ঢাকা: ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত অফিসার্স ক্লাব বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কম্যুনিটি ক্লাবগুলোর একটি। মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন কর্মকর্তারা এই ক্লাবের সদস্য। আসছে ১৭ জানুয়ারি-২০২০ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিসিএস অফিসারদের সর্ব বৃহৎ সংগঠন ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে ক্লাবপাড়ায়। প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে যার যার চ্যানেল থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব প্রার্থীদের ছাপিয়ে এবার সবার মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে একজনের নাম। তিনি মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন।
বর্তমান কমিটিতে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করা মেজবাহ উদ্দিন এবারই প্রথম সাধারণ সম্পাদকের পদের জন্য লড়বেন। পদাধিকারবলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ ক্লাবের সভাপতি। তাই এ পদে কোনো নির্বাচন হয় না। সঙ্গত কারণে অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদটি বিসিএস কর্মকর্তাদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গত ৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৯ নিজের মনোয়নপত্র দাখিল করেছেন মেজবাহ উদ্দিন।
আর সাধারণ সম্পাদক পদে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বিসিএস ৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা সাবেক সংস্কৃমিন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান। তিনি বর্তমান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে তাকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করা মেজবাহ উদ্দিন সবার কাছেই তুমুল জনপ্রিয়। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে জনসেবামূলক কাজ, সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতাসহ নানা ক্ষেত্রে নিজেকে জড়িত রেখেছেন মেজবাহ উদ্দিন। বিসিএস ১১ ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব মেজবাহউদ্দিন তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সততা ও নিষ্ঠার জন্য প্রশংসিত হয়ে আসছেন। কর্মক্ষেত্রে সততা এবং দক্ষতার জন্য একাধিকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন বহুবার।
বিসিএস ১১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির সাবেক পিএস, খুলনার জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম এর জেলা প্রশাসক, এবং বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উন্নয়ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে মেজবাহ উদ্দিন বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, মাত্র ২৭ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা ক্লাবের বর্তমান সদস্য প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি। আমি বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সিনিয়রদের সেবা ও সাধারণ সদস্যদের পাশে থেকে বিনয়ের সহিত নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। সেই সূত্রে সদস্যদের অনেকেই আমাকে উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন যেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার। তাই সাধারণ সম্পাদক পদে এবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছি। আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে ক্লাবের পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবো বলে আশা করছি। সেইসঙ্গে সাধারণ সদস্যদের সুবিধা অসুবিধাতেও পাশে দাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ দশকেরও বেশি পুরনো অফিসার্স ক্লাব কালপ্রবাহে প্রজাতন্ত্রের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মিলনস্থল হয়ে উঠেছে। নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে যোগ্য বিবেচিত হলে যেকোন বিসিএস অফিসার ক্লাবের সদস্য হতে পারেন।
ক্লাবটি পরিচালনা করে একটি নির্বাহী কমিটি। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব পদাধিকার বলে নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি ২ বছর পরপর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির সদস্যরা নির্বাচিত হন। অফিসার্স ক্লাবের একটি নারী কমিটিও রয়েছে। পদাধিকার বলে এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের স্ত্রী। এই কমিটি সমাজকল্যাণমূলক কাজ ও সামাজিক অনুষ্ঠান করে। সভা, সম্মেলন, বিয়েসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ক্লাবের হলঘর, প্যাভিলিয়ন ও অন্যান্য স্থান ভাড়া দেওয়া হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বি এইচ

























