দরিদ্রতা দমিয়ে রাখতে পারেনি মেধাবী ছাত্র দিলদার আলীকে। মাথা নত করেনি দরিদ্রতার কাছে। পিতা মোঃ আমেরুল ইসলাম দিনমজুর। চার ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট।ছেলেবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল ইচ্ছা ও ঝোঁক বেশি থাকায় পিছপা হয়নি দিলদার।
সংসারে আর্থিককষ্ট ও টানাপোড়ান থাকা সত্ত্বেও বাবা আমেরুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় পড়াশুনা চালানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান দিলদার। দিলদার ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাংগার রত্নাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দিলদার ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে পড়াশুনা চালিয়েছেন।পরিবারের সবার বড় ভাই যখন বিয়ে করে পৃথক হয়ে যান তখন তার জীবনে আরো অন্ধকার নেমে আসে।ফলে পড়াশুনার পাশাপাশি একটি টাইলস’র দোকানে কাজ করে নিজের পড়াশুনার খরচ ও সংসারের কিছুটা চাহিদা মেটাতেন।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের পাঁচটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি হবার সুযোগ পান এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তবে আইন নিয়ে পড়াশুনা করার প্রবল আগ্রহ থাকায় অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে “বি”ইউনিটে ৩০ তম হয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান দিলদার। দিলদার আইন বিষয়ে পড়ার প্রসঙ্গে বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুযোগ পেলেও আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ পাইনি।ছোটবেলা থেকেই আইন নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছে ছিল।আইন বিষয়ে পড়ে ভবিষ্যতে আইনজীবী হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।
সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছিলেন না দিলদার।পরবর্তীতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সংগঠন উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদের সহায়তায় ভর্তি হোন তিনি। বুধবার(০৪ ডিসেম্বর) ভর্তিবাবদ ও প্রথম তিন মাস খরচ মেটানোর জন্যে ২৫৩০০টাকা দিলদারের হাতে তুলে দেয়া হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টামন্ডলীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ হাবিবুর রহমান,লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ রশিদুল ইসলাম শেখ,প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুজ্জামান তনু,লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রুহুল আমীন,বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
তাছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ সফিউর রহমান সাগর,সাধারণ সম্পাদক তন্ময় কুমার সরকার ও সদস্যবৃন্দ।
জানা যায়, কুমিল্লাস্থ উত্তরের জন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সমিতির পক্ষ থেকে দিলদারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এবং ভর্তি পরবর্তী দিলদারের যেকোনো সহযোগীতায় পাশে থাকবেন বলে জানান এ সমিতির সম্পাদক।
উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদের সভাপতি মোঃ সফিউর রহমান সাগর দিলদারের সহায়তায় এগিয়া আসা প্রসঙ্গে বলেন,দিলদার দরিদ্র পরিবারের সন্তান।যেখানে তার পরিবারের পক্ষে তিনবেলা খাবার জোটানো কষ্টসাধ্য সেখানে ভর্তি ছিল প্রায় অনিশ্চিত।পরবর্তীতে দিলদারের সাথে বিষয়টি আমাদের পরিষদের উপদেষ্টামন্ডলীকে জানানো হলে তারা ভর্তি সহযোগীতায় এগিয়ে আসেন।
জানা যায়,দিলদারের আর্থিকদিক বিবেচনায় ভবিষ্যতে অর্থ যেনো তার স্বপ্ন পূরণে বাঁধা না হয় সেজন্যে অনার্স ও মাস্টার্সের যাবতীয় খরচ মেটাতে পরিকল্পনা করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএই




















