১১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ নওগাঁর আস্তান মোল্লা সড়ক ; যানবাহন চলাচল স্থগিত ঘোষণা

ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিদিনই ভাঙছে নওগাঁ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাঁসাইগাড়ী বিলের নান্দনিক আস্তান মোল্লা সড়ক। সড়কটি বন্যার পানির ঢেউয়ের আঘাতে প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হচ্ছে। এ বছরে নওগাঁয় অতি বন্যায় ইতোমধ্যে সড়কের একাংশ ভেঙে বিলের সাথে বিলীন হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
ঐতিহ্যবাহী সড়কটিকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় জনগণ ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি ও কচুরিপানা দিয়ে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছেন যা একেবারে অসম্ভব এবং অপ্রতুল। স্থানীয় সাংসদ সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শণ করে রাস্তায় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সফল বাণিজ্য মন্ত্রী প্রয়াত জননেতা আব্দুল জলিল এমপির উদ্যোগে হাঁসাইগাড়ী বিলে অথৈ জলের মধ্যে নির্মাণ করা হয় সড়কটি। সড়কটি মান্দা উপজেলার পূর্ব অংশ, সদরের হাঁসাইগাড়ী, শিকারপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের সাথে নওগাঁ জেলা সদরের একমাত্র যোগাযোগের রাস্তা হলেও হাঁসাইগাড়ী বিশাল জলরাশির মধ্যদিয়ে নির্মিত দীর্ঘ প্রায় ২০কিমি এই সড়ক এখন নওগাঁ জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশাল এ বিলের বুক চিরে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন সড়ক এবং বিশাল জলরাশির খেলা দেখতে প্রায় ৭ কিমি অংশে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভীর জমাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের এই সংখ্যা এতোটাই বেড়েছে যে, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ এপথ দর্শনার্থীদের ভীড়ে পাড়ি দেয়া একেবারে অসম্ভব।
এদিকে নওগাঁর দক্ষিণের মান্দা উপজেলার পূর্ব অংশ, সদরের হাঁসাইগাড়ী, শিকারপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামবাসি বিপাকে পারেছেন। ছোট যানবাহন চলাচল করলেও বড় বা মাঝারি ধরণের যানবাহন বন্ধ করায় অনেকেই বাড়ির ধানসহ অন্যান্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নওগাঁয় আনা-নেওয়া করতে পারছেন না।
ভ্যান চালক করিম শেখ, স্থানীয় বাবুল হোসেন, কৃষক আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি নির্মাণের পর থেকে বিলের অথৈজলের ঢেউ প্রতিরোধে নেওয়া হয়নি কোন কার্যকর ব্যবস্থা। ফলে বর্ষায় ঢেউয়ের আঘাতে ক্রমাগত ভাঙ্গছে সড়কটির এক পাশ। যে সব স্থানে ব্লক দেওয়া ছিলো তা অনেক পুরাতন হওয়ায় নষ্ট হয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে রাস্তার মাটি। ইতিমধ্যেই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে রাস্তার পাশের স্টিট লাইটগুলো। বিলের পানি কমার পর যদি রাস্তাটি উচু করে দুই পাশ দিয়ে মেট্টিসিন ও ব্লক দেওয়া না হয় তাহলে আগামীবছর এই রাস্তাটির কোন অস্তিত্ব থাকবে না বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাঁশ এবং কচুরিপানা দিয়ে সড়ক রক্ষার কাজে ব্যাস্ত স্থানীয় হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নওগাঁর ভীমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রয়াত জননেতা আব্দুল জলিল এমপির সপ্নের সড়ক এটি। প্রতি বছর ঢেউ আর বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হুমকির মুখে এই সড়কটি। দীর্ঘ দিন যাবত এলজিইডি থেকে সিসি ব্লক বা মেট্রিসিনসহ সড়ক প্রশস্থ ও মেরামতের কোন কাজ না করায় সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। তিনি সড়কটি সংস্কারে স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল সড়কটি প্রশস্ত করাসহ সিসি ব্লক দিয়ে নির্মান করে পর্যটন বান্ধব করার দাবী জানান।
মান্দা থেকে আসা পলাশ কুমার, নজরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, বিলের সৌন্দর্য্য বর্ধনসহ রাস্তাটি উচু করে পাশ দিয়ে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা, ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ছাউনি স্থাপনসহ আধুনিক পর্যটক কেন্দ্র পরিণত করার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কারণ এখানে আসা পর্যটকদের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে স্থানীয় শত শত মানুষ। স্থানীয় মানুষরা কর্ম খুঁজে পেয়েছেন। তাই স্থানটিকে আরো উন্নত করা প্রয়োজন।
এলজিইডি নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম বলেন, ভাঙ্গনের বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জনসহ আমরা সড়কটির ক্ষতি গ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শণ করেছি। এটি সংস্কারে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমদিত হলে পানি কমে যাওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে এর সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আসা করছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ ডটকম সম্পাদক দুই হাজার পরিবারকে উপহার দিলেন ঈদ সামগ্রী

ঝুঁকিপূর্ণ নওগাঁর আস্তান মোল্লা সড়ক ; যানবাহন চলাচল স্থগিত ঘোষণা

প্রকাশিত : ০৪:১৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০

ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিদিনই ভাঙছে নওগাঁ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাঁসাইগাড়ী বিলের নান্দনিক আস্তান মোল্লা সড়ক। সড়কটি বন্যার পানির ঢেউয়ের আঘাতে প্রতি বছরই ভাঙনের শিকার হচ্ছে। এ বছরে নওগাঁয় অতি বন্যায় ইতোমধ্যে সড়কের একাংশ ভেঙে বিলের সাথে বিলীন হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
ঐতিহ্যবাহী সড়কটিকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় জনগণ ব্যক্তি উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি ও কচুরিপানা দিয়ে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছেন যা একেবারে অসম্ভব এবং অপ্রতুল। স্থানীয় সাংসদ সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শণ করে রাস্তায় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সফল বাণিজ্য মন্ত্রী প্রয়াত জননেতা আব্দুল জলিল এমপির উদ্যোগে হাঁসাইগাড়ী বিলে অথৈ জলের মধ্যে নির্মাণ করা হয় সড়কটি। সড়কটি মান্দা উপজেলার পূর্ব অংশ, সদরের হাঁসাইগাড়ী, শিকারপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের সাথে নওগাঁ জেলা সদরের একমাত্র যোগাযোগের রাস্তা হলেও হাঁসাইগাড়ী বিশাল জলরাশির মধ্যদিয়ে নির্মিত দীর্ঘ প্রায় ২০কিমি এই সড়ক এখন নওগাঁ জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশাল এ বিলের বুক চিরে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন সড়ক এবং বিশাল জলরাশির খেলা দেখতে প্রায় ৭ কিমি অংশে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভীর জমাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের এই সংখ্যা এতোটাই বেড়েছে যে, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ এপথ দর্শনার্থীদের ভীড়ে পাড়ি দেয়া একেবারে অসম্ভব।
এদিকে নওগাঁর দক্ষিণের মান্দা উপজেলার পূর্ব অংশ, সদরের হাঁসাইগাড়ী, শিকারপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামবাসি বিপাকে পারেছেন। ছোট যানবাহন চলাচল করলেও বড় বা মাঝারি ধরণের যানবাহন বন্ধ করায় অনেকেই বাড়ির ধানসহ অন্যান্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নওগাঁয় আনা-নেওয়া করতে পারছেন না।
ভ্যান চালক করিম শেখ, স্থানীয় বাবুল হোসেন, কৃষক আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি নির্মাণের পর থেকে বিলের অথৈজলের ঢেউ প্রতিরোধে নেওয়া হয়নি কোন কার্যকর ব্যবস্থা। ফলে বর্ষায় ঢেউয়ের আঘাতে ক্রমাগত ভাঙ্গছে সড়কটির এক পাশ। যে সব স্থানে ব্লক দেওয়া ছিলো তা অনেক পুরাতন হওয়ায় নষ্ট হয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে রাস্তার মাটি। ইতিমধ্যেই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে রাস্তার পাশের স্টিট লাইটগুলো। বিলের পানি কমার পর যদি রাস্তাটি উচু করে দুই পাশ দিয়ে মেট্টিসিন ও ব্লক দেওয়া না হয় তাহলে আগামীবছর এই রাস্তাটির কোন অস্তিত্ব থাকবে না বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাঁশ এবং কচুরিপানা দিয়ে সড়ক রক্ষার কাজে ব্যাস্ত স্থানীয় হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নওগাঁর ভীমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রয়াত জননেতা আব্দুল জলিল এমপির সপ্নের সড়ক এটি। প্রতি বছর ঢেউ আর বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হুমকির মুখে এই সড়কটি। দীর্ঘ দিন যাবত এলজিইডি থেকে সিসি ব্লক বা মেট্রিসিনসহ সড়ক প্রশস্থ ও মেরামতের কোন কাজ না করায় সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। তিনি সড়কটি সংস্কারে স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল সড়কটি প্রশস্ত করাসহ সিসি ব্লক দিয়ে নির্মান করে পর্যটন বান্ধব করার দাবী জানান।
মান্দা থেকে আসা পলাশ কুমার, নজরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, বিলের সৌন্দর্য্য বর্ধনসহ রাস্তাটি উচু করে পাশ দিয়ে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা, ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ছাউনি স্থাপনসহ আধুনিক পর্যটক কেন্দ্র পরিণত করার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কারণ এখানে আসা পর্যটকদের উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে স্থানীয় শত শত মানুষ। স্থানীয় মানুষরা কর্ম খুঁজে পেয়েছেন। তাই স্থানটিকে আরো উন্নত করা প্রয়োজন।
এলজিইডি নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম বলেন, ভাঙ্গনের বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জনসহ আমরা সড়কটির ক্ষতি গ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শণ করেছি। এটি সংস্কারে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমদিত হলে পানি কমে যাওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে এর সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আসা করছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ