০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘ভূমিকম্প সহনীয় করা হবে পুরাতন ভবনগুলো’

ভূমিকম্প সহনীয় করে পুরাতন ভবনগুলো সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

রোববার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম আয়োজিত ‘দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে সেন্দাই কর্মকাঠামো বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে ভূমিকম্প সহনীয় করে পুরাতন ভবনগুলো সংস্কার করা হবে। বড়- মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে জাপান সরকার এবং জাইকা আর্থিকসহ সকল প্রকার কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ হবে তা কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। তাই, ভূমিকম্প সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাপানের মতো একটি ভূমিকম্প দুর্যোগ সহনীয় দেশ উপহার দিতে সরকার কাজ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন ।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকাস্থ সুইডেনের রাষ্ট্রদূত মিজ শার্লোটা সিল্টার ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ সহনশীল জাতি গঠনে সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এটি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সর্বজন স্বীকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাঠামো। বাংলাদেশ এই কর্মকাঠামোতে অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। এটি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এর বাস্তবায়ন একক কোনো সংস্থার কাজ নয়।’

তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, সংস্থা, এনজিওসহ সকল স্টেক হোল্ডারদেরকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহবান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অতিরিক্ত সচিব ও ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. মোহসীন।

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগে প্রতিক্রিয়াধর্মী সাড়াদান থেকে বেরিয়ে ঝুঁকি হ্রাসের সংস্কৃতি জোরদার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে, আমাদের অনেক সাফল্যও রয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সিপিপির আদলে বন্যাপ্রস্তুতির সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি, ভূমিকম্প প্রস্তুতি মডেল, অভিযোজিত সামাজিক নিরাপত্তার মডেল ও প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক ঝুঁকিহ্রাস মডেল উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

‘ভূমিকম্প সহনীয় করা হবে পুরাতন ভবনগুলো’

প্রকাশিত : ০৬:১১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৯

ভূমিকম্প সহনীয় করে পুরাতন ভবনগুলো সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

রোববার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম আয়োজিত ‘দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে সেন্দাই কর্মকাঠামো বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে ভূমিকম্প সহনীয় করে পুরাতন ভবনগুলো সংস্কার করা হবে। বড়- মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে জাপান সরকার এবং জাইকা আর্থিকসহ সকল প্রকার কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। মাঝারি থেকে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ হবে তা কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। তাই, ভূমিকম্প সহনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাপানের মতো একটি ভূমিকম্প দুর্যোগ সহনীয় দেশ উপহার দিতে সরকার কাজ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী দেশের প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন ।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকাস্থ সুইডেনের রাষ্ট্রদূত মিজ শার্লোটা সিল্টার ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ সহনশীল জাতি গঠনে সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এটি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সর্বজন স্বীকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাঠামো। বাংলাদেশ এই কর্মকাঠামোতে অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। এটি বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এর বাস্তবায়ন একক কোনো সংস্থার কাজ নয়।’

তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, সংস্থা, এনজিওসহ সকল স্টেক হোল্ডারদেরকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহবান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অতিরিক্ত সচিব ও ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. মোহসীন।

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগে প্রতিক্রিয়াধর্মী সাড়াদান থেকে বেরিয়ে ঝুঁকি হ্রাসের সংস্কৃতি জোরদার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে, আমাদের অনেক সাফল্যও রয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সিপিপির আদলে বন্যাপ্রস্তুতির সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি, ভূমিকম্প প্রস্তুতি মডেল, অভিযোজিত সামাজিক নিরাপত্তার মডেল ও প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক ঝুঁকিহ্রাস মডেল উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান