০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

কবুতর ভাগ্য বদলে দিয়েছে শাফিউলের

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সখের বসে কবুতর পালন শুরু করে সাবলম্বী হয়েছেন শাফিউল ইসলাম খন্দকার নামের এক যুবক। প্রতি মাসে তিনি আয় করছেন ৫০ হাজার টাকা। সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। তার সফলতায় এখন অনেকেই কবুতর পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি উপজেলার দলারদরগা গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে শাফিউল খন্দকার। তিনি জানান- ছাত্র জীবনে ১৯৯৯ সালে নানার বাড়ীতে গিয়ে কবুতর পালন দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সখের বসে নানা বাড়ী থেকে ৯ জোড়া দেশি গিরিবাজ লোটন জাতের কবুতর নিয়ে আসেন তার বাড়ীতে। সেই থেকে তার কবুতর পালনের যাত্রা শুরু হয়। ছাত্রজীবন শেষে তিনি কবুতর পালনের পাশপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য মনোহারী মালামালের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কবুতর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রপে তিনি যোগ দিয়ে বিভিন্ন জাতের কবুতর সংগ্রহ করতে থাকেন এবং তার নিজের খামারের প্রজননকৃত কবুতর অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। এতে লাভবান হওয়ায় তিনি মনোহারী ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে বানিজ্যিক ভাবে কবুতর পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ২শ জোড়ার অধিক কবুতর রয়েছে। যার মুল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তার কবুতরে খামারে কিং, মডেনা, মারটেজ, জ্যাকোবিন, বোখারা, স্ট্রেচার, লাহরী, মুন্ডিয়ান, বোম্বাই, লংফেস, বিউটিহোমা, ওরিয়েন্টাল, করমনা, বাগদাদী ও হোমা সহ ৩২ জাতের কবুতর রয়েছে। তার খামারে ৭শ টাকা জোড়া থেকে ৮০ হাজার টাকা জোড়া মূল্যের কবুতর রয়েছে। তার খামারের কবুতর বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে তিনি এখন প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। এখন তার খামার দেখতে ও কবুতর কিনতে প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে আসেন অনেকেই। বেশির ভাগ কবুতর তিনি অনলাইনে বিক্রি করে থাকেন। তার কবুতর পালনে সফলতা এখন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেকার যুবকেরা অনেকেই কবতুর পালনে আগ্রহী উঠছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নাসিরুল ইসলাম জানান- কবুতর পালনে বিনোয়গ কম লাগে, সংক্ষিপ্ত প্রজনন কাল ও সোভা বর্ধনকারী। সব দিক বিবেচনা করে কবুতর পালন লাভজনক। প্রাণি সম্পাদ বিভাগ থেকে কবুতর পালনকারীদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

কবুতর খামার গড়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে বলে মনে করছেন খামারী ও সচেতন মহলের।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

কবুতর ভাগ্য বদলে দিয়েছে শাফিউলের

প্রকাশিত : ০১:২৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সখের বসে কবুতর পালন শুরু করে সাবলম্বী হয়েছেন শাফিউল ইসলাম খন্দকার নামের এক যুবক। প্রতি মাসে তিনি আয় করছেন ৫০ হাজার টাকা। সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। তার সফলতায় এখন অনেকেই কবুতর পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি উপজেলার দলারদরগা গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে শাফিউল খন্দকার। তিনি জানান- ছাত্র জীবনে ১৯৯৯ সালে নানার বাড়ীতে গিয়ে কবুতর পালন দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সখের বসে নানা বাড়ী থেকে ৯ জোড়া দেশি গিরিবাজ লোটন জাতের কবুতর নিয়ে আসেন তার বাড়ীতে। সেই থেকে তার কবুতর পালনের যাত্রা শুরু হয়। ছাত্রজীবন শেষে তিনি কবুতর পালনের পাশপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য মনোহারী মালামালের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কবুতর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রপে তিনি যোগ দিয়ে বিভিন্ন জাতের কবুতর সংগ্রহ করতে থাকেন এবং তার নিজের খামারের প্রজননকৃত কবুতর অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। এতে লাভবান হওয়ায় তিনি মনোহারী ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে বানিজ্যিক ভাবে কবুতর পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ২শ জোড়ার অধিক কবুতর রয়েছে। যার মুল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তার কবুতরে খামারে কিং, মডেনা, মারটেজ, জ্যাকোবিন, বোখারা, স্ট্রেচার, লাহরী, মুন্ডিয়ান, বোম্বাই, লংফেস, বিউটিহোমা, ওরিয়েন্টাল, করমনা, বাগদাদী ও হোমা সহ ৩২ জাতের কবুতর রয়েছে। তার খামারে ৭শ টাকা জোড়া থেকে ৮০ হাজার টাকা জোড়া মূল্যের কবুতর রয়েছে। তার খামারের কবুতর বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে তিনি এখন প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। এখন তার খামার দেখতে ও কবুতর কিনতে প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে আসেন অনেকেই। বেশির ভাগ কবুতর তিনি অনলাইনে বিক্রি করে থাকেন। তার কবুতর পালনে সফলতা এখন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেকার যুবকেরা অনেকেই কবতুর পালনে আগ্রহী উঠছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নাসিরুল ইসলাম জানান- কবুতর পালনে বিনোয়গ কম লাগে, সংক্ষিপ্ত প্রজনন কাল ও সোভা বর্ধনকারী। সব দিক বিবেচনা করে কবুতর পালন লাভজনক। প্রাণি সম্পাদ বিভাগ থেকে কবুতর পালনকারীদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

কবুতর খামার গড়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে বলে মনে করছেন খামারী ও সচেতন মহলের।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর