লালমনিরহাটে বসেছে বউ-জামাই মেলা। শুক্রবার থেকে জেলার বড়বাড়িতে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হয়েছে ৫দিনব্যাপী এ মেলা। প্রথম দিনেই মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এ ব্যাতিক্রমী মৎস্য ও পিঠা মেলায় স্টল গুলো বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাজানো হয়েছে। গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এ ব্যাতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় শতাধিক মাছের আড়ৎ ও পিঠা বিক্রির স্টল রয়েছে। জেলার প্রথম এই ব্যতিক্রমী মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ও আশেপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছে।
শুধু তাই নয়,মেলা উপলক্ষে সদরের ৪টি ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে এসেছে মেয়ে ও জামাই। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই ব্যতিক্রমী মেলায় রংপুর অঞ্চলের হারানো সব ঐতিহ্য স্থান পেয়েছে। সকলের জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় চলবে জারি-সারি-লোকসংগীত ও ভাওয়াইয়া গান।
জেলার সদর উপজেলার বড়বাড়ি এলাকার শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার সকাল ১০টায় এ মেলার উদ্বোধন করেন, বউ-জামাই মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মৎস্য খামারী ও ব্যবসায়ীরা এ মেলায় অংশ নেয়।
বিশাল বিশাল সামুদ্রীক বিভিন্ন প্রকারের মাছ এ প্রজম্মকে দেখানো এবং পরিচিতির জন্য এ মেলার মুল উদ্দেশ্য বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। শুক্রবার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ব্যাতিক্রমী মেলা চলবে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের ওই মহাবিদ্যালয় মাঠে।
এ মেলা উদ্বোধনের পর পরই এ অঞ্চলের মানুষ সাজিয়ে গুজিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাদের সন্তানদের নিয়ে এসেছে এ মেলায় মাছ ও পিঠা কিনতে।
ক্রেতারা বলছেন, অনেক আশা নিয়ে এসেছি এ মেলায় পিঠা ও মাছ কিনতে, কিন্তু বিক্রেতারা মাছে ও পিঠার দাম হাকাচ্ছে বেশী। বিক্রেতারা বলছেন, সামুদ্রীক মাছ গুলো আড়তেই চড়া দাম। এ কারনে পরিবহন খরচ নিয়ে এই মাছ গুলোর দাম প্রতি কেজি দেড় হাজার থেকে দু হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি না করলে লাভ হবে না।
আর পিঠা বিক্রেতারা বলছেন, সব জিনিসেরই দাম বেশি তাই পিঠার দামতো একটু বেশি হবেই। তবে দাম যাই হোক,পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য মেলায় আসা বউ ও জামাই পছন্দ মতো মাছ ও পিঠা কিনে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে।
মেলা প্রসঙ্গে মেলা উৎযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গ্রামীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে দ্বিতীয় বারের মতো বউ জামাই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় জামাই বড় মাছ কিনে শ^শুর বাড়ি যাবে আর হরেক রকম পিঠা খাবে। এ ছাড়াও নতুন প্রজম্মের শিশুরা বিলুপ্ত প্রায় অনেক মাছেই দেখেনি। মৎস্য মেলার মাধ্যমে সেসব মাছের সাথে পরিচিত হবে এবং বড় বড় মাছ দেখতে পাবে। পাশাপাশি মৎস্য খামারীরাও বৃহৎ আকারে মৎস্য চাষে উৎসাহ পাবে।






















