০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর ৯৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠি

কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর স্বনামধন্য আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৭জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। রবিবার চিঠিটি স্বাক্ষর হয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়।

স্কুলগুলোর মধ্যে সরকারি চারটি ও বেসরকারি চারটি স্কুল রয়েছে।

চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রবণ কুমার ভট্টাচার্য।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সরকারি চারটি স্কুলের মধ্যে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ১২জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারজন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের একজন এবং ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের আটজন শিক্ষক রয়েছেন। আর বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৬জন শিক্ষক, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৪জন, ঢাকা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাতজন, রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন রয়েছেন।

সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

দুদক সচিব মো. শামসুল আরেফিনের স্বাক্ষরে রবিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭২জন শিক্ষক এবং সরকারি চারটি বিদ্যালয়ের ২৫জন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, কোচিং বন্ধে কোনো আইন না থাকায় সাধারণত কোচিং বা টিউশনি থেকে উপার্জিত আয়ের ওপর কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স দেওয়া হয় না। ফলে এভাবে উপার্জিত আয় অনুপার্জিত আয়ে পরিণত হয়। কোচিং বাণিজ্যের ফলে যেভাবে অনৈতিক আয় ভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি এটি বুদ্ধিবৃত্তিমূলক মেধা সৃষ্টির প্রয়াসের পরিবর্তে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া কোচিং এর কারণে শিক্ষার্থীরা বিশেষ সাজেশন অনুসারে স্বল্প সংখ্যক প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে পূর্ণাঙ্গ বই সম্পর্কে তারা ধারণা পাচ্ছে না।

এসব শিক্ষককে চূড়ান্ত বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তি দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, নভেম্বরের শুরুতে নীতিমালা ভঙ্গ করে দীর্ঘ সময় একই বিদ্যালয়ে আছেন এমন ২৪টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫২২জন শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিলো।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

রাজধানীর ৯৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠি

প্রকাশিত : ০৫:২০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭

কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর স্বনামধন্য আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৭জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। রবিবার চিঠিটি স্বাক্ষর হয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়।

স্কুলগুলোর মধ্যে সরকারি চারটি ও বেসরকারি চারটি স্কুল রয়েছে।

চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রবণ কুমার ভট্টাচার্য।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সরকারি চারটি স্কুলের মধ্যে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ১২জন, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চারজন, খিলগাঁও সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের একজন এবং ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের আটজন শিক্ষক রয়েছেন। আর বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৬জন শিক্ষক, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৪জন, ঢাকা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাতজন, রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন রয়েছেন।

সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

দুদক সচিব মো. শামসুল আরেফিনের স্বাক্ষরে রবিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭২জন শিক্ষক এবং সরকারি চারটি বিদ্যালয়ের ২৫জন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, কোচিং বন্ধে কোনো আইন না থাকায় সাধারণত কোচিং বা টিউশনি থেকে উপার্জিত আয়ের ওপর কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স দেওয়া হয় না। ফলে এভাবে উপার্জিত আয় অনুপার্জিত আয়ে পরিণত হয়। কোচিং বাণিজ্যের ফলে যেভাবে অনৈতিক আয় ভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি এটি বুদ্ধিবৃত্তিমূলক মেধা সৃষ্টির প্রয়াসের পরিবর্তে অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া কোচিং এর কারণে শিক্ষার্থীরা বিশেষ সাজেশন অনুসারে স্বল্প সংখ্যক প্রশ্ন পড়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে পূর্ণাঙ্গ বই সম্পর্কে তারা ধারণা পাচ্ছে না।

এসব শিক্ষককে চূড়ান্ত বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তি দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, নভেম্বরের শুরুতে নীতিমালা ভঙ্গ করে দীর্ঘ সময় একই বিদ্যালয়ে আছেন এমন ২৪টি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫২২জন শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিলো।