জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে দুই বছর আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভাগেরই একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সবগুলো প্রথম শ্রেণি না থাকলে কেউ শিক্ষক হিসেবে আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু পছন্দের প্রার্থীরা সবগুলোতে প্রথম বিভাগ না পাওয়ায় ২০১৫ সালে দেওয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা নিয়েছেন বিভাগের সভাপতি এ এস এম আবু দায়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে জাবির বাংলা বিভাগে দুই জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর পর ২০১৭ সালে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় চারজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য। সম্প্রতি এই দুটি নিয়োগ পরীক্ষা একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গণমাধ্যমে খবর আসে, বিভাগের সভাপতি আবেদনের যোগ্যতা না থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছেন।
বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা বলেন, ‘যোগ্যতা না থাকা প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এমন নিউজ আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি। কাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ওই নামগুলো সবই আনুমানিক। গত ২৯ নভেম্বর সিন্ডিকেট হয়েছে, সেখানে বিষয়টি ওপেনই (তোলা হয়নি) করে নাই। ফলে সিন্ডিকেট সদস্যরাও তাদের নাম বলতে পারেননি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যোগ্যতা না থাকা দুজন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভাগের সভাপতি ও উপাচার্যের যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।’
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত বর্ণনা করে তারেক রেজা বলেন, ‘আমাদের বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন ৩৩তম ব্যাচের এক ছাত্রী। আরেক ছাত্রী ওই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এসেছে সেই দুই শিক্ষার্থী নাকি আমাদের বিভাগের শিক্ষক হচ্ছেন। এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমি বলব, এতো বছর পর তাদের একধরনের পুরস্কার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই চাকরি দেওয়া হচ্ছে। আর এটি বিভাগের আন্তঃসম্পর্কের জন্য খুব বিপজ্জনক।’
বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজুয়ানা আবেদিন বলেন, ‘এখানে যেটা ঘটেছে, তা নিয়ম লঙ্ঘনের ব্যাপার। ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মধ্যে আমাদের আরো অনেক শিক্ষার্থী বেরিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে বেশ ভালো। আমাদের কথা হচ্ছে, তাদেরকে যেন কোনভাবে বঞ্চিত না করা হয়। শিক্ষক হিসেবে যারা আসছে বলে কথা উঠেছে, তাদের মতো কম যোগ্যতা সম্পন্নদেরই কেন আনা লাগবে? যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, তার তো বিশ্বাসযোগ্যতা আছে, নাহলে এতো কিছু হতো না।’
তবে বিভাগের সভাপতি এ এস এম আবু দায়েনের দাবি, ‘আমি এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, নিয়োগে কোনো অনিয়ম করা হয়নি।’
বিভাগের সভাপতি বলেন, ‘২০১৫ সালে যারা আবেদন করেছে, তাদের আগের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এতদিন কেন পরীক্ষা নেয়নি সেটা তারা জানে।’
এ এস এম আবু দায়েন আরো বলেন, ‘সম্প্রতি পত্রিকায় এসেছে, ২০০৬ সালে বিভাগের এক শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিযোগের কোনো সত্যতা ছিল না, আমি ষড়যন্ত্র করেছি এবং দুইজন মেয়েকে চাপিয়ে দিয়েছি। এখন আমি তাদের পুরস্কার দিচ্ছি। অথচ বিষয়টা আদালতে সুরাহা হয়েছে। এখন যদি আসামীকে এই ধরনের কথা দিয়ে হালাল করা হয়, এটা অপরাধ।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের নাম বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে, তারা যখন দেখবে চূড়ান্ত তালিকায় নাই, তখন তাদের অবস্থা কী হবে?’
এ বিষয়ে কথা বলতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ফোন করা হলে এক ব্যক্তি ফোন ধরে তার স্বামী বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (উপাচার্য) বাসায় নেই। আসলে জানাবেন।’ এর ২ ঘণ্টা পর আবার ফোন করা হলে কেউ রিসিভ করেননি।


























