উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীতের মাঝে আল্লাহু আকবার ধ্বনি, জিকির-আসকারে মুখর গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগপারের বিশ্ব ইজতেমার ময়দান। এ ময়দানে জড়ো হয়েছেন দেশে-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। এরপরই ময়দানের তাবুগুলোতে ইবাদতে মশগুল সবাই।
শুক্রবার ফজরের নামাজের মধ্য দিয়ে ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান করছেন দেশে-বিদেশের খ্যাতনামা আলেমরা। আর এসব বয়ান মনোযোগ সহকারে শুনছেন ইজতেমার মাঠে থাকা লাখ লাখ মুসল্লিরা।
পাকিস্তানের মাওলানা খোরশেদ ইজতেমার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এবারের ইজতেমা বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়। বিশ্ব মুসলিমের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় জামাতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারো বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রোববার দুপুরের আগেই আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি হবে।
এদিকে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লির পদচারণায় টঙ্গী স্টেশন রোড ও কামারপাড়াসহ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের আশপাশ মুখরিত হয়ে উঠেছে। সেই সব এলাকায় মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জানা যায়, প্রতিবারের ন্যায় তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে। পরামর্শের মাধ্যমে মাঠের সব কাজ করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠে বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি, গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে করা হয়।
গাজীপুরের ডিসি এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় করেছে জেলা প্রশাসন।
বিদেশি মেহমানগণের আবাসস্থল নির্মাণের জন্য টিন সরবরাহ, বিভিন্ন দফতরের কন্ট্রোল রুমের স্থান নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের দিক নির্দেশনায় বিভিন্ন কার্যাদি তদারকি করে থাকে। জেলা প্রশাসনও সব দিকে নজর দিচ্ছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ইজতেমা মাঠের খিত্তায় খিত্তায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চারপাশে এবং বাইরে সিসি টিভি স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে আট হাজার পুলিশ, নিরাপত্তা কর্মী কাজ করবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান





















