০২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি

একটা সময় ছিল রোনালদিনহোর পায়ের জাদুতে মোহিত ছিল ফুটবল বিশ্ব। এএফপি ফাইল ছবি

প্যারাগুয়ের একটা জেলখানার চৌকোনা একটা ঘরে বন্দী আছেন একজন, যিনি একটা সময় পুরো বিশ্বকে মোহিত করে রেখেছিলেন তাঁর পায়ের জাদুতে। সেই ফুটবল-জাদুকর রোনালদিনহোর আজ জন্মদিন। ফুটবল নামের গোলক দিয়ে বিশ্বকে মোহিত করা রোনালদিনহোর গল্পের শুরু ১৯৮০ সালের ২১ মার্চ। এই দিনে পোর্তো আলেগ্রেতে জন্ম তাঁর।

কিছু পাগলামির কারণে জাদুকর আজ জেলে থাকতে পারেন, তাই বলে কি ভক্তরা কি তাঁর জন্মদিন ভুলে যেতে পারে! ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শাখায় শাখায় তাই প্রিয় তারকার জন্মদিনে ভক্তদের অঞ্জলি-গাঁথা।

‘শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি রোনালদিনহো। ফুটবল খেলাটিকে এত সুন্দর করে তোলার জন্য ধন্যবাদ’, ‘মায়েস্ত্রোদের মায়েস্ত্রো, রাজাদের রাজা—আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা’—জন্মদিনে ভক্তদের কাছ থেকে এমন সব শ্রদ্ধাঞ্জলি পাচ্ছেন রোনালদিনহো। প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের জেলে যদি অন্তর্জাল সমৃদ্ধ মোবাইল তাঁর হাতে না থাকে তাহলে এগুলো দেখবেন কী করে আর আপ্লুতই-বা হবেন কী করে!

এক ভক্ত আবার তাঁর একটি ছবি টুইট করেছেন—বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ব্যালন ডি’অর ট্রফিটা তাঁর হাতে। ঠোঁটের কোণে চিরাচরিত সেই মৃদু হাসি। ছবির ক্যাপশন দিয়েছেন এ রকম, ‘শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি। এই হাসি চিরদিন অম্লান থাকবে। সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’

রোনালদিনহোর ফুটবলের সৌন্দর্য কেমন ছিল তা কি আর কারও অজানা! তবু কিছু উদাহরণ দেওয়ার লোভ সামলানো কঠিন। ‘নো লুক’ পাসের আবিষ্কর্তা তিনি। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে নাট-মেগে ঘোল খাওয়ানো অথবা তাঁর বাইসাইকেল কিক বা অচিন্তনীয় সব ফ্রি-কিক আর কারিকুরি দেখে মুগ্ধ হয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমিক।

বার্সেলোনায় তাঁর শুরুর দিকে লা লিগার একটা ম্যাচে রেফারি কোনো একটা কারণে খেলা থামিয়েছিলেন। একটা বল পড়েছিল মাঠে, এর মধ্যে আরেকটা বল মাঠে চলে আসে। এমন সময়ে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই কি করবেন? বলটি লাথি মেরে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু রোনালদিনহো তো আর দশজনের মতো নন। তিনি বলটির দিকে এগিয়ে গেলেন, মুখে সেই চিরপরিচিত হাসি। ডান পায়ের বুট দিয়ে বলটিকে ঘুরিয়ে ওপরে তুললেন, সেটিকে নিলেন বাঁ পায়ে। অ্যাঙ্কেল দিয়ে বলটি ওপরে তুলে ব্যাকহিল করে মাঠের বাইরে পাঠালেন বল।

বলটি ঠিক গিয়ে পড়েছিল বলবয়ের হাতে। বলবয় বলটি হাতে নিয়ে হাসছিলেন, ভাবখানা এমন ছিল যেন মুহূর্তটা তাঁর। ন্যু ক্যাম্পের পুরো গ্যালারি তখন মুখরিত হাততালিতে। রোনালদিনহোর মুখে সেই হাসি। তখন আসলে হাসছিল পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরাই। মুহূর্তটি যে ফুটবল ভালোবাসা সব মানুষদের জন্যই ছিল অবিস্মরণীয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি

প্রকাশিত : ০১:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০

প্যারাগুয়ের একটা জেলখানার চৌকোনা একটা ঘরে বন্দী আছেন একজন, যিনি একটা সময় পুরো বিশ্বকে মোহিত করে রেখেছিলেন তাঁর পায়ের জাদুতে। সেই ফুটবল-জাদুকর রোনালদিনহোর আজ জন্মদিন। ফুটবল নামের গোলক দিয়ে বিশ্বকে মোহিত করা রোনালদিনহোর গল্পের শুরু ১৯৮০ সালের ২১ মার্চ। এই দিনে পোর্তো আলেগ্রেতে জন্ম তাঁর।

কিছু পাগলামির কারণে জাদুকর আজ জেলে থাকতে পারেন, তাই বলে কি ভক্তরা কি তাঁর জন্মদিন ভুলে যেতে পারে! ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শাখায় শাখায় তাই প্রিয় তারকার জন্মদিনে ভক্তদের অঞ্জলি-গাঁথা।

‘শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি রোনালদিনহো। ফুটবল খেলাটিকে এত সুন্দর করে তোলার জন্য ধন্যবাদ’, ‘মায়েস্ত্রোদের মায়েস্ত্রো, রাজাদের রাজা—আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা’—জন্মদিনে ভক্তদের কাছ থেকে এমন সব শ্রদ্ধাঞ্জলি পাচ্ছেন রোনালদিনহো। প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের জেলে যদি অন্তর্জাল সমৃদ্ধ মোবাইল তাঁর হাতে না থাকে তাহলে এগুলো দেখবেন কী করে আর আপ্লুতই-বা হবেন কী করে!

এক ভক্ত আবার তাঁর একটি ছবি টুইট করেছেন—বার্সেলোনার জার্সি গায়ে ব্যালন ডি’অর ট্রফিটা তাঁর হাতে। ঠোঁটের কোণে চিরাচরিত সেই মৃদু হাসি। ছবির ক্যাপশন দিয়েছেন এ রকম, ‘শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি। এই হাসি চিরদিন অম্লান থাকবে। সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’

রোনালদিনহোর ফুটবলের সৌন্দর্য কেমন ছিল তা কি আর কারও অজানা! তবু কিছু উদাহরণ দেওয়ার লোভ সামলানো কঠিন। ‘নো লুক’ পাসের আবিষ্কর্তা তিনি। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে নাট-মেগে ঘোল খাওয়ানো অথবা তাঁর বাইসাইকেল কিক বা অচিন্তনীয় সব ফ্রি-কিক আর কারিকুরি দেখে মুগ্ধ হয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমিক।

বার্সেলোনায় তাঁর শুরুর দিকে লা লিগার একটা ম্যাচে রেফারি কোনো একটা কারণে খেলা থামিয়েছিলেন। একটা বল পড়েছিল মাঠে, এর মধ্যে আরেকটা বল মাঠে চলে আসে। এমন সময়ে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই কি করবেন? বলটি লাথি মেরে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু রোনালদিনহো তো আর দশজনের মতো নন। তিনি বলটির দিকে এগিয়ে গেলেন, মুখে সেই চিরপরিচিত হাসি। ডান পায়ের বুট দিয়ে বলটিকে ঘুরিয়ে ওপরে তুললেন, সেটিকে নিলেন বাঁ পায়ে। অ্যাঙ্কেল দিয়ে বলটি ওপরে তুলে ব্যাকহিল করে মাঠের বাইরে পাঠালেন বল।

বলটি ঠিক গিয়ে পড়েছিল বলবয়ের হাতে। বলবয় বলটি হাতে নিয়ে হাসছিলেন, ভাবখানা এমন ছিল যেন মুহূর্তটা তাঁর। ন্যু ক্যাম্পের পুরো গ্যালারি তখন মুখরিত হাততালিতে। রোনালদিনহোর মুখে সেই হাসি। তখন আসলে হাসছিল পুরো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরাই। মুহূর্তটি যে ফুটবল ভালোবাসা সব মানুষদের জন্যই ছিল অবিস্মরণীয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর