০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন

দুই দিনের টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত রাজধানীবাসীর জনজীবন। প্রথম দিনেই জমে থাকা হাঁটু পানির রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দিনেও মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। এতে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মমুখী মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় রাজধানীর ধানমন্ডি, কারওয়ানবাজার, সংসদ ভবন এলাকা, বাড্ডা, মিরপুর, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। খুবই দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হয় মিরপুর রোড দিয়ে চলাচলকারীদের।

ধানমন্ডি ২৭ মোড়ে জলাবদ্ধতার কারণে পানি জমে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই বিভিন্ন যানবাহনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। আর যারা পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছাতে চান তাদের হতে হয়েছে ভেজা কাক। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোমর সমান পানি মাড়িয়ে পথচারীদের চলতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে কম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না ব্যক্তিগত যানবাহন মালিকদের। প্রাইভেটকার এবং মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যাওয়ায় যানবাহন ঢেলে সরিয়ে নিতে হয়েছে অনেককেই।

ধানমন্ডিতে অবস্থিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মিরাজ মেসবাহ মঙ্গলবার সকালে অফিসে যাওয়ার ভোগান্তি বর্ণনা করেন।

মেসবাহ বলেন, আমার বাসা মিরপুর। সেখানে হাঁটু সমান পানি। কর্পোরেট অফিস, জুতা পরে আসতে হয়। সোমবার ভিজে ভিজে অফিসে গিয়েছিলাম। মঙ্গলবার ব্যাগে এক সেট ড্রেস আর জুতা নিয়ে এসেছি। ধানমন্ডি এসে নামলাম। এই সকালেই এখানেই হাঁটুপানি জমে গেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে আত্মীয়ের চিকিৎসা শেষে দারুস সালামে নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন কাওসার হোসেন দিপু। ধানমন্ডি আসতেই পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে গেলো সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল। একটি রিকশায় বাইক আরেকটি রিকশায় নিজে পেছন পেছন যেতে দেখা গেলো তাকে।

তিনি বললেন, ধানমন্ডি আসতেই সাইলেন্সারের পানি ঢুকে বাইক বন্ধ হয়ে গেলো। আর স্টার্ট নিচ্ছে না। এখন বাইক সামলাবো নাকি অফিসে যাবো? কোনো জায়গা থেকে যে সাহায্য আনবো তাও সম্ভব না। সব জায়গায় পানি। পানি মাড়িয়ে ও  বাইক ঢেলে নিয়ে যাওয়াও কষ্টকর। তাই রিকশায় করে নিয়ে যাচ্ছি। অফিসে যাই আগে।

অফিস করতে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা নাজমুল হাসান দীর্ঘক্ষণ জ্যামে বসে আছেন মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায়। তিনি বলেন, সকাল থেকে এই গাড়িতেই বসে আছি। এক ঘণ্টা সময় লেগেছে শুধু মিরপুর ১০ নম্বর থেকে শেওড়াপারা আসতে। সোমবার সেগুনবাগিচা গিয়েছিলাম। মিরপুর-১ থেকে সাড়ে আটটায় বাসে উঠেছিলাম। পৌনে একটায় সেগুনবাগিচা পৌঁছেছি। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ যে, সন্ধ্যা হয় নাই। আজকে সন্ধ্যা হয় কিনা দেখছি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুমিল্লায় শতাধিক মাল্টিমিডিয়া সংবাদকর্মীদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশিত : ১২:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

দুই দিনের টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত রাজধানীবাসীর জনজীবন। প্রথম দিনেই জমে থাকা হাঁটু পানির রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দিনেও মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। এতে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মমুখী মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় রাজধানীর ধানমন্ডি, কারওয়ানবাজার, সংসদ ভবন এলাকা, বাড্ডা, মিরপুর, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। খুবই দুর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হয় মিরপুর রোড দিয়ে চলাচলকারীদের।

ধানমন্ডি ২৭ মোড়ে জলাবদ্ধতার কারণে পানি জমে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই বিভিন্ন যানবাহনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় যাত্রীদের। আর যারা পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছাতে চান তাদের হতে হয়েছে ভেজা কাক। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কোমর সমান পানি মাড়িয়ে পথচারীদের চলতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে কম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না ব্যক্তিগত যানবাহন মালিকদের। প্রাইভেটকার এবং মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যাওয়ায় যানবাহন ঢেলে সরিয়ে নিতে হয়েছে অনেককেই।

ধানমন্ডিতে অবস্থিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মিরাজ মেসবাহ মঙ্গলবার সকালে অফিসে যাওয়ার ভোগান্তি বর্ণনা করেন।

মেসবাহ বলেন, আমার বাসা মিরপুর। সেখানে হাঁটু সমান পানি। কর্পোরেট অফিস, জুতা পরে আসতে হয়। সোমবার ভিজে ভিজে অফিসে গিয়েছিলাম। মঙ্গলবার ব্যাগে এক সেট ড্রেস আর জুতা নিয়ে এসেছি। ধানমন্ডি এসে নামলাম। এই সকালেই এখানেই হাঁটুপানি জমে গেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে আত্মীয়ের চিকিৎসা শেষে দারুস সালামে নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন কাওসার হোসেন দিপু। ধানমন্ডি আসতেই পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে গেলো সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল। একটি রিকশায় বাইক আরেকটি রিকশায় নিজে পেছন পেছন যেতে দেখা গেলো তাকে।

তিনি বললেন, ধানমন্ডি আসতেই সাইলেন্সারের পানি ঢুকে বাইক বন্ধ হয়ে গেলো। আর স্টার্ট নিচ্ছে না। এখন বাইক সামলাবো নাকি অফিসে যাবো? কোনো জায়গা থেকে যে সাহায্য আনবো তাও সম্ভব না। সব জায়গায় পানি। পানি মাড়িয়ে ও  বাইক ঢেলে নিয়ে যাওয়াও কষ্টকর। তাই রিকশায় করে নিয়ে যাচ্ছি। অফিসে যাই আগে।

অফিস করতে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা নাজমুল হাসান দীর্ঘক্ষণ জ্যামে বসে আছেন মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায়। তিনি বলেন, সকাল থেকে এই গাড়িতেই বসে আছি। এক ঘণ্টা সময় লেগেছে শুধু মিরপুর ১০ নম্বর থেকে শেওড়াপারা আসতে। সোমবার সেগুনবাগিচা গিয়েছিলাম। মিরপুর-১ থেকে সাড়ে আটটায় বাসে উঠেছিলাম। পৌনে একটায় সেগুনবাগিচা পৌঁছেছি। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ যে, সন্ধ্যা হয় নাই। আজকে সন্ধ্যা হয় কিনা দেখছি।