০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাছের সাথেও শত্রুতা!

এটা কেমন শত্রুতা আর কেমনই বা প্রতিশোধ। যশোরের চৌগাছায় ফারুক ইকবাল নামের এক ব্যক্তির তিন বিঘা জমির বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাগানো আমগাছ (আম্রপালি) এক রাতেই কেটে ফেলেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। একই রাতে এক মুক্তিযোদ্ধার খেতের চারটি লিছু গাছও কেটে দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সরেজমিনে ওই খেতে গেলে দেখা যায়। পুরো তিন বিঘা জমিতে মাত্র তিনটি ছোট আমের চারা কাটা হয়নি। বাকি সব গাছ কেটে ফেলে রেখেছে তারা। একই সাথে মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের মাঠের অপর প্রান্তের একটি লিচু বাগানের চারটি লিছু গাছ (যেগুলোতে গত বছরও লিচু এসেছিল) কেটে ফেলা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মাঠে দূর্বৃত্তরা একাণ্ড ঘটায়। পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ফারুক চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, বিগত তিন বছর ধরে ওই মাঠের বেশ ক’জন কৃষকের আম ও লিচুবাগান এভাবেই রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।

ভুক্তভোগী যশোর শহরের দড়াটনা এলাকার ফাতেমা অপটিক্যালের স্বত্বাধিকারী ও চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক ইকবাল জানান, তিন বছর আগে গ্রামের মাঠে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের প্রায় দেড়শ’ আমের চারা লাগান তিনি।

গাছগুলিতে আসন্ন মৌসুমে মুকুল আসার উপযুক্ত হয়ে গেছে। এমন সময়ে গত বুধবার রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ওই দুর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে আবারও গাছ কেটে ফেলেছে।

আমগাছের সাথে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিদের কী শত্রুতা তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। আমগাছ লাগানোর আগে একই জমিতে তিনি থাই পেয়ারার চাষ করেন।

পেয়ারাগাছে ফুল আসা শুরু হলে জমির এক হাজার পেয়ারার চারাও একইভাবে কেটে ফেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। পরবর্তী সময়ে পেয়ারার চাষ বাদ দিয়ে তিনি আম চাষ করেন। কিন্তু পেয়ারার মতো আমেরও একই পরিণতি হল।

পেয়ারা ও আম চাষ করতে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে ফারুক ইকবাল জানান, যশোর শহরে থাকার সুবাদে তিনি এক ব্যক্তিকে মাসিক বেতন চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। আম বাগানসহ তাদের অন্য বাগানও ওই ব্যক্তিই পরিচর্যা করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কর্মচারী গোলাম রব্বানীর মাধ্যমে বাগান মালিক ফারুক ইকবাল এই ঘটনা জানতে পারেন। পরে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে একটি কুচক্রী মহল মাঠের বিভিন্ন ফসল ও গাছ এভাবে কেটে ফেলছে। তাদের উদ্দেশ্য কী এটা বোঝাও যাচ্ছে না। ওই ব্যক্তিরা বরাবরই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।’

‘২০১৮ সালে তার সাড়ে ৩ বিঘা জমির লিচুগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সালে তারই চাচাতো ভাই গ্রামের রফিউদ্দিনের দেড় বিঘা জমির প্রায় একশত আমগাছ কেটে ফেলা হয়। একইভাবে গ্রামের তবিবুর রহমানের ৩ বিঘা জমির আমগাছ, মতিউর রহমানের সাড়ে ৩ বিঘা জমির আমগাছ এভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কেটে ফেলে দেয়’, বলেন তিনি।

শহিদুল বলেন, ‘কেন তারা এসব করছে তা বোঝা যাচ্ছে না। যেসব জমির গাছ কাটা হচ্ছে, তার আশেপাশের জমিতেও গাছের বাগান রয়েছে। ওরা শুধু ফলজ গাছগুলিই কেটে ফেলছে। অথচ ফলজ গাছে কোনো ক্ষতি কারো হয় না। এবিষয়ে শুধুমাত্র এবারই ফারুক ইকবাল থানায় অভিযোগ করেছেন। এর আগে কেউ এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।’

সরেজমিনে পরিদর্শনের সময়ে ওই রাস্তার ভ্যান চালক জগদিশপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতি বছরই এই মাঠটির কোনো না কোনো আমবাগান, লিচুবাগান বা থাই পেয়ারাবাগান রাতের আঁধারে কেটে দিচ্ছে। কে বা কারা এই কাজ করছে তা এখনো জানা যায়নি।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। তদন্ত চলছে। তদন্ত করে বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জনদুর্ভোগ নয় স্বাভাবিক চলাচল চান প্রধানমন্ত্রী, আইজিপিকে কড়া নির্দেশ

গাছের সাথেও শত্রুতা!

প্রকাশিত : ১১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৯

এটা কেমন শত্রুতা আর কেমনই বা প্রতিশোধ। যশোরের চৌগাছায় ফারুক ইকবাল নামের এক ব্যক্তির তিন বিঘা জমির বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাগানো আমগাছ (আম্রপালি) এক রাতেই কেটে ফেলেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। একই রাতে এক মুক্তিযোদ্ধার খেতের চারটি লিছু গাছও কেটে দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সরেজমিনে ওই খেতে গেলে দেখা যায়। পুরো তিন বিঘা জমিতে মাত্র তিনটি ছোট আমের চারা কাটা হয়নি। বাকি সব গাছ কেটে ফেলে রেখেছে তারা। একই সাথে মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের মাঠের অপর প্রান্তের একটি লিচু বাগানের চারটি লিছু গাছ (যেগুলোতে গত বছরও লিচু এসেছিল) কেটে ফেলা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মাঠে দূর্বৃত্তরা একাণ্ড ঘটায়। পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ফারুক চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, বিগত তিন বছর ধরে ওই মাঠের বেশ ক’জন কৃষকের আম ও লিচুবাগান এভাবেই রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।

ভুক্তভোগী যশোর শহরের দড়াটনা এলাকার ফাতেমা অপটিক্যালের স্বত্বাধিকারী ও চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক ইকবাল জানান, তিন বছর আগে গ্রামের মাঠে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের প্রায় দেড়শ’ আমের চারা লাগান তিনি।

গাছগুলিতে আসন্ন মৌসুমে মুকুল আসার উপযুক্ত হয়ে গেছে। এমন সময়ে গত বুধবার রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ওই দুর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে আবারও গাছ কেটে ফেলেছে।

আমগাছের সাথে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিদের কী শত্রুতা তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। আমগাছ লাগানোর আগে একই জমিতে তিনি থাই পেয়ারার চাষ করেন।

পেয়ারাগাছে ফুল আসা শুরু হলে জমির এক হাজার পেয়ারার চারাও একইভাবে কেটে ফেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। পরবর্তী সময়ে পেয়ারার চাষ বাদ দিয়ে তিনি আম চাষ করেন। কিন্তু পেয়ারার মতো আমেরও একই পরিণতি হল।

পেয়ারা ও আম চাষ করতে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে ফারুক ইকবাল জানান, যশোর শহরে থাকার সুবাদে তিনি এক ব্যক্তিকে মাসিক বেতন চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। আম বাগানসহ তাদের অন্য বাগানও ওই ব্যক্তিই পরিচর্যা করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কর্মচারী গোলাম রব্বানীর মাধ্যমে বাগান মালিক ফারুক ইকবাল এই ঘটনা জানতে পারেন। পরে তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে একটি কুচক্রী মহল মাঠের বিভিন্ন ফসল ও গাছ এভাবে কেটে ফেলছে। তাদের উদ্দেশ্য কী এটা বোঝাও যাচ্ছে না। ওই ব্যক্তিরা বরাবরই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।’

‘২০১৮ সালে তার সাড়ে ৩ বিঘা জমির লিচুগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই সালে তারই চাচাতো ভাই গ্রামের রফিউদ্দিনের দেড় বিঘা জমির প্রায় একশত আমগাছ কেটে ফেলা হয়। একইভাবে গ্রামের তবিবুর রহমানের ৩ বিঘা জমির আমগাছ, মতিউর রহমানের সাড়ে ৩ বিঘা জমির আমগাছ এভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কেটে ফেলে দেয়’, বলেন তিনি।

শহিদুল বলেন, ‘কেন তারা এসব করছে তা বোঝা যাচ্ছে না। যেসব জমির গাছ কাটা হচ্ছে, তার আশেপাশের জমিতেও গাছের বাগান রয়েছে। ওরা শুধু ফলজ গাছগুলিই কেটে ফেলছে। অথচ ফলজ গাছে কোনো ক্ষতি কারো হয় না। এবিষয়ে শুধুমাত্র এবারই ফারুক ইকবাল থানায় অভিযোগ করেছেন। এর আগে কেউ এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।’

সরেজমিনে পরিদর্শনের সময়ে ওই রাস্তার ভ্যান চালক জগদিশপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রতি বছরই এই মাঠটির কোনো না কোনো আমবাগান, লিচুবাগান বা থাই পেয়ারাবাগান রাতের আঁধারে কেটে দিচ্ছে। কে বা কারা এই কাজ করছে তা এখনো জানা যায়নি।’

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। তদন্ত চলছে। তদন্ত করে বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান