সারা দেশের ন্যায় বন্দরনগরী আশুগঞ্জে নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি পুলিশি নির্যাতন বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌধর্মঘট চলছে। ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান বন্দরগুলো।
কেন্দ্রীয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে শ্রমিকরা গত ১৯ অক্টোবর থেকে এ ধর্মঘট শুরু করেন। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গত তিন দিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আটকা পড়েছে শতাধিক সার, সিমেন্ট, ধান, গম, তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন আশুগঞ্জ বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার নৌযান শ্রমিক অলস সময় পার করছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে ধর্মঘটের কারণে কাজে যোগ দেননি নৌশ্রমিকরা। ফলে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসও সম্ভব হচ্ছে না। তবে যাত্রীবাহী যান চলাচল ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আশুগঞ্জ নৌবন্দর সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, পুলিশি নির্যাতন, শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা বন্ধ, বকেয়াসহ খাদ্যভাতা প্রদান, নৌপরিবহন অধিদফতরের অব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন, মৃত্যুকালীন ভাতা ১০ লাখ টাকা নির্ধারণসহ মোট ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌযান ধর্মঘট শুরু হয়।
কেন্দ্রীয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে শ্রমিকরা এ ধর্মঘট শুরু করেন। এতে মঙ্গলবার সকাল থেকে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আটকা পড়ে আছে বেশ কয়েকটি সার, সিমেন্ট, গম, জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেয়ার কারণে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ লাইটারেজ জাহাজ নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের আশুগঞ্জ উপজেলার সভাপতি মো. রুমেল মুন্সি জানান, ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ১১ দফা দাবিতে আমরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করেছি। কালক্ষেপণ করলেও নৌযান মালিকরা আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো এখনও মেনে নেননি। যার কারণে আবারও আমরা ধর্মঘট পালন করছি।
তবে সাধারণ মানুষের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যাত্রীবাহী যান চলাচল ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
এদিকে তিন দিন ধরে আশুগঞ্জ বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ থাকায় বন্দরের ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিদিন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ই/এম























