০৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

গ্রামবাসীর উদ্যোগে কলাপাড়ায় ভাসমান সেতু

দেশের উন্নয়নে শুধু রাস্ট্র নয়; নাগরিকদের দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে তার প্রমাণ করে দিয়েছেন কলাপাড়ার সুবিধা বঞ্চিত কৃষক-শ্রমিকসহ সকল পেশার মানুষ। নিজেদের অর্থায়নে নির্মান করা হয়েছে ভাসমান সেতু।

‘সমাজের অতি জরুরী উন্নয়ন কাজ শুধু রাস্ট্রের মাধ্যমেই করতে হবে এমন কোন কথা নেই, কিছু কাজ রাস্ট্রের নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে করলে দেশের উন্নতি হয়।’ এভাবে কথা গুলো বলছেন আর হাতুড়ির আঘাতে লোহা দিয়ে সেতুর কাঠ আটকাচ্ছেন মো. জাকির হোসেন গাজী।

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রাম সংলগ্ন পাখিমারা খালের ওপর গ্রামবাসীর অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছা শ্রমে ভাসমান সেতু নির্মান করা হয়েছে।

গত ০৫ আগস্ট নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ১১৬ মিটার আয়রন ব্রিজটি ভেঙ্গে পরে। করোনা পরিস্থিতিতে মজিদপুর, এলেমপুর এবং কুমিরমারাসহ আশপাশের গ্রমের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পন্য বাজার জাত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভঙ্গে পরে।

সরকারী উদ্যোগে ব্রিজ নির্মান সময় সাপেক্ষতার বিবেচনা থেকে স্থানীয় কৃষকরা যোগাযোগ অচল অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য স্থানীয় কৃষকদের পরিকল্পায় প্লাস্টিকের ড্রাম এবং কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়েছে ১১৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং ০৪ ফুট প্রস্থ্যের ভাসমান ব্রিজটি।

কৃষক-জনতার উদ্যোগে ভাসমান ব্রিজ নির্মানের খবরে উপকূলীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃস্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষ আসছে সেতুটি দেখার জন্য।

সরেজমিন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এবং কুমিরমারা গ্রামের সেতু নির্মান স্থানে গিয়ে দেখাগেছে, রাতের আঁধার কেটে যাওয়ার সাথে সাথেই একে একে সেতু নির্মানের জন্য কুমিরমারা, মজিদপুরের কৃষকরা একে একে এসে জড়ো হয়েছেন। যার যার দায়িত্ব নিয়ে সেতু নির্মান কাজে মগ্ন হয়ে পরে।

কৃষক আলমগীর হোসেন জোমাদ্দার বলেন, দুই মাস আগে এই হানের ব্রিজ ভাইঙ্গা খালে পইর‌্যা যায়। হেইয়্যার পর হইতেই আমাগো দূর্ভোগ শুরু হয়। নীলগঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের
১০টি গ্রামের সহাস্রাধিক পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা, শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন এইখান থেকে হাজার হাজার মণ কৃষি পন্য বিভিন্ন হাট-বাজার এবং মোকামে প্রেরণ করা হয়।

সেতুটি নির্মানের জন্য ৭২টি প্লাস্টিকের বড় ড্রাম, ২৫০ কেপি চাম্পল কাঠ, ০৩ মণ লোহা (পেরেগ) ০৩ মণ প্লাস্টিক রশি। সেতুটি নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। নির্মান কাজে স্বেচ্ছা শ্রমে কাজ করেছে ১২ জন কৃষক।

সেতুটি এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যে, সেতুর ওপর দিয়ে পন্যবাহী ভ্যান এবং যাত্রীবাহী ভ্যান চলাচল করতে পারবে। সেতুটির দুই পাশে মোটা রশি দিয়ে খালের দুই মাথায় শক্ত করে বাঁধা রয়েছে এবং ড্রামগুলি এমন ভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে, ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে।

১১৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং ০৪ ফুট প্রস্থ্যের সেতুটি নির্মানে খরচ হয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা। এসকল টাকা কুমিরমারা, মজিদপুর গ্রামের ২০০ পরিবার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার প্রতি ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি টাকা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সহায়তা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানাগেছে, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত হয় ব্রিজটি গত ০৫ আগস্ট রাতে ভেঙ্গে পরায় এলাকার মানুষ চরম দূর্যোগে ছিলো।

এবিষয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী মোহর আলী বলেন, জন গুরুত্বূপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর গার্ডার ব্রিজ নির্মানের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এলজিইডি’র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ব্রিজটি পুনঃ নির্মান কিংবা বিকল্প ব্যবস্থায় জনসাধারনে চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য যথাযথ বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি পুনঃনির্মান কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

গ্রামবাসীর উদ্যোগে কলাপাড়ায় ভাসমান সেতু

প্রকাশিত : ০৫:২০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

দেশের উন্নয়নে শুধু রাস্ট্র নয়; নাগরিকদের দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে তার প্রমাণ করে দিয়েছেন কলাপাড়ার সুবিধা বঞ্চিত কৃষক-শ্রমিকসহ সকল পেশার মানুষ। নিজেদের অর্থায়নে নির্মান করা হয়েছে ভাসমান সেতু।

‘সমাজের অতি জরুরী উন্নয়ন কাজ শুধু রাস্ট্রের মাধ্যমেই করতে হবে এমন কোন কথা নেই, কিছু কাজ রাস্ট্রের নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে করলে দেশের উন্নতি হয়।’ এভাবে কথা গুলো বলছেন আর হাতুড়ির আঘাতে লোহা দিয়ে সেতুর কাঠ আটকাচ্ছেন মো. জাকির হোসেন গাজী।

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রাম সংলগ্ন পাখিমারা খালের ওপর গ্রামবাসীর অর্থায়নে এবং স্বেচ্ছা শ্রমে ভাসমান সেতু নির্মান করা হয়েছে।

গত ০৫ আগস্ট নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ১১৬ মিটার আয়রন ব্রিজটি ভেঙ্গে পরে। করোনা পরিস্থিতিতে মজিদপুর, এলেমপুর এবং কুমিরমারাসহ আশপাশের গ্রমের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পন্য বাজার জাত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভঙ্গে পরে।

সরকারী উদ্যোগে ব্রিজ নির্মান সময় সাপেক্ষতার বিবেচনা থেকে স্থানীয় কৃষকরা যোগাযোগ অচল অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য স্থানীয় কৃষকদের পরিকল্পায় প্লাস্টিকের ড্রাম এবং কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়েছে ১১৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং ০৪ ফুট প্রস্থ্যের ভাসমান ব্রিজটি।

কৃষক-জনতার উদ্যোগে ভাসমান ব্রিজ নির্মানের খবরে উপকূলীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃস্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষ আসছে সেতুটি দেখার জন্য।

সরেজমিন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার এবং কুমিরমারা গ্রামের সেতু নির্মান স্থানে গিয়ে দেখাগেছে, রাতের আঁধার কেটে যাওয়ার সাথে সাথেই একে একে সেতু নির্মানের জন্য কুমিরমারা, মজিদপুরের কৃষকরা একে একে এসে জড়ো হয়েছেন। যার যার দায়িত্ব নিয়ে সেতু নির্মান কাজে মগ্ন হয়ে পরে।

কৃষক আলমগীর হোসেন জোমাদ্দার বলেন, দুই মাস আগে এই হানের ব্রিজ ভাইঙ্গা খালে পইর‌্যা যায়। হেইয়্যার পর হইতেই আমাগো দূর্ভোগ শুরু হয়। নীলগঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের
১০টি গ্রামের সহাস্রাধিক পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা, শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন এইখান থেকে হাজার হাজার মণ কৃষি পন্য বিভিন্ন হাট-বাজার এবং মোকামে প্রেরণ করা হয়।

সেতুটি নির্মানের জন্য ৭২টি প্লাস্টিকের বড় ড্রাম, ২৫০ কেপি চাম্পল কাঠ, ০৩ মণ লোহা (পেরেগ) ০৩ মণ প্লাস্টিক রশি। সেতুটি নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। নির্মান কাজে স্বেচ্ছা শ্রমে কাজ করেছে ১২ জন কৃষক।

সেতুটি এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যে, সেতুর ওপর দিয়ে পন্যবাহী ভ্যান এবং যাত্রীবাহী ভ্যান চলাচল করতে পারবে। সেতুটির দুই পাশে মোটা রশি দিয়ে খালের দুই মাথায় শক্ত করে বাঁধা রয়েছে এবং ড্রামগুলি এমন ভাবে স্থাপন করা হয়েছে যে, ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে।

১১৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং ০৪ ফুট প্রস্থ্যের সেতুটি নির্মানে খরচ হয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা। এসকল টাকা কুমিরমারা, মজিদপুর গ্রামের ২০০ পরিবার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার প্রতি ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি টাকা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সহায়তা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানাগেছে, ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত হয় ব্রিজটি গত ০৫ আগস্ট রাতে ভেঙ্গে পরায় এলাকার মানুষ চরম দূর্যোগে ছিলো।

এবিষয়ে এলজিইডি প্রকৌশলী মোহর আলী বলেন, জন গুরুত্বূপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর গার্ডার ব্রিজ নির্মানের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এলজিইডি’র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ব্রিজটি পুনঃ নির্মান কিংবা বিকল্প ব্যবস্থায় জনসাধারনে চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিতের জন্য যথাযথ বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি পুনঃনির্মান কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর