০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হারিয়ে যাচ্ছে কাবাডি

বাংলাদেশের ক্রিয়া জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট এবং ফুটবল। ফুটবলে জাতীয়ভাবে আমাদের তেমন সাফল্য না থাকলেও ক্রিকেটে সাফল্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ এখন চেনে সাকিব-তামিমের মতো খেলোয়াড়দের পরিচয়ে।

তবে, এত প্রাপ্তির মধ্যে কোথায় যেন একটা আত্মতৃপ্তির স্বাদ নেই বলে মনে হয়। এত জনপ্রিয়তার মধ্যে হারিয়ে গেছে আমাদের গ্রামবাংলার এক সময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা কাবাডি বা হাডুডু।

কাবাডি খেলার উৎপত্তি এশিয়া মহাদেশে। স্বাধীনতার পর জাতীয় খেলা হিসেবে আমাদের দেশে স্বীকৃতি পায় কাবাডি। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৭৮ সালে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা ও মায়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক (আইকেএফ) দ্বারা পরিচালিত আন্তর্জাতিক কাবাডি বিশ্বকাপ ২০০৪, ২০০৭ ও ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সবগুলোতেই স্বর্ণপদক জিতেছে ভারত।

এশিয়ান গেমসেও একই দৃশ্য দেখা যায়, শুধু ২০১৮ সালে ইরান স্বর্ণপদক অর্জন করেছে, বাকি সবগুলো ম্যাচে স্বর্ণপদক উঠেছে ভারতের ঘরে। এদিকে কাবাডিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি খুবই সামান্য। ১৯৮০ সালে প্রথম এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ রানারআপ হয় এবং ২০০৬ সালে ব্রোঞ্জ পদক পায়। এছাড়া এশিয়া কাপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের তেমন কোনো সাফল্য নেই।

সাফল্য থাকবেই বা কীভাবে! এত সব জনপ্রিয় খেলার মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় খেলা হাডুডু। প্রতিবছর স্কুল-কলেজগুলোতে বার্ষিক আন্তঃক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আর অধিকাংশ সময় দেখা যায় ক্রিকেট, ফুটবল অথবা ভলিবল টুর্নামেন্টের নাম।

স্কুল কলেজ পর্যায়ে কোনো কাবাডি টুর্নামেন্ট অথবা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা নেই এবং করাও হয় না। একসময় গ্রামাঞ্চলের সকল ছেলে-মেয়ে এই খেলার সাথে পরিচিত ছিল। কিন্তু ফুটবল-ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার মাঝে এখন গ্রামেও সচরাচর হাডুডু খেলা দেখা যায় না।

এমনকি বর্তমানে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে স্বচক্ষে কখনো কাবাডি খেলা দেখেনি। অনেকে আবার এর নিয়ম সম্পর্কেই জানে না। পাঠ্যপুস্তকের শারীরিক শিক্ষা বইতে অনেকে প্রথমবারের মতো কাবাডি খেলার সাথে পরিচিত হয়। কিন্তু আসলে কি এটি হওয়া উচিৎ? যেহেতু হাডুডু আমাদের জাতীয় খেলা, সেহেতু ছোটবেলায থেকেই এই খেলার সাথে আমাদের পরিচিত হওয়া উচিৎ।

এই খেলার সাথে অধিকাংশের পরিচিত না হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে স্কুল-কলেজগুলোতে অন্যান্য টুর্নামেন্টের পাশাপাশি কাবাডি খেলার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে, ছেলেমেয়েরা কাবাডি খেলার প্রতি উৎসাহিত হচ্ছে না এবং খেলা সম্পর্কে কোনো ধারণাও তাদের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে না।

যদি স্কুল-কলেজগুলোতে কাবাডি খেলার ব্যবস্থা থাকে এবং প্রত্যেকটি স্কুল কলেজে বার্ষিক কাবাডি টুর্নামেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে কাবাডির জনপ্রিয়তা তৈরি করা সম্ভব।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দেখা যাবে, তারা কাবাডি খেলার প্রচলনকে ধরে রাখার জন্য নানা ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে এবং তারা সফলভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছে তাদের তরুণ প্রজন্মকে।

আরেকটি বিষয় বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ফুটবল ক্রিকেটে যতটা সহজে ক্যারিয়ার গঠন করা সম্ভব, কাবাডি খেলায় ক্যারিয়ার গঠন করা তেমনি কষ্টকর। এজন্য তরুণ প্রজন্ম আগ্রহী হচ্ছে না কাবাডি খেলার প্রতি।

সরকারের উচিৎ এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা। তাহলে একদিকে খেলোয়াড়রা যেমন উৎসাহিত হবে, তেমনি খেলার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১২ ফেব্রুয়া‌রির নির্বাচন স্বাধীনতা রক্ষা করার নির্বাচন

হারিয়ে যাচ্ছে কাবাডি

প্রকাশিত : ০২:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

বাংলাদেশের ক্রিয়া জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট এবং ফুটবল। ফুটবলে জাতীয়ভাবে আমাদের তেমন সাফল্য না থাকলেও ক্রিকেটে সাফল্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ এখন চেনে সাকিব-তামিমের মতো খেলোয়াড়দের পরিচয়ে।

তবে, এত প্রাপ্তির মধ্যে কোথায় যেন একটা আত্মতৃপ্তির স্বাদ নেই বলে মনে হয়। এত জনপ্রিয়তার মধ্যে হারিয়ে গেছে আমাদের গ্রামবাংলার এক সময়কার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা কাবাডি বা হাডুডু।

কাবাডি খেলার উৎপত্তি এশিয়া মহাদেশে। স্বাধীনতার পর জাতীয় খেলা হিসেবে আমাদের দেশে স্বীকৃতি পায় কাবাডি। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৭৮ সালে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা ও মায়ানমারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক (আইকেএফ) দ্বারা পরিচালিত আন্তর্জাতিক কাবাডি বিশ্বকাপ ২০০৪, ২০০৭ ও ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সবগুলোতেই স্বর্ণপদক জিতেছে ভারত।

এশিয়ান গেমসেও একই দৃশ্য দেখা যায়, শুধু ২০১৮ সালে ইরান স্বর্ণপদক অর্জন করেছে, বাকি সবগুলো ম্যাচে স্বর্ণপদক উঠেছে ভারতের ঘরে। এদিকে কাবাডিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি খুবই সামান্য। ১৯৮০ সালে প্রথম এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ রানারআপ হয় এবং ২০০৬ সালে ব্রোঞ্জ পদক পায়। এছাড়া এশিয়া কাপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের তেমন কোনো সাফল্য নেই।

সাফল্য থাকবেই বা কীভাবে! এত সব জনপ্রিয় খেলার মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় খেলা হাডুডু। প্রতিবছর স্কুল-কলেজগুলোতে বার্ষিক আন্তঃক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আর অধিকাংশ সময় দেখা যায় ক্রিকেট, ফুটবল অথবা ভলিবল টুর্নামেন্টের নাম।

স্কুল কলেজ পর্যায়ে কোনো কাবাডি টুর্নামেন্ট অথবা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা নেই এবং করাও হয় না। একসময় গ্রামাঞ্চলের সকল ছেলে-মেয়ে এই খেলার সাথে পরিচিত ছিল। কিন্তু ফুটবল-ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার মাঝে এখন গ্রামেও সচরাচর হাডুডু খেলা দেখা যায় না।

এমনকি বর্তমানে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে স্বচক্ষে কখনো কাবাডি খেলা দেখেনি। অনেকে আবার এর নিয়ম সম্পর্কেই জানে না। পাঠ্যপুস্তকের শারীরিক শিক্ষা বইতে অনেকে প্রথমবারের মতো কাবাডি খেলার সাথে পরিচিত হয়। কিন্তু আসলে কি এটি হওয়া উচিৎ? যেহেতু হাডুডু আমাদের জাতীয় খেলা, সেহেতু ছোটবেলায থেকেই এই খেলার সাথে আমাদের পরিচিত হওয়া উচিৎ।

এই খেলার সাথে অধিকাংশের পরিচিত না হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে স্কুল-কলেজগুলোতে অন্যান্য টুর্নামেন্টের পাশাপাশি কাবাডি খেলার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে, ছেলেমেয়েরা কাবাডি খেলার প্রতি উৎসাহিত হচ্ছে না এবং খেলা সম্পর্কে কোনো ধারণাও তাদের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে না।

যদি স্কুল-কলেজগুলোতে কাবাডি খেলার ব্যবস্থা থাকে এবং প্রত্যেকটি স্কুল কলেজে বার্ষিক কাবাডি টুর্নামেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে কাবাডির জনপ্রিয়তা তৈরি করা সম্ভব।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দেখা যাবে, তারা কাবাডি খেলার প্রচলনকে ধরে রাখার জন্য নানা ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে এবং তারা সফলভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছে তাদের তরুণ প্রজন্মকে।

আরেকটি বিষয় বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ফুটবল ক্রিকেটে যতটা সহজে ক্যারিয়ার গঠন করা সম্ভব, কাবাডি খেলায় ক্যারিয়ার গঠন করা তেমনি কষ্টকর। এজন্য তরুণ প্রজন্ম আগ্রহী হচ্ছে না কাবাডি খেলার প্রতি।

সরকারের উচিৎ এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা। তাহলে একদিকে খেলোয়াড়রা যেমন উৎসাহিত হবে, তেমনি খেলার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/এম মিজান