জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ চলাকালীন মাঠে সতীর্থকে চড়-থাপ্পড় মারায় ষষ্ঠ রাউন্ডের শেষ দুই দিন থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব। গতকালই জানা গিয়েছিল উগ্র এই পেসারের জন্য বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে। কেননা আরাফাত সানি জুনিয়রকে লাঞ্ছিত করে তিনি ভেঙেছেন লেভেল ৪।
যার শাস্তি ন্যূনতম ১ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা। আর মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে জানানো হলো পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ শাহাদাত হোসেন। এর মধ্যে প্রথম তিন বছর পুরোপুরি নিষিদ্ধ এবং পরবর্তী দুই বছর মওকুফ যোগ্য নিষেধাজ্ঞা।
ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ ওই দিন ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনার প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধানের কাছে।
টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিজনেস বাংলাদেশকে জানিয়েছিলেন, ‘ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদন অনুযায়ী লেভেল ৪ ভেঙেছে শাহাদাত। যার শাস্তি ১ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা। দেখি আমরা কাল টেকনিক্যাল কমিটির মিটিংয়ে বসব। এরপর সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।’
আর টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর দেওয়া তথ্য মতো পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন শাহদাত হোসেন রাজীব।
উল্লেখ্য, রোববার (১৭ নভেম্বর) খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে স্বাগতিক খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন বোলিংয়ের সময় আরাফাত সানি জুনিয়রকে বল ঘসে দিতে বলেন ঢাকা বিভাগের এই পেসার।
আরাফাত সানি তাতে গরিমসি দেখালে ক্ষিপ্ত হয়ে মাঠের মধ্যেই তাকে কয়েক দফা চড় থাপ্পড় মারেন শাহাদাত। উপস্থিত দুই দলের অন্যান্যরা তাকে থামাতে গিয়েও প্রথমে ব্যর্থ হন। পরে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
জাতীয় দলের এক সময়ের নিয়মিত পেসার শাহাদাত হোসেনের উগ্র মেজাজের কথা কম বেশি সবাই জানেন। বছর চারেক আগে গৃহকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে স্ত্রী সমেত জেল খেটেছেন। ২০১৭ সালে এক সিএনজি চালককে দিনে দুপুরে লাঞ্ছিত করে আবারও সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। মাঝখানে বছর দেড়েক ভালোই ছিলেন। এবার শিরোনাম হলেন মাঠে সতীর্থ প্লেয়ারকে পিটিয়ে।
শাহাদাত হোসেন বাংলাদেশের হয়ে ৩৮ টেস্ট, ৫১ ওয়ানডে ও ৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সবশেষ ম্যাচটি খেলেছেন ২০১৫ সালের মে মাসে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

























