০৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বুয়েটের প্রথম ধাপের ভর্তি পরীক্ষা শেষ

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে প্রথম ধাপের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

এর আগে সোমবার সকাল ৯টায় শুরু প্রথম ধাপের ভর্তি পরীক্ষা। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা দুপুরে ২টায় শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এ বছর ১২টি বিভাগে ১ হাজার ৬০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন ১২ হাজার ১৬১ প্রার্থী। দুই শিফটে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন ভর্তিচ্ছুরা। পরীক্ষার ১২ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।

ভর্তি কমিটি সূত্র জানিয়েছে, এ বছর ভর্তির জন্য ১৬ হাজার ২৮৮টি আবেদন পড়েছিল। তার মধ্যে থেকে ১২ হাজার ১৬১ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আট হাজার ৮৯৬ জন ছাত্র ও তিন হাজার ২৬৫ জন ছাত্রী।

আর মেধা অনুযায়ী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন এক হাজার ৬০ জন। এরমধ্যে এক হাজার পাঁচজন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ও ৫৫ জন আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন।

আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তির জন্য দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় ড্রয়িং পরীক্ষা দিতে হবে।

গত শনিবার একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে নির্ধারিত সময়েই বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। রাতেই আসন বিন্যাসসহ দাফতরিক নানা কাজ সম্পন্ন করেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটি।

রোববার দুপুরে ভর্তি পরীক্ষায় নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, এত বাধার মধ্যেও আমরা ভর্তি পরীক্ষার যে কাজগুলো ছিল সেগুলো শেষ করতে পেরেছি। আমাদের পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল ৫ অক্টোবর।

কিন্তু ভর্তিচ্ছুদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা পূজার শেষে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরাও আমাদের সহায়তা করবেন।

বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ভর্তি পরীক্ষার জন্য যে কাজগুলো বাকি ছিল শনিবার দুপুর থেকেই সেগুলো আমরা শুরু করেছি। রোববার রাতের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।

প্রশ্ন তৈরিসহ প্রাথমিক কাজ আমরা আগেই শেষ করেছি। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আগামীকাল পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

জানা গেছে, যানজট এড়াতে সব পরীক্ষার্থীকে সকাল ৮টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুয়েট ক্যাম্পাসে দুই শিফটে ১০ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা হবে। ক্যাম্পাসের মূল গেইটের সামনেই ভর্তি পরীক্ষার সিট প্ল্যান বড় ব্যানারে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে বুয়েটে ভর্তির আবেদন শুরু হয় ৩১ আগস্ট। আবেদন ও ভর্তি ফি প্রদানের শেষ দিন ছিল ৯ সেপ্টেম্বর।

ভর্তি পরীক্ষার যোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয় ১৮ সেপ্টেম্বর। ভর্তি পরীক্ষার ফল ২৬ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে।

বুয়েটে রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগে ৬০, ধাতব প্রকৌশলে ৫০, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৯৫, পানি সম্পদ প্রকৌশলে ৩০, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৮০, নৌ স্থাপত্য ও সামুদ্রিক প্রকৌশলে ৫৫, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশলে ৩০, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে ১৯৫, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে ১২০, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩০, স্থাপত্য বিভাগে ৫৫ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে ৩০টি আসন রয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রথম ১২ হাজার জনকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

৫ অক্টোবর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে।

এ ঘটনায় আবরার হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। টানা আন্দোলন চলা অবস্থায় শনিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সেখানে শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসের পর শনিবার দুপুরে ভর্তিচ্ছুদের কথা বিবেচনা করে ১৩-১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল করে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বুয়েটের প্রথম ধাপের ভর্তি পরীক্ষা শেষ

প্রকাশিত : ০৩:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে প্রথম ধাপের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

এর আগে সোমবার সকাল ৯টায় শুরু প্রথম ধাপের ভর্তি পরীক্ষা। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা দুপুরে ২টায় শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এ বছর ১২টি বিভাগে ১ হাজার ৬০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন ১২ হাজার ১৬১ প্রার্থী। দুই শিফটে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন ভর্তিচ্ছুরা। পরীক্ষার ১২ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।

ভর্তি কমিটি সূত্র জানিয়েছে, এ বছর ভর্তির জন্য ১৬ হাজার ২৮৮টি আবেদন পড়েছিল। তার মধ্যে থেকে ১২ হাজার ১৬১ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আট হাজার ৮৯৬ জন ছাত্র ও তিন হাজার ২৬৫ জন ছাত্রী।

আর মেধা অনুযায়ী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন এক হাজার ৬০ জন। এরমধ্যে এক হাজার পাঁচজন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ও ৫৫ জন আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন।

আর্কিটেকচার বিভাগে ভর্তির জন্য দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় ড্রয়িং পরীক্ষা দিতে হবে।

গত শনিবার একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে নির্ধারিত সময়েই বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। রাতেই আসন বিন্যাসসহ দাফতরিক নানা কাজ সম্পন্ন করেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটি।

রোববার দুপুরে ভর্তি পরীক্ষায় নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, এত বাধার মধ্যেও আমরা ভর্তি পরীক্ষার যে কাজগুলো ছিল সেগুলো শেষ করতে পেরেছি। আমাদের পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল ৫ অক্টোবর।

কিন্তু ভর্তিচ্ছুদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা পূজার শেষে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরাও আমাদের সহায়তা করবেন।

বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ভর্তি পরীক্ষার জন্য যে কাজগুলো বাকি ছিল শনিবার দুপুর থেকেই সেগুলো আমরা শুরু করেছি। রোববার রাতের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।

প্রশ্ন তৈরিসহ প্রাথমিক কাজ আমরা আগেই শেষ করেছি। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আগামীকাল পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

জানা গেছে, যানজট এড়াতে সব পরীক্ষার্থীকে সকাল ৮টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুয়েট ক্যাম্পাসে দুই শিফটে ১০ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা হবে। ক্যাম্পাসের মূল গেইটের সামনেই ভর্তি পরীক্ষার সিট প্ল্যান বড় ব্যানারে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে বুয়েটে ভর্তির আবেদন শুরু হয় ৩১ আগস্ট। আবেদন ও ভর্তি ফি প্রদানের শেষ দিন ছিল ৯ সেপ্টেম্বর।

ভর্তি পরীক্ষার যোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয় ১৮ সেপ্টেম্বর। ভর্তি পরীক্ষার ফল ২৬ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে।

বুয়েটে রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগে ৬০, ধাতব প্রকৌশলে ৫০, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৯৫, পানি সম্পদ প্রকৌশলে ৩০, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৮০, নৌ স্থাপত্য ও সামুদ্রিক প্রকৌশলে ৫৫, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশলে ৩০, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে ১৯৫, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে ১২০, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩০, স্থাপত্য বিভাগে ৫৫ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে ৩০টি আসন রয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রথম ১২ হাজার জনকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

৫ অক্টোবর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে।

এ ঘটনায় আবরার হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। টানা আন্দোলন চলা অবস্থায় শনিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সেখানে শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসের পর শনিবার দুপুরে ভর্তিচ্ছুদের কথা বিবেচনা করে ১৩-১৪ অক্টোবর আন্দোলন শিথিল করে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান