০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ধানের শীষের ভরাডুবি, এজেন্ট খুঁজে পাননি খন্দকার মোশাররফ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলমকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। উপজেলায় ১০২ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে ২টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে ভোট গ্রহন বাতিল হয়েছে। ঘোষিত ১০০ কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলে দেখা যায় নৌকা প্রতীকে মেজর মোহাম্মদ আলী ১৫২২৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার প্রতিদ্বন্ধী ধানের শীষ প্রতীকে সাইফুল আলম ৪২৩০ ভোট পেয়ে জামানত হারান। খোদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড.খন্দকার মোশারফ হোসেনের কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ১৬১৭ ভোট এবং ধানের শীষ মাত্র ২৫ ভোট। এদিকে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলমের কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ১৩০ ভোট অপর দিকে নৌকার প্রার্থী ভোট পেয়েছে ১৫৯১ ভোট ।স এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে (পুরুষ) তালা প্রতীকে তারিকুল ইসলাম (নয়ন) ৭৬১০৫ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী টিয়া পাখি প্রতীক পেয়েছেন ৪১০২১ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রজাপতি প্রতীকে রোজিনা আক্তার পেয়েছেন ১৩৯৭১৯ ভোট তার প্রতিদ্বন্ধী ধানের শীষের ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন মাত্র ১০২৭৮ ভোট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোট দেওয়ার জন্য বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন তারই পুত্র খন্দকার মারুফ হোসেন ও ধানের শীষ প্রার্থী সাইফুল আলম ভোট দিতে নিজ-নিজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যাননি। বিজয়ী প্রার্থী মেজর সুমন জানান, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের ৯২% কেন্দ্রই ছিল এজেন্টবিহীন , এ সকল কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থিত ধানের শীষ প্রার্থী সাইফুল আলম ভূইঁয়া এজেন্ট দিতেই ব্যর্থ হন । কারন তিনি জানেন জনগণ তার পাশে নেই দাউদকান্দির মানুষ ঢাকায় বসে রাজনীতি করা লোকদের এজেন্ট হয়ে লাভ নেই তাই এজেন্ট দিতে পারেননি। মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয় এবং বিকেল ৫টায় দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্নভাবে শেষ হয়।

ভোট গ্রহন চলাকালীন সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে ছিল। এবং সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করেন । নির্বাচন সুষ্ঠ করতে ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত ছিলেন। সেই সাথে ভোট গ্রহনের জন্য ২ হাজার ১ শত ৮০ জন প্রিজাইটিং অফিসার সহকারী প্রিজাইটিং অফিসার ও পোলিং অফিসার ছিলেন। এবং পর্যাপ্ত পুলিশ র‌্যাব বিজিবি আনসার মোতায়ন ছিল। সকাল ১০ টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূইয়া (অব.) ও নৌকার প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন নিজ কেন্দ্র জুরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান করেন। নিজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জেনারেল সুবিদ আলী ভূইয়া (অব. (এমপি) গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন আমরা সব সময় সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে বিশ্বাসি তাই কোথায় কোন প্রকার অনিয়ম হলে আপনারা সাথে সাথে পুলিশ প্রশাসনকে জানাবেন তারা ব্যবস্থা নিবে ।

সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ভোট হবে জনগণ যাকে পছন্দ করেন তাকেই ভোট দিবেন । জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস তারা যাকে মনোনীত করবেন আমারা তাকেই মেনে নিব । ভোটারদের উপস্থিতি প্রমাণ করে পোষ্টারবিহীন নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য। দাউদকান্দিতে উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকল গণমাধ্যমকর্মী ও উপস্থিত ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় নৌকার প্রার্থী মেজর সুমন সাংবাদিকদের বলেন, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে পোষ্টারবিহীন নির্বাচন , আমি দাউদকান্দি উপজেলা যে উন্নয়ন করেছি আমাকে ও আমার প্রতীককে সবাই চিনে ও জানে তাই আমার পোষ্টার বিহীন নির্বাচনেও আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব ইনশাল্লাহ ,তিনি আরো বলেন আজ আপনারা নিজেরাই দাউদকান্দিকতে ভোটারদের উপস্থিতি তা প্রমান করে ।

মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনে নৌকা জয়ী হবে এবং ধানের শীষের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তিনি কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল ইসলাম খান বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, সমগ্র দাউদকান্দিতে কোন প্রকার কোন প্রকার অপৃতিকর ঘটনা ছাড়াই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আশরাফুন নাহার জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গ্রহনে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল তাই আমরা সফল হয়েছি। উল্লেখ্য, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১০২ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্েয ২ টি কেন্দ্র বালিত হয়। এতে ভোটার ছিল ২৭৩৫০১ জন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ই/এম

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ধানের শীষের ভরাডুবি, এজেন্ট খুঁজে পাননি খন্দকার মোশাররফ

প্রকাশিত : ০৫:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলমকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। উপজেলায় ১০২ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে ২টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে ভোট গ্রহন বাতিল হয়েছে। ঘোষিত ১০০ কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলে দেখা যায় নৌকা প্রতীকে মেজর মোহাম্মদ আলী ১৫২২৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার প্রতিদ্বন্ধী ধানের শীষ প্রতীকে সাইফুল আলম ৪২৩০ ভোট পেয়ে জামানত হারান। খোদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড.খন্দকার মোশারফ হোসেনের কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ১৬১৭ ভোট এবং ধানের শীষ মাত্র ২৫ ভোট। এদিকে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলমের কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ১৩০ ভোট অপর দিকে নৌকার প্রার্থী ভোট পেয়েছে ১৫৯১ ভোট ।স এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে (পুরুষ) তালা প্রতীকে তারিকুল ইসলাম (নয়ন) ৭৬১০৫ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী টিয়া পাখি প্রতীক পেয়েছেন ৪১০২১ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রজাপতি প্রতীকে রোজিনা আক্তার পেয়েছেন ১৩৯৭১৯ ভোট তার প্রতিদ্বন্ধী ধানের শীষের ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন মাত্র ১০২৭৮ ভোট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোট দেওয়ার জন্য বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন তারই পুত্র খন্দকার মারুফ হোসেন ও ধানের শীষ প্রার্থী সাইফুল আলম ভোট দিতে নিজ-নিজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যাননি। বিজয়ী প্রার্থী মেজর সুমন জানান, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের ৯২% কেন্দ্রই ছিল এজেন্টবিহীন , এ সকল কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থিত ধানের শীষ প্রার্থী সাইফুল আলম ভূইঁয়া এজেন্ট দিতেই ব্যর্থ হন । কারন তিনি জানেন জনগণ তার পাশে নেই দাউদকান্দির মানুষ ঢাকায় বসে রাজনীতি করা লোকদের এজেন্ট হয়ে লাভ নেই তাই এজেন্ট দিতে পারেননি। মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয় এবং বিকেল ৫টায় দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্নভাবে শেষ হয়।

ভোট গ্রহন চলাকালীন সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে ছিল। এবং সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করেন । নির্বাচন সুষ্ঠ করতে ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত ছিলেন। সেই সাথে ভোট গ্রহনের জন্য ২ হাজার ১ শত ৮০ জন প্রিজাইটিং অফিসার সহকারী প্রিজাইটিং অফিসার ও পোলিং অফিসার ছিলেন। এবং পর্যাপ্ত পুলিশ র‌্যাব বিজিবি আনসার মোতায়ন ছিল। সকাল ১০ টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূইয়া (অব.) ও নৌকার প্রার্থী মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন নিজ কেন্দ্র জুরানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান করেন। নিজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জেনারেল সুবিদ আলী ভূইয়া (অব. (এমপি) গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন আমরা সব সময় সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে বিশ্বাসি তাই কোথায় কোন প্রকার অনিয়ম হলে আপনারা সাথে সাথে পুলিশ প্রশাসনকে জানাবেন তারা ব্যবস্থা নিবে ।

সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ভোট হবে জনগণ যাকে পছন্দ করেন তাকেই ভোট দিবেন । জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস তারা যাকে মনোনীত করবেন আমারা তাকেই মেনে নিব । ভোটারদের উপস্থিতি প্রমাণ করে পোষ্টারবিহীন নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য। দাউদকান্দিতে উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকল গণমাধ্যমকর্মী ও উপস্থিত ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। এ সময় নৌকার প্রার্থী মেজর সুমন সাংবাদিকদের বলেন, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে পোষ্টারবিহীন নির্বাচন , আমি দাউদকান্দি উপজেলা যে উন্নয়ন করেছি আমাকে ও আমার প্রতীককে সবাই চিনে ও জানে তাই আমার পোষ্টার বিহীন নির্বাচনেও আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব ইনশাল্লাহ ,তিনি আরো বলেন আজ আপনারা নিজেরাই দাউদকান্দিকতে ভোটারদের উপস্থিতি তা প্রমান করে ।

মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনে নৌকা জয়ী হবে এবং ধানের শীষের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তিনি কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল ইসলাম খান বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, সমগ্র দাউদকান্দিতে কোন প্রকার কোন প্রকার অপৃতিকর ঘটনা ছাড়াই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আশরাফুন নাহার জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গ্রহনে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল তাই আমরা সফল হয়েছি। উল্লেখ্য, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১০২ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্েয ২ টি কেন্দ্র বালিত হয়। এতে ভোটার ছিল ২৭৩৫০১ জন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ই/এম