বয়সভিত্তিক দল থেকেই সাইফ হাসানকে বিবেচনা করা হতো ভবিষ্যৎ টেস্ট ব্যাটসম্যান। জমাট ব্যাটিং, দৃঢ় মনোবল, নিখুঁত টেকনিক, উইকেটে পড়ে থাকার মানসিকতা, অসাধারণ টেম্পারামেন্ট ও মনের জানালা খুলে ব্যাটিং করার মেজাজ; সাইফের একের ভেতরে বহুগুণ।
সেই সাইফ হাসান এখন টেস্ট ক্যাপ পড়ার অপেক্ষায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে বাংলাদেশের ৯৬তম টেস্ট ক্যাপ পেতে যাচ্ছেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। হতে যাচ্ছেন টেস্টে তামিম ইকবালের দশম উদ্বোধনী জুটি। টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এ ক্রিকেটার মুখোমুখি হয়েছিলেন বিজনেস বাংলেদেশের :
আন্তর্জাতিক অভিষেকের থেকে মাত্র এক পা দূরে? ঠিক এমন মুহূর্তে কেমন লাগছে?
সাইফ হাসান: যখন জানতে পেরেছি যে আমাকে পাকিস্তানে খেলানো হবে তখন থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম। এখন মনে হচ্ছে সব প্রস্তুতি শেষ। নিজের সেরাটা শুধু নিংড়ে দেওয়ার পালা।
আপনার তো ইডেনে অভিষেক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল…
সাইফ হাসান: আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম, দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ সিরিজে হাত ফেটে গিয়েছিল। এখন আরও বেশি সময় পেয়েছি, কাজ করেছি, ম্যাকেঞ্জির সাথে, কুকের সাথে। সব মিলিয়ে খুব ভালো অনুভব হচ্ছে। সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।
আপনার দৃঢ় মনোবলই আপনাকে সাইফ হাসান বানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কি একই সাইফ হাসানকে দেখা যাবে?
সাইফ হাসান: পরিস্থিতি যা ডিমান্ড করবে। আমি আগেও দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী পারফর্ম করেছি। যদি দল প্রত্যাশা করে একপাশে উইকেটে পড়ে থাকতে তাহলে আমার চেষ্টা থাকবে যতো ওভার পারি খেলব। পরিস্থিতি আবার উইকেটের ওপরও নির্ভর করে।
বিসিএলের প্রথম ইনিংসে ৩৩৩ মিনিট ব্যাটিং করেছেন। এটা কি প্রস্তুতিরই অংশ ছিল?
সাইফ হাসান: তা তো অবশ্যই। আমার চেষ্টা ছিল যতটা সম্ভব উইকেটে টিকে থাকা। হয়তো রান ততটা বড় হয়নি। কিন্তু আমার পরিকল্পনায় আমি ঠিক ছিলাম।
নতুন বলে তো টাইমিং ঠিকঠাক হলে বাউন্ডারি চলে আসে। কিন্তু প্রথম বাউন্ডারির জন্য ৮৩ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। সেটাও স্পিনারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা…
সাইফ হাসান: যেটা মারার বল পেয়েছি সেটা মেরেছি। আমি কোনো খারাপ শট খেলবো না চিন্তা করে ব্যাটিংয়ে নেমেছি। বোলারদের কোনো সুযোগ দেব না। এইতো…
প্রস্তুতি কেমন হলো?
সাইফ হাসান: প্রস্তুতি, বিসিএলের ম্যাচ আমাদের জন্য, মানে যারা যাচ্ছি, তাদের জন্য খুব ভাল হয়েছে। উইকেট শুরুতে পেসারদের জন্য সহায়ক ছিল, প্রতিপক্ষের (ইস্ট জোন) পেসার ভাল ছিল। আমাদের দেশের তুলনায় হাসান খুব গতিতে বোলিং করে, রুবেল ভাইও জোরে করে। প্রস্তুতি ভাল হয়েছে। ওদের স্পিনও ভাল ছিল। নাঈম ছিল, তাইজুল ভাই ছিল। আমার মনে হয়, খুব ভাল প্রস্তুতি হয়েছে বিসিএল দিয়ে।
তামিমের সঙ্গে ওপেন করার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে?
সাইফ হাসান: ইনশাল্লাহ। আমি ছোটবেলা থেকে তামিম ভাইয়ের সঙ্গে ওপেন করার স্বপ্ন দেখেছি। বিসেএলেও উনার ইনিংসটা তো খুব স্পেশাল ছিল। সবাই দেখল।
কোনো চাপ কিংবা দুশ্চিন্তা মাথায় আসছে?
সাইফ হাসান: একদমই না। আমি খুব রিল্যাক্স আছি। চেষ্টা করছি নিজেকে তরতাজা রাখা।
বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান


























