‘এখানে হর্ন বাজাবেন না। এ এলাকায় হর্ন বাজানো দণ্ডনীয় অপরাধ। হর্ন বাজানো বন্ধ কর,করতে হবে। শব্দ দূষণ বন্ধ কর, করতে হবে।’ মঙ্গলবার সকালে এমন শ্লোগানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যদিয়ে সচিবালয়ের চারপাশ ‘নিরব এলাকা’ কার্যকর করা হয়েছে।
এ সচিবালয় এলাকার ‘নিরব এলাকা’য় আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে বুধবার থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। শব্দ দূষণ করলে জেল জরিমানার শাস্তি পেতে হবে। সচিবালয়ের ১ নম্বর গেইটের সামনে পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বেলুন উড়িয়ে সচিবালয়ের চারপাশ ‘নিরব এলাকা’ বাস্তবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোভার স্কাউটদের নিয়ে সচিবালয়ের চারপাশে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় মন্ত্রী সচিবসহ সবাইকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। মন্ত্রী স্লোগান ধরেন অন্যরা জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘হর্ন বাজানো, হর্ন বাজানো; অন্যরা বলেন-বন্ধ কর, করতে হবে। ’ আবার মন্ত্রী বলেন, ‘শব্দ দূষণ, শব্দ দূষণ; অন্যরা বলেন-‘বন্ধ কর, করতে হবে।’
এ সময় রোভার স্কাউটদের হাতে ছিল সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল-‘নিরব এলাকা, হর্ন বাজাবেন না। নিরব এলাকায় হর্ন বাজানো দণ্ডনীয় অপরাধ।’ এখন থেকে সচিবালয়ের আশপাশে তথা জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে ‘নিরব এলাকা’ ঘোষণা করায় এই এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনগুলো হর্ন বাজাতে পারবে না। কোন প্রকার শব্দ দূষণ করতে পারবে না।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, আইন ভেঙ্গে এই এলাকায় হর্ন বাজালে বুধবার থেকে শাস্তি পেতে হবে।
তিনি বলেন, শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে কাল থেকে সচিবালয়ের চারপাশের সড়কে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী ‘নিরব জোন’ এলাকায় হর্ন বাজালে প্রথমবার সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ পরবর্তী সময়ে করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে সচিবালয়ে চারপাশকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এখান থেকেই আমরা শুরু করব। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে এটা কার্যকর করব।’
আজ থেকে আমরা সচিবালয় ও এর চারপাশের সড়কগুলোকে শব্দ দূষণমুক্ত নিরব এলাকা ঘোষণা করলাম। এ বিষয়ে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি-বলেন তিনি।
হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরব এলাকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে আমরা হাসপাতাল এলাকাতেও যাবো।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীনে প্রণীত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী ‘নিরব এলাকা’ বলতে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত বা একই জাতীয় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এবং এর চারিদিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান
























