০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নিজামুদ্দিন কাণ্ডের তীব্র সমালোচনায় অপর্ণা সেন

ঢাকা: নিজামুদ্দিনের জামাত নিয়ে বিগত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল গোটা দেশ। কারণ, মুসলিমদের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। যাঁদের মধ্যে সিংহভাগের শরীরেই থাবা বসিয়েছে COVID-19। যার জেরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই নিজামুদ্দিন কাণ্ডেরই তীব্র সমালোচনা করে মুখ খুললেন্ অভিনেত্রী অপর্ণা সেন।

ধর্মীয় নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী হলেও বিশ্বজুড়ে এমন করোনা ত্রাসের মধ্যেও জামাতের বিরোধিতা করেছেন অপর্ণা।

এর আগে একাধিকবার মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে গর্জে উঠতে দেখা গিয়েছে দেশের বিদ্বজ্জনদের অন্যতম মুখ অপর্ণা সেনকে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কিংবা দেশের মুসলিমরাই কেন শুধু আক্রমণের শিকার হচ্ছে? এমন প্রশ্নও ভিন্ন সময়ে তিনি তুলেছেন। কিন্তু এবার এই কঠিন পরিস্থিতিতে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তবলিঘি জামাতের বিরোধিতা করলেন। শুধু তাই নয়, এই কাজ যে অপরাধমূলক এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য, তীব্র সমালোচনা করে সেকথাও জানান অপর্ণা।

অপর্ণার কথায়, “হ্যাঁ, আমি ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদারনৈতিক মনোভাবাপন্ন। কিন্তু দেশের আইন বিরুদ্ধ কোনও কাজকেই আমি সমর্থন করি না, সেটা কোনও হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানই করুন বা কোনও শিখ, জৈন, পারসি।” তবলিঘি জামাত ইস্যু ছাড়াও লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের দুস্থদের কথাও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে। “হায় রে, দেশের সিংহভাগ মানুষই বোধহয় করোনার থাবায় নয়, বরং না খেতে পেয়ে মরে যাবে”, মন্তব্য অপর্ণার।

করোনা আতঙ্কে বিশ্বের মানুষ এখন গৃহবন্দি। একাধিক দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিশেষজ্ঞদের কপালে। কে বলতে পারে, হয়তো বিশ্বজুড়ে এই আর্থিক মন্দার জন্য অচিরেই নেমে আসতে পারে দুর্ভিক্ষ, মন্বন্তর! বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্তপূরণের জন্য লাগবে হাহাকার। ইতিহাসের সূচক তো অন্তত সেই ইঙ্গিতই করছে। এমন পরিস্থিতিতেই জয় গোস্বামীর লেখা ‘গৃহবধূর ডায়েরি’ কবিতাটি পাঠ করলেন অপর্ণা।

দরিদ্র-প্রান্তিক মানুষগুলির জন্য তাঁর এই উদ্বেগ অপর্ণাকে দিয়ে পাঠ করিয়ে নিল- “আমার সবচেয়ে ভয় হয় ওই পাগলদের জন্যে, ওই রাস্তার পাগলদের জন্যে, ওই চটপরাদের জন্যে, ওই জটপড়া চুলদাড়ি কিংবা ন্যাড়ামাথাদের জন্যে, আমার সবচেয়ে ভয় হয় ওরা প্রত্যেক মুহূর্তে কত কত দূরে চলে যাচ্ছে বাড়ি ছেড়ে দেশ ছেড়ে… ওদের কি বাপ-মা নেই ভাইবোন নেই কোন মেয়ে কি ওদের ভালবাসলো না ওরা কাকে চড় মেরে কার হাত ছাড়িয়ে কোন শিকল তোলা ঘরের জানলা টপকে একদিন দিগ্বিদিকে পালিয়ে যায়, যেভাবে উল্কা যায় আকাশে…।”

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় দুই শিশুসহ ‘গর্ভবতী’ মা নিহত

নিজামুদ্দিন কাণ্ডের তীব্র সমালোচনায় অপর্ণা সেন

প্রকাশিত : ০১:৪০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০

ঢাকা: নিজামুদ্দিনের জামাত নিয়ে বিগত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল গোটা দেশ। কারণ, মুসলিমদের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। যাঁদের মধ্যে সিংহভাগের শরীরেই থাবা বসিয়েছে COVID-19। যার জেরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই নিজামুদ্দিন কাণ্ডেরই তীব্র সমালোচনা করে মুখ খুললেন্ অভিনেত্রী অপর্ণা সেন।

ধর্মীয় নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী হলেও বিশ্বজুড়ে এমন করোনা ত্রাসের মধ্যেও জামাতের বিরোধিতা করেছেন অপর্ণা।

এর আগে একাধিকবার মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে গর্জে উঠতে দেখা গিয়েছে দেশের বিদ্বজ্জনদের অন্যতম মুখ অপর্ণা সেনকে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কিংবা দেশের মুসলিমরাই কেন শুধু আক্রমণের শিকার হচ্ছে? এমন প্রশ্নও ভিন্ন সময়ে তিনি তুলেছেন। কিন্তু এবার এই কঠিন পরিস্থিতিতে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তবলিঘি জামাতের বিরোধিতা করলেন। শুধু তাই নয়, এই কাজ যে অপরাধমূলক এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য, তীব্র সমালোচনা করে সেকথাও জানান অপর্ণা।

অপর্ণার কথায়, “হ্যাঁ, আমি ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদারনৈতিক মনোভাবাপন্ন। কিন্তু দেশের আইন বিরুদ্ধ কোনও কাজকেই আমি সমর্থন করি না, সেটা কোনও হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানই করুন বা কোনও শিখ, জৈন, পারসি।” তবলিঘি জামাত ইস্যু ছাড়াও লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের দুস্থদের কথাও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে। “হায় রে, দেশের সিংহভাগ মানুষই বোধহয় করোনার থাবায় নয়, বরং না খেতে পেয়ে মরে যাবে”, মন্তব্য অপর্ণার।

করোনা আতঙ্কে বিশ্বের মানুষ এখন গৃহবন্দি। একাধিক দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিশেষজ্ঞদের কপালে। কে বলতে পারে, হয়তো বিশ্বজুড়ে এই আর্থিক মন্দার জন্য অচিরেই নেমে আসতে পারে দুর্ভিক্ষ, মন্বন্তর! বেঁচে থাকার প্রাথমিক শর্তপূরণের জন্য লাগবে হাহাকার। ইতিহাসের সূচক তো অন্তত সেই ইঙ্গিতই করছে। এমন পরিস্থিতিতেই জয় গোস্বামীর লেখা ‘গৃহবধূর ডায়েরি’ কবিতাটি পাঠ করলেন অপর্ণা।

দরিদ্র-প্রান্তিক মানুষগুলির জন্য তাঁর এই উদ্বেগ অপর্ণাকে দিয়ে পাঠ করিয়ে নিল- “আমার সবচেয়ে ভয় হয় ওই পাগলদের জন্যে, ওই রাস্তার পাগলদের জন্যে, ওই চটপরাদের জন্যে, ওই জটপড়া চুলদাড়ি কিংবা ন্যাড়ামাথাদের জন্যে, আমার সবচেয়ে ভয় হয় ওরা প্রত্যেক মুহূর্তে কত কত দূরে চলে যাচ্ছে বাড়ি ছেড়ে দেশ ছেড়ে… ওদের কি বাপ-মা নেই ভাইবোন নেই কোন মেয়ে কি ওদের ভালবাসলো না ওরা কাকে চড় মেরে কার হাত ছাড়িয়ে কোন শিকল তোলা ঘরের জানলা টপকে একদিন দিগ্বিদিকে পালিয়ে যায়, যেভাবে উল্কা যায় আকাশে…।”

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ