গেল অক্টোবর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশের ইতিহাসে এটি এককমাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত অর্থবছরের মে মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২ অক্টোবর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাৎক্ষণিক দুই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা কার্যকর হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
আগের অর্থবছরের একই মাসে যা ছিল ১২৩ কোটি ৯১ লাখ ডলার। এই হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩২ দশমিক ৩২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের চার মাসেই আগের অর্থবছরের একই মাসগুলোর তুলনায় রেমিট্যান্স-প্রবাহ বেশি এসেছে। জুলাইয়ে ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, আগস্টে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আসে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিট্যান্স এসেছে ৬১৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স আসে ৫১০ কোটি ডলার। এই হিসেবে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে শুরু হয়েছে। সাধারণত ঈদের পর প্রবাসীরা কম রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু এবার দুই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বেড়েছে। প্রণোদনা দেওয়ার কারণে রেমিট্যান্স বাড়ছে।
এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে। সেসব দেশে অবস্থানকারী আমাদের প্রবাসীরা এখন বেশি মজুরি পাচ্ছেন; বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। প্রণোদনা দেওয়ার জন্য বাজেটে এজন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

























