নূর হোসেন তাঁর টগবগে যৌবনে মিছিলে গিয়েছিলেন। এই মিছিল ছিল মানুষের মুক্তির মিছিল, স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণমানুষের মুক্তির মিছিল। মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য দুঃসাহসী নূর হোসেন বুকে-পিঠে মানুষের মুক্তির কথা লিখে জানিয়ে দিয়েছিলেন “বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়”। আজ মঙ্গলবার সন্ধা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে নূর হোসেনকে নিবেদিত “বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়” শীর্ষক আবৃত্তি পরিবেশিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি কেন্দ্রীক আবৃত্তি সংগঠন ‘জলার্ক’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি হেলাল হাফিজ। স্মৃতিচারণ করতে আসেন নূর হোসনেরে ছোট বোন শাহানা বেগম। হেলাল হাফিজ বলেন, ‘সমাজের এখন এমন অবস্থা চলছে যে, কেউ এই ধরণের ভালো কিছু করলেও সাধুবাদ জানাতে কার্পণ্য করি আমরা।
এর জন্য শুধু পুঁজিবাদ দায়ী নয়, আমাদের সমাজের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনীতিবীদ, রাজনীতিবীদ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরাও আজ নিজেকে বিকিয়ে দিচ্ছে। কেউ নিজের কাজ করছে না বলেই এই অবস্থা। সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে প্রয়োজন শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার’ ।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শাহানা বেগম বলেন,‘সে (নূর হোসেন) দেশের জন্য কি করেছে, কিভাবে করেছে সবাই জানেন। আমরা গরীব হলেও আমার ভাইয়ের মন ছিলো অনেক বড়। তার ছোট বোন বলে আমি গর্ববোধ করি। আমার বাবাও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গর্বের সাথে চলেছে।’ অনুষ্ঠানে ছিলো একক ও দলীয় আবৃত্তি।
একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন, আবৃত্তি শিল্পী মীর বরকত, মাকসুর-এ-সাত্তার কল্লোল, আহসান উল্লাহ তমাল, এনামুল হক বাবু, তামান্না তিথি, হাম্মাদ সোহাগ, শফিকুল ইসলাম, তাসমিয়া আফরিন। এসময় তারা রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শামসুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা আবৃত্তি করেন। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন, স্বরশ্রুতি, বৈকুন্ঠ আবৃত্তি একাডেমী, চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদ এবং জলার্ক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আবৃত্তি সংগঠনের সদ্যরাসহ জলার্ক’র শতাধীক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।


























