০৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়ে অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এমপিও পাওয়া যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেগুলোকে নতুন করে যাচাই করবে সরকার। মিথ্যা তথ্য দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরেজমিনে খোঁজ নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য সংবাদকর্মীদের সহযোগিতাও চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

রোববার বিজনেস বাংলাদেশকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে তারা এমপিও ছাড় পাবে না। সরেজমিন যাচাই-বাছাই শুরু করবো। এখন পত্রিকার প্রতিবেদনগুলো পড়ে একটা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীপু মনি বলেন, পত্রিকায় অভিযোগ উঠেছে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করেছে বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে সেগুলোকে ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা আমাদেরকে সঠিক তথ্য দিন। কোথায় ভুল হয়েছে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

২০১৮ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী গত ২৩ অক্টোবর দুই হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠানের এমপিও দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এমপিওর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ ভবন বিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আগেই এমপিও পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানকেও এবার এমপিও দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে দীপু মনি বলেন, বোর্ড যেভাবে তথ্য দিয়েছে আমরা সেভাবেই কাজ করেছি। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, শর্ত অনুযায়ী যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা পূরণ করা সাপেক্ষে এমপিও তালিকা করা হয়েছে। এখানে ভুল থাকলে এমপিও পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরেজমিনে ঘুরে দেখবো। যারা সঠিক তথ্য দিয়ে এমপিও পেয়েছে তাদেরই কেবল এমপিও ছাড় দেয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) ড. আবদুল মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রধান, তিনি অনলাইনে এমপিও আবেদন করেন। সেক্ষেত্রে অনেক ভুলভ্রান্তি তারাও করেছে। যেগুলো আমাদের পক্ষে ঢাকায় বসে বুঝতে পারা সম্ভব নয়। ফলে তারা যে তথ্য দিয়েছে, সে তথ্য যাচাই বাছাই করে আমরা তালিকায় নাম তুলেছি।

এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গেজেট প্রকাশের পর এমপিও কোড সরবরাহ করা হয়। এমপিও পাওয়া স্কুল ও কলেজকে কোড দেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর এবং মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও কোড দেবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর।

প্রতিষ্ঠান এমপিও কোড পাওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষককেও এমপিও কোড দেয়া হবে। তার আগে প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য যাচাই করা হবে।

তবে এমপিও ভুক্তির এ তালিকায় থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এটি মেনে নেয়ার আবদার করেছেন নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের দুরবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে এমপিও দেয়া উচিত। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের মান খারাপ হয়েছে। এমপিও পাওয়ায় এখন সেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সেবা বাড়বে। কয়েক বছরের মধ্যেই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। সুতরাং এমপিও না আটকিয়ে সেটি আরো বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া উচিত। এটা সার্বিক শিক্ষার জন্যই ভালো ফল আনবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়ে অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রকাশিত : ১০:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৯

এমপিও পাওয়া যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেগুলোকে নতুন করে যাচাই করবে সরকার। মিথ্যা তথ্য দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরেজমিনে খোঁজ নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য সংবাদকর্মীদের সহযোগিতাও চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

রোববার বিজনেস বাংলাদেশকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে তারা এমপিও ছাড় পাবে না। সরেজমিন যাচাই-বাছাই শুরু করবো। এখন পত্রিকার প্রতিবেদনগুলো পড়ে একটা প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীপু মনি বলেন, পত্রিকায় অভিযোগ উঠেছে এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করেছে বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে সেগুলোকে ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা আমাদেরকে সঠিক তথ্য দিন। কোথায় ভুল হয়েছে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

২০১৮ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী গত ২৩ অক্টোবর দুই হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠানের এমপিও দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এমপিওর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ ভবন বিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আগেই এমপিও পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানকেও এবার এমপিও দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে দীপু মনি বলেন, বোর্ড যেভাবে তথ্য দিয়েছে আমরা সেভাবেই কাজ করেছি। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, শর্ত অনুযায়ী যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা পূরণ করা সাপেক্ষে এমপিও তালিকা করা হয়েছে। এখানে ভুল থাকলে এমপিও পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরেজমিনে ঘুরে দেখবো। যারা সঠিক তথ্য দিয়ে এমপিও পেয়েছে তাদেরই কেবল এমপিও ছাড় দেয়া হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) ড. আবদুল মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রধান, তিনি অনলাইনে এমপিও আবেদন করেন। সেক্ষেত্রে অনেক ভুলভ্রান্তি তারাও করেছে। যেগুলো আমাদের পক্ষে ঢাকায় বসে বুঝতে পারা সম্ভব নয়। ফলে তারা যে তথ্য দিয়েছে, সে তথ্য যাচাই বাছাই করে আমরা তালিকায় নাম তুলেছি।

এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গেজেট প্রকাশের পর এমপিও কোড সরবরাহ করা হয়। এমপিও পাওয়া স্কুল ও কলেজকে কোড দেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর এবং মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও কোড দেবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর।

প্রতিষ্ঠান এমপিও কোড পাওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষককেও এমপিও কোড দেয়া হবে। তার আগে প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য যাচাই করা হবে।

তবে এমপিও ভুক্তির এ তালিকায় থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এটি মেনে নেয়ার আবদার করেছেন নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের দুরবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে এমপিও দেয়া উচিত। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের মান খারাপ হয়েছে। এমপিও পাওয়ায় এখন সেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সেবা বাড়বে। কয়েক বছরের মধ্যেই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। সুতরাং এমপিও না আটকিয়ে সেটি আরো বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া উচিত। এটা সার্বিক শিক্ষার জন্যই ভালো ফল আনবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান