করোনাভাইরাসের প্রভাবে রাজধানীর ফার্মেসীগুলোতে তীব্র ফেসিয়াল ও সার্জিক্যাল মাস্ক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মিরপুর, শ্যামলী, টেকনিক্যাল, মিডফোর্ড এলাকার ফার্মেসীগুলোতে মিলছে না ফেসিয়াল কিংবা সার্জিক্যাল মাস্ক। যে দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে সেখানে বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।
বিক্রেতারা বলছেন, ‘১০/১৫ দিন হলো মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে। কোম্পানিগুলো মাস্ক দিচ্ছেনা, বিক্রেতারা ফিরছেন খালি হাতে। এদিকে মাস্ক সংকটের কারণে বিপদে পড়েছেন ডাক্তার, নার্সসহ সাধারণ ক্রেতারা।’
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুর-১০ এর তেরিজ ফার্মা, পপুলার ফার্মাসহ বেশ কিছু ফার্মেসীতে মেলেনি মাস্ক। এছাড়া শ্যামলির ঢাকা ফার্মেসি, মর্ডান ফার্মেসি, পপুলার ফার্মেসি, অনুরাগ ফার্মাসহ কোনো দোকানেই পাওয়া যাচ্ছেনা মাস্ক।
মাস্ক কিনতে আশা বেসরকারী চাকুরিজীবি আবিদা ইসলাম বলেন, ‘ধুলাবালির কারণে মাস্ক ব্যবহার করি। আজ ১০ দিন ধরে কোন দোকানেই মাস্ক পাচ্ছিনা।’
দোকানিরা বলছেন, করোনাভাইরাসের পর মাস্কের সাপ্লাই নেই। প্রতিদিন ১ থেকে দেড়শ জন মানুষ মাস্ক চাইছেন আমাদের কাছে কিন্তু দিতে পারছিনা।
শ্যামলীর পপুলার ফার্মেসীর বিক্রয়কর্মী শুভ বলেন, ‘স্টক করার কারণে মাস্কের এই হাহাকার।’
মেডিক্যাল কর্নার ফার্মেসির কর্ণধার সবুজ আহমেদ বলেন, ‘এক বাক্সে ৫০ পিছ থাকে। আগে এক বাক্স ১০০ টাকায় পাওয়া যেতো। এখন ৩০০ টাকার উপরে দাম। ৬ টাকার মাস্ক ১৫-২০ টাকায় চলে গেছে।’
বাংলাদেশ ফার্মার বিক্রয়কর্মী নাজমুল হাসান বলেন, ‘মিডফোর্ড থেকে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। গেটওয়েলসহ অন্যান্য মাস্ক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বিগত ১০-১২ দিন ধরে মাস্ক সাপ্লাই করছে না। আমাদের ডাক্তারদের সাথে সম্পর্ক রাখতে হয়। কাউকে না দিলেও তাদের দিতে হয়, এখন ডাক্তার নার্সদেরও দিতে পারছিনা।’
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এন্ড হসপিটাল ইক্যুইপমেন্ট ডিলারস এন্ড এম এফ আর এস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রিয় পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই মাস্কগুলো আমাদের চায়না থেকে ইম্পোর্ট হয়। এখন চায়নাতে করোনাভাইরাসের কারণে সেখান থেকে কোন মাস্ক আসছে না। উল্টো বাংলাদেশ থেকেও অনেক মাস্ক তারা নিয়ে গেছে। আমরাসহ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে বাংলাদেশ থেকে কোন মাস্ক দেশের বাইরে না যায়।’
মূলত গুজবের কারণে মাস্কের এই সংকট দাবি করে তিনি বলেন, ‘রিউমারের কারণে এই অবস্থা। যার দরকার এক বাক্স সে নিচ্ছে ১০ বাক্স যার দরকার ১০ বাক্স সে নিচ্ছে ১০০ বাক্স। এই হলো অবস্থা। আশা করি আগামী ১০- ১৫ দিনের মধ্যেই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
এইদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও মাস্ক কিনতে চেয়ে অনেকেই পোষ্ট করছেন। ফেসবুকে দেখা যায়, মাস্ক কিনতে চেয়ে অনেকের পোষ্ট। সাধারণ মানুষ বলছেন, গুজব ছড়িয়ে অনেকেই বেশি লাভের আশায় মাস্ক মজুদ করছেন।
ফেসিয়াল ও সার্জিকাল মাস্ক তৈরি প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের গেটওয়েল এর জনসংযোগ বিভাগ জানায়, হঠাৎ করে মাস্কের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঠিকমতো সাপ্লাই দিতে পারছেনা প্রতিষ্ঠানটি।




















