১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও ১২তম গ্রেড: ক্ষুব্ধ নন ক্যাডাররা

বিসিএস এ ক্যাডার প্রাপ্তদের দেওয়া হচ্ছে প্রথম শ্রেণি। কিন্তু, বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি (নন-ক্যাডার) তাদের ভাগ্যে জুটছে না তা। একই বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়েও অনেককেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণির পদে। তার ওপর, কিছু কিছু প্রার্থী পাচ্ছে একেবারে ১২তম গ্রেড!

নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। অন্যান্য প্রার্থীদের ৯ম ও ১০ম গ্রেড দিয়ে আবার এইসকল প্রার্থীদেরকে ১২তম গ্রেড! বিষয়টাকে মারাত্মক অনিয়ম, বৈষম্য ও অন্যায় হিসেবে দেখছেন অনেক প্রার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ১২তম গ্রেডে সুপারিশ প্রাপ্ত এক ক্ষুব্ধ প্রার্থী জানান, ‘এটা একটা অনিয়ম। অন্যায়। আইন অনুসারে, নন–ক্যাডারে নবম ও দশম গ্রেড ছাড়া নিয়োগ দিতে পারে না পিএসসি। তা সত্ত্বেও ১২তম গ্রেড দিয়ে আমাদের প্রাইমারী ‘স্কুলের স্যার’ বানিয়ে অপমান করছে পিএসসি।’

এদিকে, পিএসসি সুত্রে জানা গেছে, ‘গ্রেড সমস্যা সমাধান করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটা আমাদের কাজ না।’

উল্লেখ্য, গত ৩৪তম বিসিএস এর ৮৯৮ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। পদটি ১২তম গ্রেডের। এই অভিযোগে অনেক প্রার্থী যোগদান করেননি এই পদে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ৩৪তম থেকে পিএসপির সুপারিশ করা ৮৯৮ জনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চাকরিতে যোগ দেন নি এখনো।

তার ওপর, ৩৬তম বিসিএস এর ৩,৩০৮ জন নন-ক্যাডার থেকেও প্রাথমিকে নিয়োগ দান প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যে ৩৬তম বিসিএসে ৩ হাজার ৩০৮ জনকে নন–ক্যাডার হিসেবে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে জানান, ‘প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি আছে প্রায় ২০,০০০। এগুলোতে নিয়োগ দিতে আমরা পিএসসিকে চিঠি দিয়েছি। পিএসসি নিয়োগ দিচ্ছে। গ্রেড সমস্যার বিষয়টা আমার হাতে নেই। এটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে। আমরা সেখানেও চিঠি দিয়েছি। আশা করি ওরাই ঠিক করে দেবে।’

উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদটিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেতন নির্ধারণের সময় এটাকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য ১১তম ও প্রশিক্ষণবিহীনদের জন্য ১২তম গ্রেড প্রদান করে।

এখন বিসিএস এ উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকেও এই ১২তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ১,৩০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে লাখ লাখ প্রার্থীদের থেকে মধ্য থেকে উত্তীর্ণ হয়ে পাইতেছি ১২তম গ্রেড। এদিকে কলেজের মাস্টাররা কোনো প্রকার বিসিএস পরীক্ষা টরীক্ষা না দিয়েই ফার্স্ট ক্লাস। এটা অন্যায়!’তিনি কলেজের মাস্টার বলতে বেসরকারি থেকে সরকারিতে উন্নীত কলেজের শিক্ষকদের বুঝিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও ১২তম গ্রেড: ক্ষুব্ধ নন ক্যাডাররা

প্রকাশিত : ০৮:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

বিসিএস এ ক্যাডার প্রাপ্তদের দেওয়া হচ্ছে প্রথম শ্রেণি। কিন্তু, বিসিএস উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি (নন-ক্যাডার) তাদের ভাগ্যে জুটছে না তা। একই বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়েও অনেককেই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণির পদে। তার ওপর, কিছু কিছু প্রার্থী পাচ্ছে একেবারে ১২তম গ্রেড!

নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। অন্যান্য প্রার্থীদের ৯ম ও ১০ম গ্রেড দিয়ে আবার এইসকল প্রার্থীদেরকে ১২তম গ্রেড! বিষয়টাকে মারাত্মক অনিয়ম, বৈষম্য ও অন্যায় হিসেবে দেখছেন অনেক প্রার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ১২তম গ্রেডে সুপারিশ প্রাপ্ত এক ক্ষুব্ধ প্রার্থী জানান, ‘এটা একটা অনিয়ম। অন্যায়। আইন অনুসারে, নন–ক্যাডারে নবম ও দশম গ্রেড ছাড়া নিয়োগ দিতে পারে না পিএসসি। তা সত্ত্বেও ১২তম গ্রেড দিয়ে আমাদের প্রাইমারী ‘স্কুলের স্যার’ বানিয়ে অপমান করছে পিএসসি।’

এদিকে, পিএসসি সুত্রে জানা গেছে, ‘গ্রেড সমস্যা সমাধান করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটা আমাদের কাজ না।’

উল্লেখ্য, গত ৩৪তম বিসিএস এর ৮৯৮ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। পদটি ১২তম গ্রেডের। এই অভিযোগে অনেক প্রার্থী যোগদান করেননি এই পদে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ৩৪তম থেকে পিএসপির সুপারিশ করা ৮৯৮ জনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চাকরিতে যোগ দেন নি এখনো।

তার ওপর, ৩৬তম বিসিএস এর ৩,৩০৮ জন নন-ক্যাডার থেকেও প্রাথমিকে নিয়োগ দান প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যে ৩৬তম বিসিএসে ৩ হাজার ৩০৮ জনকে নন–ক্যাডার হিসেবে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে জানান, ‘প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি আছে প্রায় ২০,০০০। এগুলোতে নিয়োগ দিতে আমরা পিএসসিকে চিঠি দিয়েছি। পিএসসি নিয়োগ দিচ্ছে। গ্রেড সমস্যার বিষয়টা আমার হাতে নেই। এটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে। আমরা সেখানেও চিঠি দিয়েছি। আশা করি ওরাই ঠিক করে দেবে।’

উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদটিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেতন নির্ধারণের সময় এটাকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য ১১তম ও প্রশিক্ষণবিহীনদের জন্য ১২তম গ্রেড প্রদান করে।

এখন বিসিএস এ উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকেও এই ১২তম গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ১,৩০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে লাখ লাখ প্রার্থীদের থেকে মধ্য থেকে উত্তীর্ণ হয়ে পাইতেছি ১২তম গ্রেড। এদিকে কলেজের মাস্টাররা কোনো প্রকার বিসিএস পরীক্ষা টরীক্ষা না দিয়েই ফার্স্ট ক্লাস। এটা অন্যায়!’তিনি কলেজের মাস্টার বলতে বেসরকারি থেকে সরকারিতে উন্নীত কলেজের শিক্ষকদের বুঝিয়েছেন।