াজ। যে কারণে ব্যবসায়ীদের সাথে সিএন্ডএফ এজেন্টদের কোন সম্পর্ক নেই। তারা নিজেরাই প্রতিনিধি ঠিক করে ইচ্ছা খুশীমতো পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এর হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য পিয়াজের উপর শুল্ক নির্ধারণ করলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিএন্ডএফ এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাছাড়া পিয়াজের শুল্ক নির্ধারণ করলে ভারতীয় পিয়াজের চাহিদা নেমে আসবে। ফলে দেশীয় পিয়াজ চাষীরা পিয়াজ উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। এদিকে ভোমরা বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শেখ এনাম হোসেন জানিয়েছেন, পিয়াজ আমদানীতে লিখিত কোন নির্দেশনা তিনি পাননি। সেহেতু পিয়াজ আমদানীতে নিষেধাজ্ঞা নেই। এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের নিকট ভোমরা বন্দরে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুদ থাকার কথা জানানো হলে তিনি জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মজুদকৃত পিয়াজ বাজারে সরবরাহ করতে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রংপুরে ভোটের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার

ভোমরা বন্দরে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুদ থাকলেও অসহায় বন্দর কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত : ০৮:১৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০১৯

সারা দেশে যখন পিয়াজের ঝাঝে অস্থির ঠিক সেই মুহুর্তে সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানীকারকদের নিকট পর্যাপ্ত পিয়াজের মজুদ থাকলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নিকট অসহায় হয়ে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পিয়াজ আমদানিতে শুল্কমুক্ত থাকায় অসাধুচক্র ভর করেছে পিয়াজের ঝাঝে।

সরেজিমন মঙ্গলবার ভোমরা স্থলবন্দরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পন্য খালাসের অপেক্ষায় বন্দরের ওয়্যারহাউজের মধ্যে ১৪টি ভারতীয় ট্রাক গত ৮ দিন যাবৎ অবস্থান করলেও আমদানীকারক চালানের কাগজপত্র নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। যার প্রতিটি ট্রাকে সাড়ে ২৫ টন করে পিয়াজ রয়েছে বলে ভারতীয় গাড়িচালক সুশান্ত সিং ও ললিন নায়ক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তারা আরো জানিয়েছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পিয়াজ বোঝাই ট্রাক নিয়ে রাস্তায় ৫ দিন ও বন্দরের ওপারে ঘোজাডাঙ্গায় ৪ দিন এবং ওয়্যারহাউজে ৮ দিন অবস্থান করছেন। এদিকে অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, ভারতীয় পিয়াজ আমদানীকারক ব্যবসায়ীরা সরাসরি এলসি’র মাধ্যমে আমদানী পিয়াজ আনতে না পারায় অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে। কেননা পিয়াজের শুল্কমুক্ত থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নিজেরাই প্রতিনিধি ঠিক করে বন্দরে ঘর নিয়ে কমিশনে ব্যবসা করে। ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করছে ঠিক সেই ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পিয়াজের বাজার। অনুসন্ধানে দেখা যায় বন্দরের সবচেয়ে বেশি পিয়াজের চালান প্রেরণ করে ভারতের ভুট্টো নামের এক ব্যবসায়ী। একই ভাবে পঙ্কজ, খোরশেদ, আজাদ সহ একাধিক ব্যবসায়ী। ভারতে থেকে বাংলাদেশে পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে পিয়াজ মজুদ করছে।

এদিকে এ বিষয়ে ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, শুল্কমুক্ত পন্য পিয়াজ। যে কারণে ব্যবসায়ীদের সাথে সিএন্ডএফ এজেন্টদের কোন সম্পর্ক নেই। তারা নিজেরাই প্রতিনিধি ঠিক করে ইচ্ছা খুশীমতো পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এর হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য পিয়াজের উপর শুল্ক নির্ধারণ করলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিএন্ডএফ এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাছাড়া পিয়াজের শুল্ক নির্ধারণ করলে ভারতীয় পিয়াজের চাহিদা নেমে আসবে। ফলে দেশীয় পিয়াজ চাষীরা পিয়াজ উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। এদিকে ভোমরা বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শেখ এনাম হোসেন জানিয়েছেন, পিয়াজ আমদানীতে লিখিত কোন নির্দেশনা তিনি পাননি। সেহেতু পিয়াজ আমদানীতে নিষেধাজ্ঞা নেই। এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামালের নিকট ভোমরা বন্দরে পর্যাপ্ত পিয়াজ মজুদ থাকার কথা জানানো হলে তিনি জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মজুদকৃত পিয়াজ বাজারে সরবরাহ করতে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান